🕓 সংবাদ শিরোনাম
  • আজ বৃহস্পতিবার, ২৪ অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ ৷ ৯ ডিসেম্বর, ২০২১ ৷

মহেশখালীতে এক অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে হয়রানি অভিযোগ


❏ বুধবার, আগস্ট ১৭, ২০১৬ চট্টগ্রাম, দেশের খবর

জামাল জাহেদ, কক্সবাজার: অনিয়ম দুর্নীতি আর দুর্ভোগের অপর নাম মহেশখালি উপজেলা শিক্ষা অফিস আর হিসাব রক্ষণ অফিস। দু অফিসে পেনশনের টাকা তুলতে এসে পদে পদে শিক্ষকেরা হয়রানি আর বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। যুগ যুগ ধরে এই অবস্থা চলে আসলেও দুর্নীতি আর অনিয়ম প্রতিকারের কোন উদ্যোগ আজ পর্যন্ত ও না নেওয়ায় লাগামহীন দুর্নীতির অভিযোগ।durghotonasdfsd

দূর-দূরান্ত থেকে পেনশনের টাকা তুলতে আসা শতশত বৃদ্ধ-বৃদ্ধা ঘণ্টার পর ঘণ্টা অফিসে বসিয়ে রেখে পরে নানা অজুহাতে হয়রানি করা হচ্ছে অভিযোগ পাওয়া যায়।এমনকি কিছু কিছু ক্ষেত্রে টাকা নিয়ে ও ফাইল আটকিয়ে রাখার মতো ঘটনা ঘটছে বলে জানান অনেকে।

অন্যদিকে এল পি আর যাওয়া অবসর প্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবু ছৈয়দ অবসর ছুটি ছিলো ১০/০২/২০১৫- ১০/০২/২০১৬ইং। তিনি শিক্ষকতা করেন মাতারবাড়ি ইউনিয়নের রাজঘাট সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় রাজঘাট । অত্র স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা শিক্ষক হিসাবে ১৯৮১ সাল থেকেই প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে পালন করেছিলেন। প্রথম দিকে রেজিস্টার প্রাইমারি পরে সরকারীকরণ হয়। বর্তমানে অবসরে গেলে দীর্ঘ ৬মাস যাবৎ উপজেলা শিক্ষা অফিস ও হিসাব সংরক্ষণ অফিসে চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন (অব) শিক্ষক আবু ছৈয়দ নিজেই।

বিগত ১৩ তারিখে মহেশখালি উপজেলা হিসাব রক্ষণ অফিসে সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে পেনশনের টাকা তুলতে আসা আবু ছৈয়দ পরিবারের দুর্ভোগের চিত্র। মহেশখালি উপজেলা তথ্যসুত্রে জানা যায়, উপজেলার ২৯টি সরকারি দপ্তরের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অফিস হচ্ছে শিক্ষা ও হিসাব রক্ষণ অফিস। মহেশখালি উপজেলার বিভিন্ন এলাকার প্রায় ৫ শতাধিকের মতো পেনশন ভোগী, নারী পুরুষ প্রতিমাসে পেনশনের টাকা তুলতে আসে এই অফিসে। যারা টাকা তুলতে আসেন তারা অতিশয় বয়স্ক এসব সুশিক্ষিত জনের সাথে বিরুপ আচরণ করা হচ্ছে বলে তাদের পরিবারের অভিযোগ।

এছাড়া উপজেলার ২৯টি দপ্তরের সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেতন ভাতাসহ বিভিন্ন কাজকর্ম এই হিসাব রক্ষণ অফিস থেকে হয়। অথচ এই অফিসের খুবই করুণ অবস্থা এবং কোন নিরাপত্তা নেই। উপজেলা চত্বরের ১২০নং রুমে গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রের ছড়াছড়ি, দীর্ঘদিন হিসাব রক্ষণ অফিসার না থাকায় বিপাকে পড়েছে সরকারি অন্য কর্মচারীরা। যেমনটি পড়েছে অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবু ছৈয়দ,তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন যে স্কেলের বেতন ভোগ করেছেন,সে স্কেলে পেনশন পাবেন বলে হয়রানি করা হচ্ছে হিসাব শাখা কতৃক। বিষয়টি তিনি থানা নির্বাহী অফিসারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

অপর দিকে অভিযোগ পাওয়া গেছে এই অফিসের জুনিয়র কর্মচারীর হাতে পেনশন ভোগী এবং সরকারি ২৯টি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জিম্মি। বিভিন্ন বিল ভাউচার নিয়ে এসে দিনের পর দিন, এমনকি মাসের পর মাস হয়রানি হতে হয়। তাদের চাহিদামত টাকা না দিলে ফাইল নড়ে না। যুগ যুগ ধরে হিসাব রক্ষণ অফিসে এই অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষ বাণিজ্য হয়ে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি পেনশনে আসা উপজেলার রাজঘাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু ছৈয়দ ও আরেক সহকারী শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেছেন তাদের সকল কাগজপত্র ঠিক থাকার পরও প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ও হিসাব রক্ষণ অফিসের কয়েকজন অফিস সহকারী এবং কর্মচারী ২৫ হাজার টাকা ঘুষ নেবার পর ফাইল আটকিয়ে রেখেছেন । জানা যায়,তাদের মত শতশত পেনশনভোগীর এ জাতীয় অভিযোগ মধুর বিরুদ্ধে। তারপরেও কোন খুঁটির জোরে বহাল তবিয়তে মধু সরকার সংশিষ্ট পদে দীর্ঘদিন ধরে বসে আছে তা জানতে চায় হতাশাগ্রস্ত শিক্ষক । এবিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্যদের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে মুঠোফোন রিসিভ না করায় কোন মন্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি প্রতিবেদকের।অন্যদিকে এ বিষয়ে হিসাব রক্ষণ অফিসের জুনিয়র কর্মচারী মধু সরকার জানান, দীর্ঘদিন উপজেলাতে হিসাব সংরক্ষণ কর্মকর্তা না থাকায় পেনশন ভোগীদের ব্যবস্থাসহ প্রয়োজনীয় সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না তাদের।

এ ব্যাপারে মহেশখালি উপজেলার হিসাব রক্ষণ অফিসারের দায়িত্ব থাকা মুৎসুদ্দী সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতি ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, পেনশন ভোগীরা যাতে হয়রানির শিকার না হয় সেদিক দিয়ে যথেষ্ট রয়েছেন। কেন মহেশখালি উপজেলার দায়িত্ব নিয়েও অফিসে পাচ্ছেনা জনগন এমন প্রশ্নে কোন সঠিক জবাব দিতে পারেননি তিনি।

এদিকে মহেশখালি উপজেলা থানা নির্বাহী অফিসার আবুল কালাম জানান,কেহ হয়রানির শিকার হলে বা লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন তিনি।