🕓 সংবাদ শিরোনাম

শিশুকে ডায়াবিটিস থেকে দূরে রাখতে কী কী সতর্কতা অবলম্বন করবেনদক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াকে তৈরি থাকার বার্তা দিল ”হু”বুড়িগঙ্গায় ’সাকার ফিশ’র দখলে, হুমকিতে দেশীয় মাছরোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির থেকে ধারালো অস্ত্রসহ আটক-৫করতোয়ার তীরে নিথর পড়ে ছিলো মস্তকহীন নবজাতক!গাজীপুরে দুই শিশুকে ‘হত্যার’ পর ফ্যানে ঝুলে আত্মহত্যার চেষ্টা মা’য়ের!ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদ: জাহাজ চলাচল বন্ধ; সহস্রাধিক পর্যটক আটকা সেন্টমার্টিনেআখেরী মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হলো নীলফামারীর তিনদিন ব্যাপী ইজতেমাবঙ্গবন্ধুর শাসনব্যবস্থা নিয়ে গবেষণা করতে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রীর আহ্বানভোটে হেরে ক্ষোভ মেটাতে রাস্তায় বেড়া দিলেন প্রার্থী, ভোগান্তিতে পুরো গ্রাম!

  • আজ রবিবার, ২০ অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ ৷ ৫ ডিসেম্বর, ২০২১ ৷

এই দিনে যে নৃশংসতার শিকার হয়েছিল ‘বঙ্গবন্ধু পরিবার’


❏ সোমবার, আগস্ট ১৫, ২০১৬ জাতীয়

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্কঃ সাল ১৯৭৫, দিন ১৫ আগস্ট। বাংলার আকাশ-বাতাস অশ্রুসিক্ত হওয়ার দিন। কেননা পঁচাত্তরের এই দিনে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের নায়ক ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করা হয়। এখানেই শেষ নয়, নির্মমভাবে আরো হত্যা করা হয়েছে বঙ্গবন্ধুর স্ত্রী-সন্তানসহ মোট ২৬ জনকে। দেশের নির্বাচিত রাষ্ট্রপ্রধানকে পরিবারের সদস্যসহ এরূপ ভয়াবহভাবে হত্যার ঘটনা দুনিয়ার ইতিহাসে বিরল।

এ দিনে চলে গিয়েছিলেন যারা:

শেখ কামাল: তিনি ছিলেন বঙ্গবন্ধুর বড় ছেলে। শেখ কামাল ঢাকার শাহীন স্কুল থেকে ম্যাট্রিক ও ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগ থেকে বি. এ. (অনার্স) পাস করেন। ছায়ানটে সেতার বাদন বিভাগের ছাত্র ছিলেন তিনি। নাটক, মঞ্চ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের একনিষ্ঠ সংগঠক ছিলেন। ঢাকা থিয়েটারের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। শৈশব থেকে খেলাধুলায় প্রতি আগ্রহ ছিলো তার। তিনিই হচ্ছেন আবাহনী ক্রীড়াচক্রের প্রতিষ্ঠাতা। ১৯৭৫ সালের ১৮ জুলাই সুলতানা খুকুর সঙ্গে বিয়ে হয় তার। ছাত্রলীগের একজন সংগঠক হিসেবে ‘৬৬-এর স্বাধিকার আন্দোলন, ‘৬৯-এর গণআন্দোলন ও ‘৭১- এর অসহযোগ আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। ১৯৭১ এর ২৫ মার্চ রাতেই বাড়ি থেকে চলে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। লেফটেন্যান্ট হিসেবে কর্নেল ওসমানীর এডিসি ছিলেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট নিহত হওয়ার সময় তিনি সমাজবিজ্ঞান বিভাগের এম.এ. শেষ পর্বের পরীক্ষা দিয়েছিলেন।

শেখ জামাল: বঙ্গবন্ধুর মেজো ছেলে, জন্ম ১৯৫৪ সালের ২৮ এপ্রিল। বঙ্গবন্ধুর মেজো ছেলে শেখ জামাল শৈশবে শাহীন স্কুল ও পরে রেসিডেনসিয়াল মডেল স্কুল থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষা পাস করেন। একটি সঙ্গীত শিক্ষাকেন্দ্রে গিটার বাজানো শিখতেন। ক্রিকেট খেলতেন আবাহনী মাঠে। ১৯৭১ সালের জুলাই মাসে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হাতে ধানমণ্ডি ১৮ নং রোডের বাড়িতে মায়ের সঙ্গে বন্দি অবস্থায় থাকাকালে একদিন গোপনে বের হয়ে কালীগঞ্জ হয়ে মুক্তাঞ্চলে চলে যান এবং মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন।

ঢাকা কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণীতে থাকাকালে যুগোশ্লভিয়ার প্রেসিডেন্ট মার্শাল জোসেফ টিটোর আমন্ত্রণে সেদেশে সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ নিতে যান তিনি। তার পর লন্ডনের স্যান্ডহার্স্ট আর্মি একাডেমি থেকে সেনা প্রশিক্ষণ নেন। দেশে ফিরে তিনি দ্বিতীয় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট র‌্যাংকে যোগ দেন। ১৯৭৫ সালের রোজীর সঙ্গে তার বিয়ে হয়। ১৫ আগস্ট এই দম্পতিকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

শেখ রাসেল: বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ পুত্র। জন্ম ১৯৬৪ সালের ১৮ অক্টোবর। শেখ রাসেল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবরেটরি হাইস্কুলের চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্র ছিলেন।১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধকালীন দীর্ঘ নয়মাস পিতার অদর্শন তাকে এমনই ভাবপ্রবণ করে রাখে যে, পরে সব সময় পিতার কাছাকাছি থাকতে জেদ করতো। ১৫ আগস্ট ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু পরিবারের সবাইকে হত্যা করে তাদের লাশ দেখিয়ে রাসেলকে হত্যা করা হয়। তাকে কাজের লোকজন পেছনের সিঁড়ি দিয়ে নিচে নিয়ে যায়। কিন্তু ঘাতকরা দেখে ফেলে।

শেখ আবু নাসের: বঙ্গবন্ধুর ছোট ভাই। নাসের টুঙ্গিপাড়া ও গোপালগঞ্জে লেখাপড়া করেন। শারীরিক অসুস্থতার কারণে এবং বড়ভাই রাজনীতি নিয়ে ব্যস্ত থাকায় অল্প বয়সেই তাকে পিতার সঙ্গে পারিবারিক কাজকর্ম ও ব্যবসায় জড়িয়ে পড়তে হয়। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেন। ১৯৭৫-এ নিহত হওয়ার সময় বড় ভাইয়ের বাড়িতেই ছিলেন।

bongoসুলতানা কামাল খুকু: শেখ কামালের স্ত্রী। খুকু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী দবির উদ্দিন আহমেদের ছোট মেয়ে। মুসলিম গার্লস স্কুল থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষা পাস করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগ থেকে অনার্স পাস করেন। ১৯৭৫ সালে এম. এ পরীক্ষা দেন।

পারভীন জামাল রোজী: শেখ জামালের স্ত্রীবঙ্গবন্ধুর ছোট্ট বোন খাদেজা হোসেনের মেয়ে। পিতা সৈয়দ হোসেন বঙ্গবন্ধু সরকারের সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের সচিব ছিলেন। ধানমণ্ডি গার্লস স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করে বদরুন্নেসা আহমেদ কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী ছিলেন। মাত্র ৩০ দিনের বিবাহিত জীবন ছিল তার। ওই দিন রোজী ও সুলতানাকে এক সঙ্গে গুলি ছুঁড়ে হত্যা করে।

আবদুর রব সেরনিয়াবাত: বঙ্গবন্ধুর সেজ বোনের স্বামী। বরিশাল থেকে ম্যাট্রিক পাস করেছিলেন। কলকাতায় ইসলামিয়া কলেজে বঙ্গবন্ধুর সহপাঠী ছিলেন। বেকার হোস্টেলেও এক সঙ্গে থাকতেন। বঙ্গবন্ধুর সেজ বোন আমেনা বেগমের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। কলকাতায় আই. এ. ও বি. এ পাস করার পরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি পাস করে বরিশালে আইনজীবী ও রাজনৈতিক নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন।

শেখ ফজলুল হক মনি: বঙ্গবন্ধুর মেজো বোনের বড় ছেলে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একনিষ্ঠ অনুসারী, স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, আওয়ামী যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, সাংবাদিক, দৈনিক বাংলার বাণী ও বাংলাদেশ টাইমস-এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক, সাপ্তাহিক ‘সিনেমা’ ও মধুমতি মুদ্রণালয়ের প্রতিষ্ঠাতা শেখ ফজলুল হক মণি ১৯৫৬ সালে ঢাকা নবকুমার স্কুল থেকে ম্যাট্রিক, ১৯৫৮ সালে ঢাকা জগন্নাথ কলেজ থেকে আই.এ. ১৯৬০ সালে বরিশাল বি. এম. কলেজ থেকে বি. এ. এবং ১৯৬২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে এম. এ. বং পরবর্তী সময়ে এলএলবি পাস করেন। ১৯৬০ সালে তিনি ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৬২ সালে কুখ্যাত হামদুর রহমান শিক্ষা কমিশনের বিরুদ্ধে ছাত্র আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার কারণে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ছয় মাস বিনা বিচারে আটক থাকার পর তিনি মুক্তি পান। তিনি ছিলেন সফল সংগঠক, সুবক্তা ও সুলেখক। সম্পাদকীয় ছাড়াও তিনি স্বনামে ও ছদ্মনামে বহু প্রবন্ধ-নিবন্ধ লিখেছেন। ছয় দফার ওপর ও তার লেখা ছোটগল্পের সংকলন ‘বৃত্ত’ প্রকাশিত হয় ১৯৬৯ সালে। ১৯৭৪ সালে শেখ মনির দ্বিতীয় গল্প সংকলন ‘গীতা রায়’ প্রকাশিত হয়।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের কালো রাতে শেখ ফজলুল হক মনি ও তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী বেগম আরজু মনি ঘাতকের হাতে নিহত হন। তবে রক্ষা পান শেখ মনির জ্যেষ্ঠপুত্র শেখ ফজলে শামস পরশ ও কনিষ্ঠপুত্র শেখ ফজলে নূর তাপস।

বেগম আরজু মনি: শেখ ফজলুল হক মনির স্ত্রী। বরিশাল সরকারী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং বিএম কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক ও বি. এ. পাস করেন। আবদুর রব সেরনিয়াবাতের জ্যেষ্ঠ কন্যা ছিলেন। ১৯৭০ সালে খালাত ভাই শেখ ফজলুল হক মনির সঙ্গে বিয়ে হয়। দু’সন্তানের মা আরজুকে অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় স্বামীর সঙ্গে গুলি করে হত্যা করে ঘাতকরা। ১৯৭৫ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে এম.এ পরীক্ষা দিয়েছিলেন তিনি।

কর্ণেল জামিল উদ্দিন আহমেদ: বঙ্গবন্ধুর প্রধান নিরাপত্তা অফিসার। ১৯৫২ সালে ক্যাডেট হিসেবে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন এবং ১৯৫৫ সালে কমিশনপ্রাপ্ত হন। ১৯৭৩ সালে পাকিস্তান থেকে ফিরে আসার পর প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সচিবালয়ে যোগ দেন এবং বঙ্গবন্ধুর নিরাপত্তার দায়িত্ব পান। ১৫ আগস্ট ১৯৭৫ সালে ভোর ৫টায় বঙ্গবন্ধু লাল টেলিফোনে তাকে সেনাবাহিনীর বাসভবন ঘেরাওয়ের কথা জানালে সঙ্গে সঙ্গে রওনা হন তিনি। কিন্তু সোবহানবাগ মসজিদের সামনে ঘাতকরা তাকে নির্মমভাবে হত্যা করে।

বেবী সেরনিয়াবাত: আবদুর রব সেরনিয়াবাতের ছোট মেয়ে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবরেটরী হাইস্কুলের নবম শ্রেণীর ছাত্রী ছিল। ওই রাতে মৃত্যু বরণের আগে পিতার কাছেই ছিলেন তিনি।

আরিফ সেরনিয়াবাত: আবদুর রব সেরনিয়াবাতের কনিষ্ঠ পুত্র। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবরেটরী উচ্চ বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্র ছিল। নিহত হওয়ার সময় ঢাকায় পিতার কাছেই ছিলেন তিনি।

সুকান্ত আবদুল্লাহ বাবু: আবদুর রব সেরনিয়াবাতের নাতি। নিহত হওয়ার সময় বয়স ছিল ৪ বছর এবং ঢাকায় দাদার বাসায় বেড়াতে এসেছিলেন তিনি।

শহীদ সেরনিয়াবাত: আবদুর রব সেরনিয়াবাতের ভাইয়ের ছেলে। বরিশাল বি এম স্কুল থেকে ম্যাট্রিক, কলেজ থেকে আই. এ. ও বি. এ. পাস করেন। ঢাকা থেকে আইন পাস করে বরিশালে কোর্টে আইনজীবী ছিলেন। তিনি দৈনিক বাংলা পত্রিকার বরিশাল সংবাদদাতা ছিলেন। চাচার বাসায় অবস্থানকালে ১৫ আগস্ট নিহত হন তিনি।

আবদুল নঈম খান রিন্টু: আওয়ামী লীগ নেতা আমীর হোসেন আমুর খালাতো ভাই। বরিশাল জেলা স্কুল থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষা দেন। বরিশালের একটি সাংস্কৃতিক দলের সঙ্গে ওই সময় ঢাকায় এসেছিলেন এবং তৎকালীন কৃষিমন্ত্রী আবদুর রব সেরনিয়াবাতের বাসায় তাকে হত্যা করা হয়।