• আজ সোমবার, ২১ অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ ৷ ৬ ডিসেম্বর, ২০২১ ৷

মিতু হত্যাকাণ্ড ও নিজের চাকরি নিয়ে বাবুল আক্তারের খোলামেলা কথা বলা উচিত


❏ বুধবার, আগস্ট ১৭, ২০১৬ আলোচিত বাংলাদেশ

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক –   বাবুল আক্তারের শ্বশুর মোশাররফ হোসেন বলেন, ঘটনা মূল জায়গা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে, সবাই বাবুলের চাকরি নিয়েই মাতামাতি করছে। কিন্তু যে হত্যাকাণ্ডের জন্য এতকিছু তার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে এখনো তেমন কোনো অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না।

babul

তিনি অভিযোগ করে বলেন, মিতু তো পুলিশে চাকরি কিংবা কোন আন্ডারগ্রাউন্ডের সাথেও জড়িত ছিলনা। ছিলনা কারোর সাথে শত্রুতা, তাহলে কেন তাকে হত্যা করা হয়েছিল? পুলিশ-প্রশাসনের পাশাপাশি মিডিয়াও কেন এ বিষয়ে কথা বলছে না। সবাই তো ধীরে ধীরে মুল ট্র্যাক থেকে দুরে সরে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে অনেকটা দুরে সরেও গিয়েছে।

মোশাররফ হোসেন জানান, গত ২৪ জুন তারিখের পর থেকে পুলিশের কোনো কর্মকর্তা মিতু হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি নিয়ে কেউ যোগাযোগ করছে না। ঘটনার পরপরই সবার যেমন আন্তরিকতা দেখেছি সেটা আর দেখা যাচ্ছে না!

বাবুল আক্তারের সফলতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসপি পদোন্নতির সময়ে একমাত্র তারই পোস্টিং হয়েছিল এবং পুলিশের ঊধর্বতন সবাই এ ব্যাপারে সহযোগিতাও করেছিল। অথচ সেই আন্তরিকতা এখন আর দেখা যাচ্ছে না।

দুই নাতী-নাতনীর ভবিষ্যৎ নিয় শঙ্কায় থাকা নানা মোশাররফ বলেন, তার (বাবুল আক্তার) ও তার বাচ্চাদের স্বার্থে চাকরিতে যোগ দেয়া জরুরি হয়ে পড়েছে। আর সে চেষ্টাই আমরা করে যাচ্ছি। বাবুলের চাকরি নিয়ে ধোঁয়াশা ও মিতু হত্যাকাণ্ডের তদন্ত যেভাবে এগুচ্ছে তা নিয়ে আমরা সম্পূর্ণ হতাশাগ্রস্থ। এভাবে চলতে গেলে বাচ্চা দুটির ভবিষ্যৎ জীবনের ওপর বিরুপ প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করেন তিনি।

তিনি জানান, বাবুল যেভাবে পুলিশের একজন এসপি হয়ে দেশ ও দেশের জনগণের কল্যাণে কাজ করে গেছে ঠিক একই ভাবে মিতুও তার হয়ে দেশের সেবায় অংশগ্রহণ করেছে। সেদিক থেকে মিতুর প্রতি পুলিশের পক্ষ থেকে কোন রকম সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। এটা কেন হচ্ছে? পুলিশের নারী কল্যাণ সমিতির পক্ষ থেকে কেউ একবারের জন্যও বাচ্চা দুটির (মাহির ও তাবাসসুম) কোন খোঁজ-খবর তো দুরের কথা এক নজর দেখেও গেল না।

 

তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, পুলিশের এ আচরণে আমরা মর্মাহত।

মোশাররফ হোসেন বলেন, বাবুল পদত্যাগ করছেন বলে যা বলা হচ্ছে তা ঠিক না। একজন সরকারি কর্মকর্তা কিভাবে ছুটির দিনে পদত্যাগপত্র জমা দেন। বাবুল পদত্যাগপত্র কার কাছে জমা দিয়েছে সে বিষয়টাও স্পষ্ট না। অন্যদিকে পুলিশের পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছিল বাবুল এখনো চাকরিতেই আছেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বেসরকারি একটি টেলভিশন চ্যানেলের টক-শোতে বলেছিলেন, বাবুলের স্বেচ্ছায় পদত্যাগপত্র স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ে রয়েছে। সেটি বিবেচনাধীন।

যদিও সম্পূর্ণ বিষয়ে নিয়ে বাবুল আক্তারের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

গত ৫ জুন সকালে ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে যাওয়ার সময় চট্টগ্রামের জিইসি এলাকায় গুলি ও ছুরিকাঘাতে খুন হন বাবুলের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু। এহত্যাকাণ্ডের পর তার স্বামী বাবুল আক্তার বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় তিন ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা করেন।

স্ত্রী খুন হওয়ার পর থেকে দুই শিশুসন্তানকে নিয়ে রাজধানীর খিলগাঁওয়ের ভুঁইয়াপাড়ার শ্বশুরবাড়িতেই আছেন পুলিশ সুপার বাবুল আক্তার। তার শ্বশুর মোশাররফ হোসেন অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা। বাবা আবদুল ওয়াদুদ মিয়াও পুলিশে চাকরি করেছেন।