🕓 সংবাদ শিরোনাম

ফিরে দেখা, ১৯৭১- ‘মুক্তিযুদ্ধের এই দিনে’দু’সপ্তাহের মধ্যেই শিশুদের কোভিড টিকাকরণ, সিদ্ধান্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নেবাড়িতে লুকিয়ে রাখা ৪৭ ভরি স্বর্ণসহ তিন রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ আটকফিরে দেখা; ইতিহাসে আজকে এই দিনের উল্লেখযোগ্য ঘটনা প্রবাহশীতে অপরূপ লাল শাপলার ডিবির হাওরময়মনসিংহ শহরের ভেতরেই রেলক্রসিং: প্রতিদিন ৮ ঘন্টা যানজটবিজয়ের ৫০ বছরে ওয়ালটন ল্যাপটপ ও এক্সেসরিজে ৫০% পর্যন্ত ছাড়মাইকিং করে ২গরু জবাই করল পরাজিত প্রার্থী, দাওয়াতে এলো না কেউ!সুনামগঞ্জে আফ্রিকা ফেরত প্রবাসীর বাড়িতে লাল পতাকাতদন্ত কর্মকর্তাসহ ৬৫ জনের সাক্ষ্য-জেরায় সাক্ষ্যপর্ব সমাপ্ত

  • আজ বৃহস্পতিবার, ১৭ অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ ৷ ২ ডিসেম্বর, ২০২১ ৷

শারীরিক সমস্যা সমাধানের অলরাউন্ডার- নিম গাছ!


❏ মঙ্গলবার, আগস্ট ১৬, ২০১৬ লাইফস্টাইল

নিম পাতা

নিশীতা মিতু, লাইফস্টাইল ফিচার এডিটর, সময়ের কণ্ঠস্বর। ছোটবেলা থেকে আম্মু নানুসহ সবাইকে দেখতাম নিমপাতা খুব গুরুত্ব সহকারে দেখতেন। কারো এলার্জী সমস্যা হলে, নিমপাতা সেদ্ধ পানি দিয়ে গোসল করানো। কারো চিকেন পক্স হলে শরীর চুলকানোর জন্য নিমপাতা। ঘরে পোকার আক্রমণ হলেও নিমপাতা। নিম ডাল দিয়ে আবার দাঁত মাজা… মোটামুটি বলা যায় নিমের বহুল ব্যবহারই দেখা যেত। সাময়িক সেই টোটকাগুলোতে সমাধানও মিলতো চমৎকার ভাবে। তো ছোটবেলার কথা ভাবতে ভাবতে ঠিক করলাম, নিমের গুণাগুণগুলো বরং নিজে জানি আর অন্যদেরও জানাই। আর তাই আজকের এই লেখা।

নিমগাছ সম্পর্কে একলাইনে বলতে হলে বলা যায় এটি একটি যাদুকরী গাছ যা বহু বছর বেঁচে থাকে আর খুব তাড়াতাড়ি বেড়ে উঠে। নিমকে যাদুকরী বলা হয় এই কারনে কারন এর কোন অংশই ফেলনা নয়। পাতা, ফল/বীজ, বাকল এমনকি নিমের ফুলও আমাদের জন্য বেশ উপকারী ঔষধ। মুরুব্বীদের অনেককে বলতে শুনবেন যেন সুর্যাস্তের সময় গাছের নিচে না বসা হয়। এর কারন হল ঐ সময়টা গাছ ক্লান্ত থাকে আর কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গত করে। অথচ শুনে অবাক হবেন, নিম হচ্ছে এমমাত্র গাছ যা ২৪x৭ সারাক্ষণই অক্সিজেন নির্গত করে থাকে। তাই নিমকে অনেকে জীবনের বৃক্ষ হলেও আখ্যায়িত করে থাকেন।

চলুন তবে এখন জেনে নেওয়া যাক, নিমের কোন অংশ আমাদের ঠিক কোন কাজে লাগে।

নিম- একটি সর্বজনীন চিকিৎসকঃ হ্যা ঠিকই পড়ছেন। নিম আপনার প্রয়োজনের সব সময়ই একজন ভালো চিকিৎসকের ন্যায় আচরণ করে। দেহের কোন অংশ পুড়ে গেছে, কোন অংশে ক্ষত দেখা দিয়েছি, কোথায় পোকা কামড় দিয়েছে… সমস্যা যাই হোক সমাধান কিন্তু নিমপাতাতেই রয়েছে। তার জন্য আপনাকে যা করতে হবে তা হল হাতের কাছে থাকা নিমপাতা সংগ্রহ করে প্রথমে ধুয়ে পরিষ্কার করে নিতে হবে। এরপর শিতলপাটা বা গ্রাইন্ডারের মাধ্যমে পেস্ট করে নিতে হবে। দিনে দুইবার করে আক্রান্ত স্থানে সেই পেস্ট লাগাতে হবে। কিছুদিন ব্যবহারেই সমাধান মিলবে।

নিমের জুস

নিমের জুস- শক্তিশালী এক দেহের টনিকঃ নিম দেহ থেকে টক্সিন দূর করতে পারে। তারমানে, নিম সহজেই আপনার দেহের রক্ত পরিশুদ্ধ করতে সক্ষম। চেহারায় বার্ধক্যের ছাপ না ফেলতে চাইলেও নিমের সাহায্যই নিতে হবে। নিমের জুস খাওয়াটা বেশ কষ্টসাধ্য হলেও খানিকা কষ্ট করে নাকে হাত চেপে যদি এই রস গিলতে পারেন তবে দারুণ একটু পরিপাকক্রিয়া অবশ্যই পাবেন।

সময় এসেছে খুশকি তাড়াবারঃ খুশকির জ্বালায় অতিষ্ঠ। দুইমুঠ নিমপাতা এক লিটার পানিতে দিয়ে সেদ্ধ করুন। পানি সবুজ হওয়া পর্যন্ত জ্বাল দিন। এরপর দ্রবণটি ঠান্ডা করুন। চুলে শ্যাম্পু করার আগে এই দ্রবণ দিয়ে ভালো করে মাথার ত্বক ধুয়ে ফেলুন। উপকার পাবেন।

বাঁচিয়ে তুলুন আপনার চোখ আর কানঃ সারাদিনের ধুলাবালি, কাজের চাপ, মাত্রাতিরিক্ত শব্দ আর মোবাইল, পিসির ব্যবহার আমাদের চোখ কানকে ক্লান্ত করে তোলে। যদি আপনার চোখ ক্লান্ত হয়ে থাকে, চোখে চুলকানি থাকে কিংবা চোখে লালভাব দেখা যায় তবে কিছু নিমপাতা ভালো করে ধুয়ে পরিষ্কার পানিতে সেদ্ধ করুন। সেদ্ধ করা পানি ঠান্ডা করে সেই পানিটুকু দিয়ে চোখ ধুয়ে ফেলুন। চোখের শক্তি বৃদ্ধি পাবে। আর যদি কানে ফোড়া হয় তবে কিছু নিমপাতা বেটে তার রস আর একটু মধু মিশিয়ে কয়েক ফোঁটা কানে দিন। উপকার পাবেন।

প্রকৃতির ব্রাশঃ টুথব্রাশ বা দাঁতের মাজন হিসেবে দারুণ জিনিস হল নিমের ডাল। অনেকেই নিমের মাজন ব্যবহার করে থাকেন এবং ডাক্তাররাও পরামর্শ দিয়ে থাকেন এটি ব্যবহারের জন্য। কেননা এটি ব্যাকটেরিয়া ও জীবাণুর বিরুদ্ধ যুদ্ধ করে আর আপনাকে দেয় সতেজ, সাদা এবং স্বাস্থ্যকর দুপাটি দাঁত।

নিম ফুল

রান্নায় নিমের ফুলঃ আপনার মত আমিও বেশ অবাক হয়েছিলাম যখন জানতে পেরেছি রান্নায় নিমের ফুল ব্যবহার করা হয়। তামিল নাড়ুসহ বেশ কয়েকটি অঞ্চলে নিমের ফুল শুকিয়ে গুড়ো করে রাখা হয়। ভাজি, ভুনা, ঝোলসহ বিভিন্ন খাবারে এই নিমফুল গুড়া ব্যাবহার করা হয়। এটি খাবারে এক অন্যমাত্রার ভিন্ন স্বাদ সৃষ্টি করে। ও আচ্ছা, আপনার পেটের পিড়া, পেটে যন্ত্রণা এমনকি পেটের ক্রিমি থেকে মুক্তি মেলাতে নিমফুল কিন্তু দারুণ উপকারী।

সত্যি, হেলায় বড় হওয়া এই গাছটি আমাদের প্রকৃত বন্ধুই বটে। সুযোগ পেলে বারান্দায় বা ঘরের উঠোনে একটা নিমের চারা লাগাতে ভুলবেন না যেন।