🕓 সংবাদ শিরোনাম

শিশুকে ডায়াবিটিস থেকে দূরে রাখতে কী কী সতর্কতা অবলম্বন করবেনদক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াকে তৈরি থাকার বার্তা দিল ”হু”বুড়িগঙ্গায় ’সাকার ফিশ’র দখলে, হুমকিতে দেশীয় মাছরোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির থেকে ধারালো অস্ত্রসহ আটক-৫করতোয়ার তীরে নিথর পড়ে ছিলো মস্তকহীন নবজাতক!গাজীপুরে দুই শিশুকে ‘হত্যার’ পর ফ্যানে ঝুলে আত্মহত্যার চেষ্টা মা’য়ের!ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদ: জাহাজ চলাচল বন্ধ; সহস্রাধিক পর্যটক আটকা সেন্টমার্টিনেআখেরী মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হলো নীলফামারীর তিনদিন ব্যাপী ইজতেমাবঙ্গবন্ধুর শাসনব্যবস্থা নিয়ে গবেষণা করতে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রীর আহ্বানভোটে হেরে ক্ষোভ মেটাতে রাস্তায় বেড়া দিলেন প্রার্থী, ভোগান্তিতে পুরো গ্রাম!

  • আজ রবিবার, ২০ অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ ৷ ৫ ডিসেম্বর, ২০২১ ৷

শিবগঞ্জে সুদিন ফিরেছে পাট চাষীদের: লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে দ্বিগুণ পাটের আবাদ


❏ বুধবার, আগস্ট ১৭, ২০১৬ দেশের খবর, রাজশাহী

কামাল হোসেন, শিবগঞ্জ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি: বাংলাদেশের সোনালী আঁশ পাটের যেন আবারো সুদিন ফিরেছে শিবগঞ্জে। ভালো দাম না পাওয়া সহ নানা কারনে পাট আবাদে আগ্রহ হারিয়ে ফেলা কৃষকরা আবারো আগ্রহী হয়েছেন পাট আবাদে। এবছর শিবগঞ্জে ৮০০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে।Shibganj Picture 05

শিবগঞ্জ উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের কালিগঞ্জ গ্রামের ভিতর দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে দেখা যায় রাস্তার পাশের ছোট ছোট জলাশয়ে পাট জাগ দেয়ার কাজ করছেন কেউ কেউ, কেউ কেউ আবার জাগ দেয়া পাট উঠিয়ে তা থেকে আঁশ ছড়ানোর কাজ করছে, কেউ কেউ ব্যাস্ত সেই ছড়ানো আঁশ গুলো পরিস্কার করে ধৌয়ার কাজে। এই সময় কথা হয়, কালিগঞ্জ গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলামের সাথে, তিনি জানালেন এবছর তার ৫ বিঘা জমিতে পাটের আবাদ করেছেন। পাটের ফলন ভালো হয়েছে, তিনি আশাবাদি বিঘা প্রতি ১৩-১৪ মন করে সোনালী আঁশ ঘরে উঠবে তার। সেই সাথে বাড়তি হিসাবে বেশ কয়েকমন পাটকাঠিও পাবেন। তবে এই কৃষকের কিছুটা খরচ বেড়ে গেছে তার জমির পাশে জলাশয় না থাকায়, তিনি জানান, বিশ্বনাথপুর কালিগঞ্জ মাঠে তার জমি, সেখান থেকে পাট কেটে কয়েক কিলোমিটার গাড়ী ভাড়া দিয়ে এখানে রাস্তার পাশে এনে জাগ দিয়েছেন। পাট চাষের কাজে তিনি নিজে শুরু থেকেই শ্রম দিয়েছেন, এতে করে শ্রমিক খরচ তার কিছুটা কম লেগেছে, তিনি জানান সবমিলিয়ে তার বিঘা প্রতি প্রায় ৫-৬ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। জিয়ারুল ইসলামে নামে আরেক কৃষক জানান তিনি এবার তার দুই বিঘা জমিতে পাট আবাদ করেছেন।

নিজেই গোবর কম্পোস্ট সার তৈরী করে জমিতে দিয়েছেন,সেই সাথে নিজেই অধিকাংশ শ্রম দিয়েছেন, তার দুই বিঘা জমিতে এখন পর্যন্ত ৮ হাজার টাকা খরচ হেয়েছে। তিনি জানান, দুই বিঘা জমি থেকে ২৫-২৬ মন পাট পাওয়ার আশা করছেন তিনি। তিনি বলেন বাজারে বর্তমানে ১৩শ-১৪শ টাকা মন ধরে পাট বিক্রি হচ্ছে, এই দাম থাকলেও তার ভালো লাভ হবে। সেই সাথে পাটকাঠি বিক্রি করেও বাড়তি আয় হবে তার। শিবগঞ্জ উপজেলার মনাকষা ইউনিয়নের মাহবুব আলম নামে এক জমির মালিক জানান, তার ৫ বিঘা জমিতে তিনি পাটের আবাদ করেছেন। শ্রমিক দিয়ে পুরো চাষাবাদ করায় তার বিঘা প্রতি ৭ হাজার টাকা খরচ হয়েছে, তবে তিনিও পাটের দামে খুশি, জানালেন সব খরচ বাদ দিয়েও তার প্রায় ৩০ হাজার টাকা লাভ হতে পারে। মনকষা ইউনিয়নের ইউনুস আলী কালু নামে এক কৃষকও পাট আবাদে লাভবান হওয়ার কথা বলেন, তবে তিনি বলেন পাটের বাজার যাতে না পড়ে সেদিকে সরকারের খেয়াল রাখতে অনুরোধ করেন। পাট চাষের প্রতি কৃষকের আগ্রহ বাড়ার কারণ হিসাবে প্রথমেই গেল বছর তুলনামুলক পাটের বাজার দর ভালো থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সাজদার রহমান জানান, গেল বছর কৃষক প্রায় ১৫শ-১৮শ টাকা মন ধরে পাট বিক্রি করতে পেরেছিলো। সে কারনেই এবছর অধিক জমিতে তারা পাট আবাদ করেছেন। তিনি বলেন, বিগত বছর গুলোর তুলানায় এবছর জেলায় পাটের আবাদ বেড়েছে।

এবছর ৫৫৬ হেক্টর লক্ষমাত্রার বিপরীতে ১ হাজার হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। এরমধ্যে শিবগঞ্জে ৮০০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ করছেন কৃষকরা।