জিয়াউর রহমান আমাকে বাসায় ঢুকতে দেননি: প্রধানমন্ত্রী

❏ মঙ্গলবার, আগস্ট ১৬, ২০১৬ Breaking News, ফিচার

সময়ের কণ্ঠস্বর- ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর দেশে ফিরে ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরের বাসায় যেতে চেয়েছিলাম। বলেছিলাম মিলাদ পড়বো, দোয়া করবো। জিয়াউর রহমান তখন রাষ্ট্রপতি। তিনি আমাকে বাসায় ঢোকার অনুমতি দেননি। এ অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ১৯৭৫ সালে সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার শোকাবহ ঘটনার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে জাতীয় শোকদিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় বাবা-মা-ভাইদের হারানোর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে শোকাতুর হয়ে পড়েন প্রধানমন্ত্রী। হৃদয় মথিত বেদনায় এসময় তার চোখে ছিল জল। আবেগে কণ্ঠ ছিল বাষ্পরুদ্ধ।

শেখ হাসিনা, পিতার কাছে কথা দিচ্ছি, দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়ে তার স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে কাজ করে যাব। আরও আঘাত আসবে। কখনও জঙ্গিবাদ, কখনও সন্ত্রাসবাদ, নানা কিছু আসবে। এগুলো মোকাবিলায় আমার একটাই শক্তি। তা হল, আমি মানুষের জন্য কাজ করছি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৫ই আগস্টের হত্যাকান্ড এবং পরবর্তী সময়ে নিজের শোক, কষ্ট আর দুর্ভোগের বর্ণনা দিয়ে বলেন, সব কষ্ট বুকে চেপে রেখেছি। কিন্তু, কোনও দিন কারও কাছে নত হইনি।

শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৮১ সালে যখন আওয়ামী লীগের সভানেত্রী নির্বাচিত হই তখন আমি দিল্লিতে ছিলাম। আমার অবর্তমানেই আমাকে সভানেত্রীর দায়িত্ব দেয়া হয়। তারপর ১৭ই মে আমি দেশে আসি। সেদিনের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, লাখো মানুষ আমার জন্য বৃষ্টিতে ভিজে বিমানবন্দরে গেছেন। লাখো মানুষের মধ্যে আমি আমার হারানো মা-বাবা ভাই বোন কাউকে পাইনি। কিন্তু, বাংলার মানুষের ভালবাসা, সমর্থন আমি পেয়েছি। আওয়ামী লীগের অগণিত কর্মীর সহযোগিতা পেয়েছি।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য সংগ্রাম করে যাচ্ছেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন,‘যে মানুষগুলোর জন্য আমার বাবা-মা-ভাইসহ পরিবার সদস্যরা জীবন দিয়ে গেছেন আমি শুধু তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন দেখতে চাই। এটা ছাড়া আমার আর কোনও আকাঙ্ক্ষা নাই।’