🕓 সংবাদ শিরোনাম

বুয়েটের ছাত্র আবরার হত্যা মামলার রায় রোববারইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলেন একই পরিবারের ৫ জনটাঙ্গাইলের নাগরপুরে ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গুলিবর্ষণ: নিহত ১, আহত ২সোনারগাঁয়ে নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থীদের বিজয়ী করতে দিনরাত গণসংযোগআকাশে উড়ন্ত চাকি কি ভিনগ্রহীদের ? নাকি শত্রু যান তদন্তে পেন্টাগনকদবেল খাওয়ার প্রলােভন দেখিয়ে বাথরুমে নিয়ে শিশু ধর্ষণ, ধর্ষক গ্রেপ্তারআত্মস্বীকৃত ইয়াবা সম্রাট এনামের কোটি টাকার চালান যায় নরসিংদীতেস্কাউটের সর্ব্বেচ্চ পদক শাপলা কাব অ্যাওয়ার্ড পেলেন মির্জাপুরের ১৬ শিক্ষার্থীমতলবের নির্বাচনে অতিরিক্ত ১০ প্লাটুন র‍্যাব ও বিজিবি, থাকবে কোস্টগার্ডওকক্সবাজারে কিশোর গ্যাং লিডার তারেকসহ ৮ সদস্য আটক

  • আজ শনিবার, ১২ অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ ৷ ২৭ নভেম্বর, ২০২১ ৷

দুই শিশুকে হত্যার পর মায়ের রহস্যজনক আত্মহত্যা


❏ রবিবার, আগস্ট ১৪, ২০১৬ দেশের খবর, বরিশাল

এস.এম. আকাশ, মঠবাড়িয়া: পিরেজপুরের মঠবাড়িয়ায় অবুঝ দুই মেয়ে শিশু সন্তানকে হত্যার পর হত্যাকারী মা বিষপানে আত্মহত্যা করেছে। উপজেলার দাউদখালী ইউনিয়নের হারজী নলবুনীয়া গ্রামে আজ রবিবার বিকালে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। পুলিশ সন্ধ্যায় ঘটনাস্থল হতে মা নাজমুন্নাহার লাইজু(২৮) ও দুই শিশু কন্যা দুই বছর বয়সি মাইশা আক্তার কনা (২) ও মাহিয়া আক্তার বেবি’র (৮মাস) লাশ উদ্ধার করেছে। কি কারনে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে তার সঠিক কারন পুলিশ উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ।g2c5mylf_6205

দাম্পত্য কলহের জের ধরে মা ও তার দুই সন্তানকে বিষ খাইয়ে হত্যার পর নিজে বিষ পানে আত্মহত্যা করেছে বলে প্রাথমিক ভাবে ধারনা করা হচ্ছে। এদিকে এ ঘটনার পর গৃহবধূর স্বামী স্কুল শিক্ষক মনিরুজ্জামান ফরিদ খান পলাতক রয়েছেন। শিক্ষক মনিরুজ্জামান হারজী নলবুনীয় গ্রামের বাহার আলী খানের ছেলে। সে উপজেলার গুদিঘাটা সরোজিনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী ধর্মীয় শিক্ষক পদে কর্মরত।

থানা ও স্থানীয়দের সূত্রে জানাগেছে, মঠবাড়িয়া উপজেলার দাউদখালী ইউনিয়নের হারজী নলবুনিয়া গ্রামের স্কুল শিক্ষক মনিরুজ্জামান ফরিদ খানের সাথে উপজেলার ধাণীসাফা গ্রামের আব্দুর রব তালুকদারের মেয়ে নাজমুন্নাহার লাইজুর পারিবারিক সম্মতিতে তিন বছর আগে বিয়ে হয়। এ দম্পতির সংসারে দুই শিশু কন্যা মাইশা(২) ও মাহিয়া(৮ মাস) রয়েছে। বিয়ের পর দুটি কন্যা সন্তান জন্ম নেওয়ার স্বামী স্ত্রীর মধ্যে দাম্পত্য কলহ চলে আসছিল। সম্প্রতি ফরিদ ও লাইজুর মধ্যে বিবাদ হলে ফরিদের শ্বশুর আব্দুর রব বাড়িতে এসে মিমাংশা করে দেন। আজ রোববার ফরিদ নিজের কর্মস্থল স্কুলে চলে যান। ঘরে তখন স্ত্রী লাইজু ও তার দুই শিশু কন্যা মাইশা ও মাহিয়া ছিল। দুপুরের পর লাইজু পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথমে দুই শিশুকে বিষপান করিয়ে হত্যা করে। পরে সে নিজে বিষপান করে। এসময় ঘরের দরোজা বন্ধ ছিল। বিকেলে ফরিদ স্কুল থেকে বাড়ি ফিরে ঘরের দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে মেঝেতে মা ও দুই শিশু সন্তানকে পড়ে থাকতে দেখেন। তার ডাক চিৎকারে প্রতিবেশী ছুটে আসে। পরে স্থানীয় এক গ্রাম্য এক চিকিৎসক রিয়াজকে খবর দিলে তিনি এসে তিনজনকে মৃত বলে জানান। এরপর নিহত লাইজুর স্বামী ফরিদ পালিয়ে যায়। পরে প্রতিবেশেীরা থানায় খবর দিলে পুলিশ সন্ধ্যায় ঘটনাস্থলে এসে তিনজনের লাশ উদ্ধার করে।
এই মর্মান্তিক ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে শত শত গ্রামবাসি ওই বাড়িতে ভীড় করেন। তবে কি কারনে এ ঘটনা ঘটেছে তা কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারছেনা।

এ বিষয়ে নিহত গৃহবধূ লাইজুর শোকার্ত বাবা আব্দুর রব তালুকদার জানান, তার মেয়ে জামাইয়ের মধ্যে দাম্পত্য বিরোধ চলছিল। সম্প্রতি তিনি এসে উভয়ের মধ্যে সমঝোতা করে মিমাংশা করে দিয়ে যান। এসময় তার মেয়ে তার দুই শিশু সন্তানকে লালন পালনে নানা সমস্যা হচ্ছে বলে তাকে জানিয়ে ছিল।

এ ব্যাপারে মঠবাড়িয়া থানার অফিসার ইনচার্জ খন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, কি কারনে এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে তার সঠিক কারন এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। মা ও দুই শিশুর লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য পাঠানো হচ্ছে। এ ঘটনায় মঠবাড়িয়া থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে ।