• আজ ১২ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

ধর্ষণের পর হত্যাঃ অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন ”আপনার মেয়ের লাশ নিয়ে যান”

১১:৪৬ অপরাহ্ন | মঙ্গলবার, আগস্ট ১৬, ২০১৬ অকালমৃত্যু প্রতিদিন, আলোচিত, ফিচার, স্পট লাইট

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক –  শনিবার রাতে একটি অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন আসে সৈয়দা ইয়াসমিন রুমার মোবাইলে। ফোনে তাকে বলা হয় আমি সাগর বলছি বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে আপনার মেয়ে লাশ আছে নিয়ে যান। রুমা কিছু বুঝতে না পেরে ঢাকায় বসবাসরত তার ভাই তৌফিক এলাহীকে সমস্ত ঘটনা খুলে বলেন। পরে তৌফিক এলাহী বিভিন্ন হাসপাতালে খোঁজ খবর নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে এসে তার ভাগনি আফসানা ফেরদৌসীর লাশ শনাক্ত করেন।

afsana

আফসানা মিরপুরের সাইক ইন্সটিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট এন্ড টেকনোলজির স্থাপত্য বিদ্যার শেষ বর্ষের ছাত্রী ও ছাত্র ইউনিয়ন কর্মী ছিলেন ।নিহত আফসানা ফেরদৌসীর বাবা আখতার হোসেন প্রায় ছয়মাস আগে মারা গেছেন। এক ভাই দুই বোনের মধ্যে আফসানা ছিলেন সবার বড়।

আফসানার ভাই ফজলে রাব্বী  জানান, “গত শনিবার (১৩ আগস্ট) রাতে মাকে অপরিচিত এক নাম্বার থেকে ফোন করে জানানো হয়, আফসানা বাংলাদেশ মেডিকেলের জরুরী বিভাগে ভর্তি আছে । এই খবর শুনে  মা কাঁদতে শুরু করলে আমি ফোনটা ধরি । পরে ঐ প্রান্ত থেকে বলা হয় লাশ বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা আছে। তখন আমি বিষয়টি ঢাকায় আত্মীয়স্বজনদের জানাই। খবর পেয়ে পরিচিত জনেরা ধানমণ্ডির বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছুটে যান। কিন্তু আফসানার লাশ সেখানে পাওয়া যায়নি। পরে ঐ নাম্বারে আমরা বার বার ফোন করলে ফোন রিসিভ করেনি । পরে আবার অন্য একটি নাম্বার থেকে জানানো হয় লাশ আল হেলাল স্পেশালাইজড হাসপাতালে আছে । সেখানে গেলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলে, এ নামে একটি লাশ কাফরুল থানায় রয়েছে। এরপর কাফরুল থানায় পৌঁছানোর পর আফসানার ছবি দেখালে থানায় ডিউটিরত পুলিশ জানায় এমন চেহারার লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে আছে। রাত তিনটায় ঢাকা মেডিকেল মর্গে আফসানার লাশ শনাক্ত করা হয় ।

তিনি আরো বলেন, “যারা লাশ দেখেছে, প্রাথমিকভাবে তাদের ধারণা মেয়েটিকে ধর্ষণের পর রশির মতো কোন কিছু দিয়ে পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। ধর্ষণে একাধিক ব্যাক্তি জড়িতও থাকতে পারে বলে কেউ কেউ ধারণা করছেন”।

এই প্রসঙ্গে আল হেলাল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, গত শনিবার বিকেলে দুইজন যুবক সিএনজি নিয়ে হাসপাতালের সামনে আসে। এসময় তারা জরুরী বিভাগে রোগী ভর্তির জন্য স্ট্রেচার নিয়ে আসতে বলে। হাসপাতালের লোকজন রোগীকে স্ট্রেচারে তুলে ভিতরে নেয়ার সময় যুবকেরা সিএনজির ভাড়া পরিশোধ করে ভেতরে আসছে বলে পরে আর কেউ আসেনি।

সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, রোগীর হাসপাতালে আসার আগেই মৃত্যু হয়েছিল। এ সময় মেয়েটির মৃতদেহের গলার নিচের দিকে গভীর দাগ দেখা যায়। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কাফরুল থানাকে জানায়।

এদিকে রবিবার আফসানার ময়না তদন্ত শেষে গ্রামের বাড়ি ঠাকুরগাঁয়ের রুহিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়। সোমবার সকালে গ্রামেই দাফন করা হয় ।

এই ব্যাপারে কাফরুল থানা থেকে জানানো হয়েছে, “এখনো ময়না তদন্তের রিপোর্ট জানা যায়নি। আগামী দু তিন দিনের মধ্যে ময়না তদন্তের রিপোর্ট পাওয়া যাবে। এরপর আইনগত ব্যবস্থা নেবে পুলিশ”।

এই ঘটনায় আফসানার গ্রাম কানিকশালগাঁওয়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে ।

রাব্বি বলেন, আফসানার  বন্ধু-বান্ধবরা ধারণা করছে ওর (আফসানা) কাছের বন্ধুরাই এ জঘন্য হত্যাকাণ্ডে জড়িত।

এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন তিনি। সবাইকে এই ঘটনার প্রতিবাদ করার জোর আহ্বান জানান তিনি।

মেধাবী তরুনী আফসানাকে ধর্ষণের পর হত্যাঃ অভিযোগের তীর তেজগাও কলেজ ছাত্রলীগ নেতা রবিনের দিকে !

মোহাম্মদ এরফান সেলিম হাজী সেলিমের ছেলে ইরফান গ্রেফতার

সোমবার, অক্টোবর ২৬, ২০২০