🕓 সংবাদ শিরোনাম
  • আজ বৃহস্পতিবার, ২৪ অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ ৷ ৯ ডিসেম্বর, ২০২১ ৷

মঠবাড়িয়া থেকে হারিয়ে যাচ্ছে দেশি ফল “জাম”


❏ বৃহস্পতিবার, আগস্ট ১৮, ২০১৬ দেশের খবর, বরিশাল

এস এম আকাশ, মঠবাড়িয়া প্রতিনিধি: “ঝড়ের দিনে মামার দেশে আম কুঁড়াতে সুখ, পাকা জামের শাখায় চড়ে রঙিণ করি মুখ” পল্লী কবি জসিম উদ্দিন এর লেখা এই কবিতার মতো আমাদের শিশুরা বাস্তবে এখন আর মামা বাড়ি গিয়ে মুখ রঙ্গিন করার সুযোগ পাচ্ছেনা। কারন জাম গাছ এখন খুঁজেই পাওয়া যায়না। অপ্রিয় হলেও সত্যি দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মতো মঠবাড়িয়া থেকেও হারিয়ে যাচ্ছে দেশি ফল জাম। প্রিয় এই ফল এখন চলে গেছে দামি ফলের তালিকায়।

jam

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার সর্বত্র এক সময় প্রচুর জাম গাছ চোখে পড়লেও এখন তেমন দেখা যায় না। তাই অত্যন্ত ঔষধি গুণসম্পন্ন পাকা জামের মধুর রসে এখন আর মুখ আগের মতো রঙিন হয় না। নির্বিচারে বৃক্ষ নিধনই এর প্রধান কারন।

গবেষণায় দেখা গেছে, এই ফল স্মৃতিশক্তি বাড়াতেও সাহায্য করে। ফলটিতে প্রচুর অ্যান্টি অক্সিডেন্ট রয়েছে যা ফ্রি র‌্যাডিক্যালস তৈরিতে বাঁধা দেয়। এই ফ্রি র‌্যাডিক্যালস ক্যান্সারের জন্য দায়ী। জাম রক্তের শর্করা ও কোলস্টেরলের মাত্রা কমায়।

আয়ুর্বেদ শাস্ত্রমতে, বিশেষ করে জামের বীজ ডায়াবেটিস রোগীদের রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। জামে প্রচুর আঁশ রয়েছে যা হৃদরোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে। জাম রক্ত পরিষ্কার করতে সহায়তা করে। শরীরে দূষিত কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা কমিয়ে দেহের প্রতিটি প্রান্তে অক্সিজেন পৌঁছে দেয়। জাম বার্ধক্য প্রতিরোধে সহায়ক। জামে স্যালিসাইলেট নামক এক ধরনের উপকরণ আছে যা ব্যথানাশক হিসেবেও কাজ করে। ডায়াবেটিসের রোগীরা মৌসুমে প্রতিদিন ৮-১০টি জাম খেলে দারুন উপকার পাবেন।

বাংলাদেশে প্রধানত দুই জাতের জাম পাওয়া যায়। ক্ষুদি জাত- খুব ছোট এবং মহিষে জাত- বেশ বড় ও মিষ্টি। এটি বর্ষাকালে পাওয়া যায়। ফলের গা কালো এবং খুব মসৃণ পাতলা আবরণযুক্ত। ফলের বহিরাবরণের ঠিক নিচ থেকেই গাঢ় গোলাপী রংয়ের টক মিষ্টি শাস। জামে বেশি পরিমাণে ভিটামিন এ এবং সি আছে। জাম গাছের কাঠ অত্যন্ত শক্ত। কাঠ দিয়ে আসবাবপত্র ও ঘরের জানালা-দরজা তৈরি করা হয়। প্রতি কেজি জাম ১৫০/২০০ টাকা দরে বিক্রি হয়।

মঠবাড়িয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মনিরুজ্জামান সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানান, আমরা সবাই যদি নিজেদের বাড়িতে এবং প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কমপক্ষে একটি করে জাম গাছ রোপণ করি তাহলেই কবির কবিতা সার্থকতা পাবে। ইতি মধ্যে উপজেলার ১১ টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার প্রতিটি ইউনিয়নের ২টি শিক্ষা প্রতিস্থানে ৫টি করে জামের চারা রোপণের জন্য বিতরণ করেছি। তিনি আরও বলেন, আসুন আমাদের শিশুদের জন্য হলেও এই বর্ষাতেই অন্তত একটি করে জাম গাছ লাগাই।