🕓 সংবাদ শিরোনাম
  • আজ মঙ্গলবার, ৪ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ ৷ ১৮ মে, ২০২১ ৷

অবশেষে সবাইকে কাঁদিয়ে নিথর ‘বঙ্গ বাহাদুর’


❏ মঙ্গলবার, আগস্ট ১৬, ২০১৬ Breaking News, ফিচার

জামালপুর প্রতিনিধি- পাহাড়ি ঢলে ভারত থেকে ভেসে আসা বন্যহাতি ‘বঙ্গ বাহাদুরকে’ নিয়ে আর কাউকে ভাবতে হবে না। জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে আজ মঙ্গলবার মারা গেছে হাতিটি। সকাল সোয়া ৭টার দিকে নিথর হয়ে যায় হাতিটি। বঙ্গ বাহাদুরের মৃত্যুতে এলাকাবাসী অনেকে কান্নায় ভেঙে পড়েন।elephant-jug_22225_1471246052বনবিভাগের হাতি উদ্ধারকারী দলের প্রধান ড. তপন কুপমার দে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

অতিরিক্ত চেতনানাশক ব্যবহার, চিকিৎসা না পাওয়া, খোলা আকাশের নিচে থাকায় প্রচণ্ড গরম আর পায়ের মোটা শিকল-রশির শক্ত বাঁধনের কারণে সোমবার দুপুর ১২টার দিকে অসুস্থ হয়ে মাটিতে শুয়ে পড়ে হাতিটি। চিকিৎসক আর বন বিভাগের কর্মীরা হাতিটিকে সুস্থ করে আবারো দাঁড় করানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়।

কক্সবাজারের ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সাফারি পার্কের ভেটেরিনারি সার্জন মোস্তফিজুর রহমান জানান, গতকাল তাপমাত্রা বেশি থাকায় বঙ্গ বাহাদুর অসুস্থ হয়ে কাদাপানিতে পড়ে যায়। সন্ধ্যা পর্যন্ত হাতিটির শরীরে ইনজেকশনের মাধ্যমে ১২টি স্যালাইন দেওয়া হয়। হাতিটিকে সুস্থ করে তুলতে সব ধরনের চিকিৎসা ও সেবা দেওয়া হয়েছিল।

কামরাবাদ ইউনিয়নের কয়ড়া গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য মুকুল মিয়া জানান, এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে সেবা দিয়েও বঙ্গ বাহাদুরকে বাঁচাতে পারলাম না। আমাদের কাঁদিয়ে সে অজানার পথে পাড়ি দিয়েছে।

বঙ্গ বাহাদুরকে গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সাফারি পার্কে নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। তাকে উদ্ধারের জন্য চট্টগ্রামের কাপ্তাই থেকে দুটি বড় হাতি আনার কথা ছিল। আজ সকালেই হাতিগুলোর সরিষাবাড়ী পৌঁছানোর কথা। তার আগেই চলে গেল বঙ্গ বাহাদুর।

প্রসঙ্গত, গত ২৭ জুন ভারতীয় এই বন্য হাতিটি বন্যার পানিতে ভেসে বাংলাদেশে ঢুকে পড়ে। প্রায় দেড়মাস যাবত এটি জামালপুর, কুড়িগ্রাম, সিরাজগঞ্জ ও বগুড়ার চরাঞ্চলে ঘুরে বেড়াচ্ছিল। হাতিটি উদ্ধারে গত ৪ আগস্ট ভারতীয় একটি বিশেষজ্ঞ দল বাংলাদেশে আসে। ৫ আগস্ট থেকে টানা তিনদিন তারা উদ্ধারের চেষ্টা চালায়। কিন্ত কোনোভাবেই হাতিটিকে ডাঙ্গায় ভেড়ানো সম্ভব হয়নি। পরে ৮ আগস্ট তারা দেশে ফিরে যান।

বৃহস্পতিবার (১১ আগস্ট) দুপুর আড়াইটার দিকে জামালপুরের সরিষাবাড়ি উপজেলার কামরাবাদ ইউনিয়নের কয়রা গ্রামে ট্রাঙ্কুলাইজার বন্দুক থেকে ডার্ট ছুড়ে অচেতন করা হয় হাতিটিকে। এ সময় হাতিটি পানিতে পড়ে যায়। এরপর পাঁচ টনের বেশি ওজনের হাতিটিকে জলাশয় থেকে টেনে তোলে কয়েকশ মানুষ। সে সময় হাতিটির নাম দেয়া হয় ‘বঙ্গ বাহাদুর’। এরপর থেকেই হাতিটি ওই গ্রামের রহিম মাস্টারের বাড়ির পেছনের একটি বড় আম গাছের সঙ্গে রশি এবং লোহার শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়। উদ্ধারের পর দুই দফা দড়ি ও শিকল ছিঁড়ে ছুটে যায় হাতিটি।

সবশেষ রবিবার (১৪ আগস্ট) ফের চেতনানাশক দিয়ে হাতির চার পায়ে শেকল ও ডান্ডাবেড়ি পড়ানো হয়। পরে সোমবার দুপুরের দিকে হাতিটি অসুস্থ হয়ে মাটিতে শুয়ে পড়েছে। তবে এ নিয়ে শঙ্কিত হওয়ার কিছু নাই বলে জানিয়েছিলেন ভেটেরেনারি সার্জন ডা. সাঈদ। তিনি জানিয়েছিলেন, পায়ে শক্ত বাঁধন ও শরীরের তাপমাত্রা কিছুটা বেড়ে যাওয়ায় হাতিটি দুপুরের দিকে শুয়ে পড়ে।

এর আগের সংবাদ-

ঝুঁকির মুখে বঙ্গ বাহাদুরের জীবন?

শিকল ছিঁড়ে ফের জলাশয়ে ‘বঙ্গ বাহাদুর’, নতুন করে এলাকাবাসী আতংক!

হাতিটি উদ্ধারে নামছে দুই দেশের বিশেষজ্ঞ দল