🕓 সংবাদ শিরোনাম

শিশুকে ডায়াবিটিস থেকে দূরে রাখতে কী কী সতর্কতা অবলম্বন করবেনদক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াকে তৈরি থাকার বার্তা দিল ”হু”বুড়িগঙ্গায় ’সাকার ফিশ’র দখলে, হুমকিতে দেশীয় মাছরোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির থেকে ধারালো অস্ত্রসহ আটক-৫করতোয়ার তীরে নিথর পড়ে ছিলো মস্তকহীন নবজাতক!গাজীপুরে দুই শিশুকে ‘হত্যার’ পর ফ্যানে ঝুলে আত্মহত্যার চেষ্টা মা’য়ের!ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদ: জাহাজ চলাচল বন্ধ; সহস্রাধিক পর্যটক আটকা সেন্টমার্টিনেআখেরী মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হলো নীলফামারীর তিনদিন ব্যাপী ইজতেমাবঙ্গবন্ধুর শাসনব্যবস্থা নিয়ে গবেষণা করতে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রীর আহ্বানভোটে হেরে ক্ষোভ মেটাতে রাস্তায় বেড়া দিলেন প্রার্থী, ভোগান্তিতে পুরো গ্রাম!

  • আজ রবিবার, ২০ অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ ৷ ৫ ডিসেম্বর, ২০২১ ৷

ধর্মঘটে অচল জবি, যানজটে পুরান ঢাকা


❏ বৃহস্পতিবার, আগস্ট ১৮, ২০১৬ Breaking News, শিক্ষাঙ্গন, স্পট লাইট

জবি প্রতিনিধি- পুরনো ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে আবাসিক হল দাবিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বৃহস্পতিবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটকে তালা লাগিয়ে দিয়েছে। সেখানে তারা আগুন জ্বেলে সড়ক অবরোধ করে ধর্মঘট পালন করছেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ে অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে।indexপ্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করে সকালে শিক্ষার্থীরা মূল ফটকসহ তিনটি ফটকে তালা লাগিয়ে দেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি প্রশাসনিক ভবনের প্রধান ফটকেও তালা লাগানো হয়। পরে তারা মূল ফটকের সামনে অবস্থান এবং আগুন জ্বেলে সড়ক অবরোধ করে। এর ফলে কোনো শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী ভেতরে ঢুকতে পারেননি। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো বিভাগেই ক্লাস ও পরীক্ষা হচ্ছে না।

এছাড়া ধর্মঘটের কারণে সদরঘাট থেকে রায়সাহেব বাজারের মোড় পর্যন্ত পুরো রাস্তা অচল হয়ে পড়েছে। এর প্রভাবে রাজধানীর অন্য সড়কেও দেখা দিয়েছে যানজট।

আজ বিভিন্ন বিভাগের ফাইনাল পরীক্ষা হওয়ার কথা থাকলেও শিক্ষার্থীরা একযোগে পরীক্ষা ও ক্লাস বর্জন করে আন্দোলনে যোগ দেন। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার কেরানীগঞ্জে স্থানান্তরের পর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা সেখানে হল নির্মাণের দাবি করে আসছে।

এরই অংশ হিসেবে নতুন হল নির্মাণের সুস্পষ্ট ঘোষণা এবং পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারের জমি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে হস্তান্তরের দাবিতে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ধর্মঘট পালন করছেন শিক্ষার্থীরা।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জানান, সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের নেতা কর্মীরা।

আন্দোলনকারীরা জানান, আবাসিক হল তাদের অধিকার, এই অধিকার থেকে বঞ্চিত তারা। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে যতবার এই দাবিতে আন্দোলন হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ‘আশ্বাস’ দিয়ে তা ঠেকিয়েছে। তাদের আশ্বাসের বাস্তবায়ন হয়নি। এবারও যৌক্তিক দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে আন্দোলন থেকে সরে আসবেন না। তারা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

আরও জানান, ১১ বছরেও একজন শিক্ষার্থীর আবাসনের ব্যবস্থা করতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ঢাকা শহরে ব্যাচেলর বাসা ভাড়া পাওয়াসহ নানা হয়রানির শিকার তারা। এসব সমস্যার একমাত্র সমাধান হলো আবাসনের ব্যবস্থা করা। শিক্ষার্থীদের কষ্টের বিষয়গুলো যদি ভালোভাবে প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ উপস্থাপন করে, তাহলে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে আবাসন সমস্যার সমাধান হবে বলে বিশ্বাস করেন শিক্ষার্থীরা।

এদিকে এ আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৮ আগস্ট জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৮তম জরুরি একাডেমিক সভায় কেন্দ্রীয় কারাগারের পরিত্যক্ত জমি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে স্থায়ীভাবে দিতে একাডেমিক কাউন্সিল সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে একাডেমিক কাউন্সিলের সদস্যরা শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হয় এমন কর্মসূচি থেকে সরে আসার আহ্বান জানায়।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা একাডেমিক কাউন্সিলের আহ্বানে সাড়া না দিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। তারা বলছেন, এবার তারা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আশ্বাসের কাছে থেমে যাবেন না। কারণ, বারবার তাদের আশ্বাস দিয়ে প্রতারণা করা হয়েছে। এবার আশ্বাস নয়, হল নির্মাণের সুস্পষ্ট ঘোষণা চান তারা।

এদিকে এ কর্মসূচি ঘিরে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।