মানব সেবায় অনন্য দৃষ্টান্ত: পাবনায় ৫‘শ শিশুর বিনা মুল্যে ঠোটকাটা তালু কাটা সম্পন্ন


❏ মঙ্গলবার, আগস্ট ১৬, ২০১৬ রাজশাহী

আব্দুল লতিফ রঞ্জু, পাবনা প্রতিনিধি:  জন্মের পর থেকে যারা ছিলো সমাজের কাছে বোঝা এবং অবহেলার পাত্র তারা এখন নতুন স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে। বিনামুল্যে প্লাষ্টিক সার্জারির মাধ্যমে ৫ শতাধিক শিশু স্বাভাবিক জীবন ফিরে পেয়েছে। এসব দরিদ্র শিশুদের অপারেশনসহ সব খরচ বহন করেছে পাবনার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। (মুসলিম এইড কমিউনিটি হাসপাতাল)। ঢাকা থেকে বিশেষজ্ঞ টিম এসে গত তিন বছরে ৫০টি ক্যাম্পের মাধ্যমে এসব শিশুদের অপারেশন সম্পন্ন করেন। মানব সেবায় বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন বলে মনে করেন রোগীদের অভিভাবক ও পাবনার সচেতন মহল।

৮ মাস বয়সের ঠোঁট কাটা রোগী সামির হোসেনের বাবা সাদীপুর গ্রামের আব্দুল কাদের জানান, জন্মের পর থেকে তিনি তার সন্তান নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় ছিলেন। চরাঞ্চলের অতিব দরীদ্র হওয়ায় অপারেশনের টাকা জোগার করা অসম্ভব হয়ে যায়। পরে তিনি জানতে পারেন পাবনা মুসলিম এইড হাসপাতালে বিনা মুল্যে এই অপারেশন করা হবে। তখন তিনি হাসপাতালে যোগাযোগ করে তার সন্তানের অপারেশন সম্পন্ন করেছেন। এখন তার সন্তানের মুখ স্বাভাবিক।

সাঁথিয়া উপজেলার কাশিনাথপুরের হামিদুল্লাহ জানান, তার ছেলে কিফাত উল্লাহকে (২) নিয়ে বড় সমস্যায় পড়তে হয় তাকে। তিনি শুনেছেন এসব অপারেশন করতে ৫০ হাজারের মতো টাকা লাগে। এতো টাকা জোগাড় না করতে পেরে তিনি ভেঙে পড়েন। কিন্ত মুসলিম এইডের মাধ্যমে বিনা মুল্যে তার ছেলেকে অপারেশন করতে পেরে তিনি এখন খুশি।

pabnaনাটোরের লালপুর থেকে আসা শরিফুল ইসলাম এবার সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র। তার ঠোট কাটা থাকায় স্পষ্ট করে কথা বলতে পারে না। ক্লাসের বন্ধুরা তার সাথে হাসি তামাশা করতো। মানসিক ভাবে সে অনেক দুর্বল হয়ে পড়েছিল সমাজে। মুখ না দেখাতে অনেক সময় লোকালয়ে থাকতে ভাল বাসতো। লোক মুখে শুনে সে মুসলিম এইড হাসপাতালে এসে তার নতুন জীবন ফিরে পেয়েছে। এজন্য সে মুসলিম এইডের কাছে কৃতজ্ঞ তিনি।

মুসলিম এইড হাসপাতাল পাবনার এ্যাডমিন এ্যান্ড এইচআর অফিসার ইজিঃ আইয়ুব আলী খান বলেন, এখন প্রতি মাসেই এই ধরনের ক্যাম্প মুসলিম এইড হাসপাতালে আয়োজন করা হয়। বিনামূল্যে এই ক্যাম্প থেকে দুর দুরান্তের ঠোঁট ও তালুকাটা রোগীদের উন্নত মানের অপরেশনের মাধ্যমে তাদের স্বাভাবিক ও সুন্দর মুখচ্ছবি সম্পন্ন জীবন অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। আমরা আশা করি মানুষের কল্যানে এই ক্যাম্পের ধারাবাহিকতা আগামী দিনেও চলমান থাকবে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্লাষ্টিক সার্জারি বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ডা: সাজ্জাদ খোন্দকারের নেতৃত্বাধীন একটি বিশেষ টিম এসব অপারেশন সম্পন্ন করেন।

এই টিমের সদস্য ডা: মাজহারুল হক জানান, এসব অপারেশনে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়। কিন্ত মুসলিম এইড এসব অপারেশনের সম্পুর্ণ খরচ বহন করে থাকে। তিনি আরো জানান, জন্মের পর এই ধরনের সন্তান হলে অনেকেই চন্দ্র গ্রহণ সুর্য গ্রহনকে দায়ি করে থাকেন। আসলে এসব কু সংস্কার। অনেকেই তার পরিবারের জন্য অভিশাপ মনে করে থাকেন। আর দরীদ্র গোষ্ঠির মধ্যে সব চেয়ে বেশী এই রোগী পাওয়া যায়। ধনীর সন্তানদের খুবই সামান্য এই রোগ হয়ে থাকে। মুলত পুষ্টির অভাবজনিত কারনে এই ধরনের রোগ হতে পারে। তবে অপারেশনের মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা সম্ভব বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।