ফেলনা আলুর খোসার দারুন সব পুষ্টিগুণ…


❏ সোমবার, আগস্ট ১৫, ২০১৬ লাইফস্টাইল

potato-peel-nutrients


লাইফস্টাইল:

আলু বাংলাদেশের মানুষের কাছে খুব পরিচিত একটি নাম। আর কিছু থাকুক বা না থাকুক, বাংলাদেশের প্রতিটি রান্নাঘরে আলুকে অবশ্যই খুঁজে পাওয়া যাবে। আর কেনইবা না? খুব জলদি পেট ভরিয়ে দেওয়ার সাথে সাথে ভাতের পরিপূরক এই খাবারটি খুব সহজেই পূরণ করে মানব দেহের দরকারী অনেক পুষ্টি চাহিদাকেও। তবে কেবল কি আলুই এত উপকারি? আলুর যে খোসাগুলো ময়লার ঝুড়িতে ফেলে দিচ্ছেন আপনি, সেগুলো কি একেবারেই ফেলনা?—

না, একদমই নয়। বরং আলুর মতনই আলুর খোসাকেও শরীরের পক্ষে প্রচন্ড স্বাস্থ্যকর আর উপকারি বলে মনে করেন পুষ্টি বিশেষজ্ঞরা। বিশ্বাস হচ্ছেনা? তাহলে চলুন দেখে নিই বিশেষজ্ঞদের কথাগুলোকে এক নজরে।

আলুর খোসা সম্পর্কে কিছু বলতে গেলে প্রথমেই আমাদেরকে জানতে হবে যে এর ভেতরে ঠিক কী কী খাদ্য উপাদান রয়েছে। কী রয়েছে না বলে কী নেই সেটা বলাটাই বোধহয় এক্ষেত্রে বেশি যুক্তিযুক্ত। আলুর খোসার ভেতরে আপনি পাবেন

১. পটাশিয়ামঃ

যেটি কিনা আপনার শরীরের পটাশিয়ামের পরিমাণ বাড়িয়ে তুলে খাদ্য হজমে ও খাবার থেকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি আহরণে সাহায্য করে। এছাড়াও পটাশিয়াম আপনার শরীরের মাংসপেশীগুলোকেও আরো সাবলীলভাবে নাড়তে সাহায্য করবে। আর আলুর খোসাতে এই পটাশিয়ামকেই আপনি পাবেন অনেক বেশি পরিমাণে। লিনাস পলিং ইন্সটিটিউটের মতে, দিনে মাত্র চারটি আলুর খোসাই আপনার শরীরে এনে দিতে পরে ৬২৮ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম।

২. লৌহঃ

লোহা বা আয়রনের ঘাটতিতে ভোগেন না এমন খুব কম মানুষকেই পাওয়া যায় বাংলাদেশে। বিশেষ করে প্রতিটি নারীর শরীরেই থাকে আয়রনের যথেষ্ট অভাব। আর চারটি আলুর খোসাতেই প্রায় ৪.৯ মিলিগ্রাম আয়রন পাবেন আপনি। যেটি আপনার শরীর ও শরীরে রক্ত উত্পাদনের ক্ষমতা বাড়িয়ে তুলবে কাঙ্ক্ষিত হারে।—

৩. নিয়াসিনঃ

নিয়াসিন বা বি৩ ভিটামিন পেতেও আপনাকে সাহায্য করবে আলুর খোসা। এটির কাজ অনেকটাই পটাশিয়ামের মতন। খাবারকে ভেঙে সেটা থেকে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি উৎপন্ন করা। এছাড়াও নতুন নতুন কোষ তৈরিতেও নিয়াসিন সাহায্য করে মানবদেহকে।

৪. অন্যান্যঃ

এছাড়াও আলুর খোসায় নানারকম উপাদান পাবেন আপনি যেগুলোর ভেতরে ভিটামিন সি, আঁশসহ নানারকম উপকারি উপাদান মজুদ থাকবে। শুনলে অবাক হবেন যে, প্রতিটি আলুর খোসায় ২ আউন্স করে আঁশ পাবেন আপনি। এছাড়াও সাথে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ ও হজমে সাহায্য করার ব্যাপারটা তো আছেই। তবে এক্ষেত্রে অবশ্যই চেষ্টা করবেন যাতে করে রান্নাটি খুব বেশি মাখন ও মশলা দিয়ে তৈরি না হয়। এর বদলে চেষ্টা করুন বাড়তি মশলাহীন আলুর খোসা গ্রহন করতে।