🕓 সংবাদ শিরোনাম

শিশুকে ডায়াবিটিস থেকে দূরে রাখতে কী কী সতর্কতা অবলম্বন করবেনদক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াকে তৈরি থাকার বার্তা দিল ”হু”বুড়িগঙ্গায় ’সাকার ফিশ’র দখলে, হুমকিতে দেশীয় মাছরোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির থেকে ধারালো অস্ত্রসহ আটক-৫করতোয়ার তীরে নিথর পড়ে ছিলো মস্তকহীন নবজাতক!গাজীপুরে দুই শিশুকে ‘হত্যার’ পর ফ্যানে ঝুলে আত্মহত্যার চেষ্টা মা’য়ের!ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদ: জাহাজ চলাচল বন্ধ; সহস্রাধিক পর্যটক আটকা সেন্টমার্টিনেআখেরী মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হলো নীলফামারীর তিনদিন ব্যাপী ইজতেমাবঙ্গবন্ধুর শাসনব্যবস্থা নিয়ে গবেষণা করতে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রীর আহ্বানভোটে হেরে ক্ষোভ মেটাতে রাস্তায় বেড়া দিলেন প্রার্থী, ভোগান্তিতে পুরো গ্রাম!

  • আজ রবিবার, ২০ অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ ৷ ৫ ডিসেম্বর, ২০২১ ৷

মুজিব শুধু একটি নাম নয়, শুধু একজন মানুষ নয়, শেখ মুজিব একটি স্বপ্ন, একটি সংগ্রাম, একটি ইতিহাস


❏ সোমবার, আগস্ট ১৫, ২০১৬ প্রজন্মের ভাবনা, স্পট লাইট

13988715_1096757873750835_415055711_n


সম্পাদনা, নাসরিন হকঃ

সর্ব কালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে সিংহ হৃদয়ের মানুষ ছিলেন তা আমরা প্রতিটি বাঙ্গালী অনুভব করি। তাঁর রাজনৈতিক নেতৃত্ব দেয়ার ক্ষমতা ছিল অসাধারণ। সে কারনেই সাড়ে সাত কোটি বাঙ্গালী তাঁর ডাকে জীবন বাজি রেখে মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল দ্বিধাহীনভাবে। আমাদের ৩০ লক্ষ শহীদ মা ভাইয়েরা নিশ্চিত মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়ে বঙ্গবন্ধুর আহবানকে জীবনের একমাত্র মূলমন্ত্র জেনে অকাতরে নিজের প্রাণ উৎসর্গ করে গেছেন।

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের মুক্তি সংগ্রামের ইতিহাস থেকে জানা যায়, প্রায় প্রতিটি দেশেই কেউ একজন তাদের মুক্তির স্বপ্ন দেখিয়েছেন, আর একজন এসে সেই স্বপ্ন দেখা জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছেন, আবার আরেকজন এসে মুক্তি সংগ্রামের নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং সবশেষে হয়তো অন্য আরেকজন এসে স্বাধীনতার চুড়ান্ত বিজয় নিশ্চিত করেছেন। অর্থাৎ কোন নেতাই তার জীবদ্দশায় নিজ জাতির মুক্তি সংগ্রামের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একক ভাবে নেতৃত্ব দিয়ে চুড়ান্ত বিজয় দেখে যেতে পারেন নি।

কিন্তু বঙ্গবন্ধুই একমাত্র নেতা যিনি একটি শোষিত, নিপীড়িত জাতিকে মুক্তির স্বপ্ন দেখিয়ে, ঐক্যবদ্ধ করে মুক্তি সংগ্রামের নেতৃত্ব দিয়ে চুড়ান্ত বিজয়ের মাধ্যমে পুরো বাঙালী জাতিকে শোষনের শৃংখল থেকে মুক্ত করে স্বাধীনতার স্বপ্নকে সত্যিতে বাস্তবায়ন করেছেন, যা পৃথিবীর ইতিহাসে সত্যিই বিরল এক দৃষ্টান্ত। যিনি আমাদেরকে মুক্তির স্বাদ দিলেন, যে মানুষটি তার বিশাল হৃদয় দিয়ে বাংলার দূঃখী মানুষকে ভালবেসে ছিলেন, যে হৃদয়ে তিনি ধারন করেছিলেন স্বাধীন বাংলার মানচিত্র, যে হৃদয়ে তিনি লালন করেছিলেন শোষনমুক্ত সমাজ ব্যবস্থা, তার প্রতিদানে দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্রে ৭৫’এর ১৫ই আগস্ট কালোরাত্রিতে স্বপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় সেই বিশাল সিংহ হৃদয়ের পরিবারটিকে। রেহাই পায় নি ছোট্র শিশু রাসেল পর্যন্ত। সেই থেকে আমাদের শুরু হলো উল্টো পথের যাত্রা।

তারপরের ইতিহাস আমাদের সবার জানা, কিভাবে একটি স্বাধীন জাতির মূল জাতিস্বত্তাকে ধ্বংস করার অপচেষ্টা করা হয়েছে, কিভাবে ইতিহাস বিকৃতির মাধ্যমে পুরো একটি প্রজন্মকে বছরের পর বছর ধরে মিথ্যা ইতিহাস শিক্ষা দেওয়া হয়েছে, কিভাবে সদ্য স্বাধীন অসাম্প্রদায়িকতার চেতনার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত এই দেশে বারবার সাম্প্রদায়িকতাকে উস্কে দিয়ে ধর্মকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পরবর্তীতে, নিষিদ্ধ ঘোষিত মুসলীম লীগ ও জামায়তে ইসলামের হায়েনারা নতুন ভাবে আত্মপ্রকাশ করলো জাগদল ও পরবর্তীতে জাতীয়তাবাদী দল হিসাবে। স্বাধীনতার মাত্র কয়েক বছর পরেই স্বাধীনতা বিরোধীরা এ দেশকে কলংকিত করে ক্ষমতা দখল করে নেয়।

একটি অসাম্প্রদায়িক চেতনায় প্রতিষ্ঠিত দেশকে মৌলবাদী দেশে প্রতিষ্ঠিত করার বীজ তারা বপন করে দেয়। তারা বঙ্গবন্ধুর নাম মুছে দেওয়ার এমন কোন হীন পন্থা নেই যা তারা অবলম্বন করে নি। প্রতিটি ক্ষেত্রে তারা বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারকে হেয় প্রতিপন্ন করার হীন অপচেষ্টা করে যায়। কিন্তু তারা ভূলে গেছে ইতিহাস তার আপন গতিতে চলে। কারুরই বাধা সে মানে নি, মানবে না। এটাই চিরন্তন সত্য। বঙ্গবন্ধুর পরিবারকে নিশ্চিহ্ন করে দিয়ে তারা ভেবেছিল এই বাংলাদেশ থেকে মুছে দিবে তাঁর নাম। কিন্তু বাস্তবতা হলো শুধু বাংলাদেশ নয় সারা বিশ্ব বাংলাদেশকে জানে বঙ্গবন্ধুর নামে। তাই তো কবি অন্নদাশংকর রায় লিখেছেন —-

“যত দিন রবে পদ্মা মেঘনা যমুনা গৌরি বহমান তত দিন রবে কীর্তি তোমার শেখ মুজিবুর রহমান। দিকে দিকে আজ অশ্রু গঙ্গা রক্ত গঙ্গা বহমান তবু নাই ভয় হবে হবে জয় মুজিবুর রহমান।”