🕓 সংবাদ শিরোনাম

মদিনায় বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত ৪, আহত ৪৮ জননিজেকে বিয়ে করা সেই মডেল এখন নিজেকে ডিভোর্স দিচ্ছেন!কুড়িগ্রামের সেই ডিসির ‘লঘুদণ্ড’ মওকুফবুয়েটের ছাত্র আবরার হত্যা মামলার রায় রোববারইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলেন একই পরিবারের ৫ জনটাঙ্গাইলের নাগরপুরে ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গুলিবর্ষণ: নিহত ১, আহত ২সোনারগাঁয়ে নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থীদের বিজয়ী করতে দিনরাত গণসংযোগআকাশে উড়ন্ত চাকি কি ভিনগ্রহীদের ? নাকি শত্রু যান তদন্তে পেন্টাগনকদবেল খাওয়ার প্রলােভন দেখিয়ে বাথরুমে নিয়ে শিশু ধর্ষণ, ধর্ষক গ্রেপ্তারআত্মস্বীকৃত ইয়াবা সম্রাট এনামের কোটি টাকার চালান যায় নরসিংদীতে

  • আজ শনিবার, ১২ অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ ৷ ২৭ নভেম্বর, ২০২১ ৷

ফারুক হত্যা: মামলা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠাতে চিঠি


❏ রবিবার, আগস্ট ১৪, ২০১৬ আলোচিত বাংলাদেশ

অন্তু দাস হৃদয়, টাঙ্গাইল প্রতিনিধি: বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদকারী, টাঙ্গাইল আওয়ামী লীগ নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসককে চিঠি দিয়েছেন টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ সুপার।indexচিঠি পাওয়ার পর জেলা প্রশাসন মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাাব পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে। সংসদ পলাতক দেখিয়েই বিচার শুরু হচ্ছে বলে টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ সুত্রে জানা গিয়েছে।

ফারুক হত্যা মামলার প্রধান আসামি সরকার দলীয় টাঙ্গাইলের ঘাটাইল-৩ আসনের সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান (রানা)। এই মামলায় তার অপর তিন ভাই টাঙ্গাইল পৌরসভার তৎকালীন মেয়র সহিদুর রহমান খান (মুক্তি), কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি সানিয়াত খান (বাপ্পা) ও ব্যবসায়ী নেতা জাহিদুর রহমান খান কাকনসহ ১৪ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়া হয়েছে।

টাঙ্গাইল পুলিশ সুপার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জেলার সবচেয়ে আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর এই মামলার আসামিদের বিচার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর ব্যবস্থা নিতে গত সোমবার পুলিশ সুপার একটি চিঠি টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠিয়েছেন।

চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘ফারুক আহমেদ নিহত হওয়ার পর জাতীয় সংসদে শোক প্রস্তাব গৃহীত হয়। পরবর্তী সময়ে প্রধানমন্ত্রী শোকসন্তপ্ত পরিবারকে তার কার্যালয়ে ডেকে সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।

আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনমনে সুশাসনের প্রতি আস্থা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মামলাটি দ্রুততম সময়ে বিচার সমাপ্ত করার জন্য দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর প্রয়োজন বলে দাবি পুলিশ বিভাগের।

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মো. মাহবুব হোসেন কাছে জানতে চাইলে তিনি শনিবার বিকেলে সময়ের কন্ঠস্বর’কে জানান, টাঙ্গাইলের আওয়ামী লীগ নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর ব্যবস্থা নেয়ার পুলিশ সুপারের পাঠানো চিঠিটি তিনি পেয়েছেন। এই মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানোর বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

টাঙ্গাইল ঘাটাইল-৩ আসনের সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানা ও তার তিন ভাইসহ অপর ছয় আসামিকে পলাতক দেখিয়ে ফারুক হত্যা মামলার বিচার কাজ শুরু হচ্ছে। মামলাটি বিচারিক হাকিম আদালত থেকে বিচারকাজ নিষ্পত্তির জন্য গত সোমবার জেলা ও দায়রা জজ আদালতে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে টাঙ্গাইল আদালত পরিদর্শক আনোয়ারুল ইসলাম সময়ের কন্ঠস্বর’কে বলেন, নিহত ফারুক আহমেদ হত্যা মামলার পলাতক আসামিদের ৩০ দিনের মধ্যে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য দুইটি দৈনিক পত্রিকায় গত ৩০ জুন বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়।

হাজির না হলে তাদের অনুপস্থিতিতে বিচার কাজ সম্পন্ন করা হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। ৩০ দিনের মধ্যে সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানাসহ পলাতক ১০ আসামির কেউ আদালতে হাজির হননি।

গত সোমবার (৮ আগষ্ট) মামলার ধার্য তারিখে টাঙ্গাইল সদর আমলি আদালতের বিচারক হাকিম আবদুল্লাহ আল মাসুম মামলাটির পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণের জন্য মুখ্য বিচারিক হাকিমের কাছে পাঠিয়ে দেন। মুখ্য বিচারিক হাকিম ওই দিনই মামলাটির বিচার ও নিষ্পত্তির জন্য জেলা ও দায়রা জজ আদালতে পাঠান।

টাঙ্গাইল জেলা ও দায়রা জজ বিচারের জন্য অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতে মামলাটি পাঠিয়েছেন। ২৪ আগস্ট মামলার পরবর্তী তারিখ ধার্য করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদের গুলিবিদ্ধ মরদেহ তার কলেজপাড়া এলাকার বাসার সামনে থেকে উদ্ধার করা হয়। ঘটনার তিন দিন পর নিহত ফারুক আহমেদের স্ত্রী নাহার আহমেদ বাদী হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে টাঙ্গাইল সদর থানায় একটি মামলা করেন।

মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় টাঙ্গাইল জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশকে। ২০১৪ সালের আগস্টে এই মামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ আনিসুল ইসলাম রাজা ও মোহাম্মদ আলী নামের দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে। পরে তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জড়িত ব্যক্তিদের ব্যাপারে তথ্য দেন।

এরপর থেকে সাংসদ আমানুর রহমান খান রানা ও তার ভাইয়েরা আত্মগোপনে চলে যান। এ বছর ৩ ফেব্রুয়ারি আমানুর চার ভাইসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় গোয়েন্দা পুলিশ। গত ২০ মে সাংসদ ও তার ভাইদের অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক করা হয়।