• আজ বুধবার, ১৬ অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ ৷ ১ ডিসেম্বর, ২০২১ ৷

নওগাঁয় যৌতুকের দাবীতে গৃহবধুকে নির্যাতন ও শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ


❏ বুধবার, আগস্ট ১৭, ২০১৬ দেশের খবর, রাজশাহী

নাজমুল হক নাহিদ, নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁর মান্দায় যৌতুকের দাবীতে গত রবিবার দুপুরে গোলাপী রানী সাহা নামে এক গৃহবধুকে নিযাতন ও শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করার চার দিনেও কোন আসামীতে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। নিহতের পরিবার অভিযোগ, মামলাটি ভিন্ন খাতে নিতে একটি মহল তৎপর থাকায় পুলিশ আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা করছে না। তবে পুলিশ দাবি করে, ঘটনার পর থেকে নিহতের স্বামী দুলাল সাহা, শ্বশুড় ও শ্বাশুড়ি পলাতক রয়েছেন।

sas-kosto

জানা গেছে, জেলার নিয়ামতপুর উপজেলার জারুল্যাপুর (ধাউড়িয়া দান্দপুর) গোলাপী রাণী মন্ডল শান্তশিষ্ট একটি মেয়ে ফুটফুটে মেয়ে। বয়স মাত্র ১৯ বছর। মান্দা উপজেলার বালাতোর সিদ্দিক হোসেন কলেজের একাদশ শ্রেণিতে পড়াশুনা করতেন।

গোলাপী রাণী জন্মের মাত্র ছয় মাসের মাথায় মা কাজলী রাণী মারা গেছেন। বাবা দীনেশ চন্দ্র মন্ডল গোলাপী রাণীকে রেখে ভারতে চলে গেছেন। এরপর অনেক কষ্টে কাকা দিলিপ মন্ডল ও কাকি সাগরী রাণীর কাছে বড় হন। কাকা দিলিপ মন্ডল ভাতিজি গোলাপী রাণীর সুখের চিন্তা করে চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি অর্থাৎ প্রায় ৭ মাস আগে ধুমধুমে পারিবারিকভাবে একই জেলার পাশ্ববর্তী মান্দায় উপজেলার ছোট মুল্লুক গ্রামের ননী গোপাল সাহার সম্ভু ছেলের সাথে দুলাল সাহার সঙ্গে গোলাপী রানীর বিয়ে দেন।

দিলিপ মন্ডল জানান, বিয়ের সময় যৌতুক বাবদ নগদ ৬ লাখ টাকা, সাড়ে ৪ ভরি স্বর্ণালঙ্কার সহ প্রায় ৭/৮ লাখ টাকা জিনিসপত্রও দেয়া হয়। কিন্তু যৌতুক লোভী দুলাল সাহা ও তার পরিবারের পক্ষের যৌতুকে একটি পালসার মোটর সাইকেল দাবি করে আসছিলেন। সেই দাবি সময় মতো পুরণ করতে না পারায় গোলাপী রানীকে একাধিকবার নির্যাতন করতেন স্বামী দুলাল চন্দ্র সাহা ও তার শ্বশুর ননী গোপাল ও শাশুড়ি বুলু রানী সাহা। এ ছাড়া বিয়ের পর থেকে প্রতিবেশি কারও সাথে গোলাপী রানীকে মেলা-মেশার সুযোগ দিত না স্বামীর পরিবার।

এ নিয়ে তাদের মধ্যে পারিবারিকভাবে বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়। দাবিকৃত মোটর সাইকেল দিতে একটু দেরি হওযায় গত রোববার দুপুর ১টার দিকে স্বামীর সাথে গোলাপী রানীর কথাকাটি শুরু হয়। এক পর্যায়ে গোলাপিকে নিযাতন ও শ্বাস রোধে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় ঘটনার রাতেই থানায় মামলা দায়ের করা হলেও চার দিনেও পুলিশ কোন আসামীদের গ্রেফতার করতে পারেনি। তিনি আরো অভিযোগ করে বলেন, একটি মহল মামলা ভিন্ন খাতে নেয়ার জন্যে বিভিন্ন ভাবে অপচেষ্টা ও এই হত্যাকান্ডকে আত্মহত্যা বলে প্রচার করছে।

মান্দা উপজেলার ছোটমুল্লুক গ্রামের স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য, পল্লী চিকিৎসক ও প্রতিবেশী বিষ্ণ কুমার সাহা জানান, যৌতুকের মোটর সাইকেল নিয়ে তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহের জের চলছিল। এমতাবস্থায় রবিরার দুপুরে তাদের চিৎকার শুনে গিয়ে গোলাপী রানী মুমূর্ষ অবস্থায় গোলাপীকে দেখতে পান। এ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে উপজেলার সাবাইহাট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক গোলাপী রাণীকে মৃত ঘোষণা করেন।

লোভী দুলাল সাহার খালা শেফালি রাণী জানান, তার ভাগিনা মোটর সাইকেল দাবি করে আসলেও গোলাপী রাণীকে নির্যাতন করা হয়নি যৌতুক বলে দাবি করেন। এ ছাড়াও গোলাপী রাণীর স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়ি বাড়ির আছেন বলে জানান। নিহত গোলাপী রাণীর কাকি সাগরী রাণী জানান, এই হত্যার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন।

মান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোজাফফর হোসেন সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানান, নিহতের মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্ত সম্পন্ন করা হয়েছে। নিহতের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে হত্যা নাকি আত্মহত্যা নিশ্চিত হওয়া যাবে। এরপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।