🕓 সংবাদ শিরোনাম
  • আজ মঙ্গলবার, ৪ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ ৷ ১৮ মে, ২০২১ ৷

বজ্রপাতে বাবা- মাকে হারিয়ে ৮ ভাই বোন দিশেহারা


❏ সোমবার, আগস্ট ১৫, ২০১৬ জাতীয়

12সময়ের কন্ঠস্বর ডেস্কঃ-'আমরা এখন যাবো কোথায়, থাকবো কোথায়, খাবো কোথায় গো..' এমনি আকুতি আর আহাজারিতে ভাসছে মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের পূর্ব জালালপুর গ্রাম। অঝড়ে কাঁদছে ওরা ৮ ভাই বোন।

সাত বোন, এক ভাই। মাত্র একদিন আগে ওরা ছিলো মা-বাবার আদরের ছায়াতলে। কিন্তু আজ ওরা বড্ড একা। মা ও বাবা দু’জনকেই একসঙ্গে হারাতে হবে সেটা ওরা জানতো না। আজ তাই ওদের অসহায় চাহনিযুক্ত চেহারা দেখে এ প্রতিবেদকের চোখ থেকেও পানি ঝরতে বিলম্ব হয়নি।

শনিবার (১৩ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে বজ্রপাত কেড়ে নিয়েছে মা-বাবাকে। রোববার বিকেলে মা-বাবাকে দাফনের পর ওরা একা হয়ে গেছে। কারণ তাদের ভরণ-পোষণের জন্য একমাত্র ব্যক্তি ছিলেন ওদের বাবা দিনমজুর আজির আলী।

খাসিয়া পুঞ্জিতে সারাদিন কাজ করে ২০০ টাকা নিয়ে বাড়ি ফিরতেন। সেই টাকায় সদাই করে ৭ মেয়ে ও ১ ছেলেকে আর স্ত্রীকে নিয়ে পরিবার চলতো। কিন্তু আজ সন্তানদেরকে এতিম করে স্ত্রী আলিমা আক্তারসহ তিনি এখন কবরে।

সদ্য এতিম হওয়া সাত বোনের একটিমাত্র ভাই। নাম কয়েছ আহমদ। বয়স মাত্র ১৮ বছর। সাতবোনের সব দায়ভার এখন তার উপরেই। অধিক শোকে পাথরের প্রভাবটা হয়তো তার ওপর একটু হলেও পড়েছে। তাইতো সে মানসিকভাবে একটু শক্ত হয়ে প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলতে পেরেছে। কিন্তু বড় বোন হামিদা বেগমের কান্না থামছেই না। সঙ্গে ছোট বোন সামিনা ও আমিনাও কাঁদছে।

সবচেয়ে ছোট শারমিন, নাজমিন, আরমিন, ফাহিমা আর বিউটি এখনো বিষয়টি হয়তো ভালো করে বুঝেনি। তবুও ওদের চাহনিতে বেদনার চাপ। ওরা একদিন আগেও নাকি খুব চঞ্চল ছিলো, খেলাধুলা করছিলো। কিন্তু আজ তারাও নিশ্চুপ।

একে একে গ্রামের প্রতিবেশীরা এসে ওদেরকে সান্তনার বাণী শুনিয়ে যাচ্ছেন। এরই মধ্যে মামুন মিয়া নামে গ্রামের এক ব্যবসায়ী বললেন, আমি এ এতিমদের এক সপ্তাহের ভরণ-পোষণের দায়িত্ব নিলাম।

কিন্তু সাময়িক সহযোগিতা নিয়ে ওদের জীবন চলবে কিভাবে?

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ মাহমুদুল হক বলেন, যেহেতু ওদের নিজস্ব কোনো ভিটে-মাটি নেই, সেহেতু চেষ্টা করবো সরকারি কোনো খাস জমি ওদেরকে বরাদ্দ দেওয়ার।

তাছাড়া জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অসহায় এ পরিবারকে মোটা অংকের টাকা বরাদ্দের আশ্বাসও দেন তিনি।

সেই সঙ্গে বিত্তশালীদেরকে অসহায় ওই এতিমদের সহায়তায় এগিয়ে আসার আহ্বান ব্যক্ত করেন ইউএনও মোহাম্মদ মাহমুদুল হক।