উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতি রোধে প্রতিনিধি রাখার পরিকল্পনা দুদকের


❏ বৃহস্পতিবার, আগস্ট ১৮, ২০১৬ Breaking News, জাতীয়

সময়ের কণ্ঠস্বর – দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ জানিয়েছেন, দুর্নীতি রোধে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে দুদক প্রতিনিধি রাখার চিন্তা ভাবনা করা হচ্ছে।

রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে দুদকের কৌশলগত কর্মপরিকল্পনা ২০১৬-২০২১ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় বৃহস্পতিবার দুপুরে তিনি একথা জানান।

ইকবাল মাহমুদ বলেন, সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে যাতে দুর্নীতি না হয় সেজন্য কিছু কিছু প্রকল্পে দুদকের প্রতিনিধি রাখার চিন্তাভাবনা করছি। যাতে দুদকের প্রতিনিধি প্রকল্প সংশ্লিষ্ট দরপত্র, কাজের প্রক্রিয়া ও জনগণের পারসেপশন ইত্যাদি বিষয় পর্যবেক্ষণ করতে পারে।

তিনি বলেন, আমরা চাই দুর্নীতি ঘটার আগেই বন্ধ করতে। অর্থাৎ প্রতিরোধের উপর জোর দিতে চাই। মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করে দুর্নীতি বিষয়ে প্রতিরোধ করতে চাই। যাতে মানুষের মধ্যে এ বিষয়ে জাগরণ সৃষ্টি হয়।

iqbal-mahamudul

সরকারি কর্মকর্তাদের সম্পদের হিসাব দেওয়া প্রসঙ্গে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, সরকারের একটি নিয়ম রয়েছে প্রতি ৩ বছর পর পর সম্পদের হিসাব দেওয়া। আজকের মতবিনিময় সভায়ও উন্নয়ন সহযোগীদের বক্তব্যে একথা উঠে এসেছে। যা অত্যন্ত ভালো দিক। বিষয়টি দুদক পর্যবেক্ষণ করছে। তবে দুদকের একার পক্ষে শতভাগ বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, আমরা আমাদের সীমাবদ্ধতা, আমাদের লোকবল ও কাজের পরিধি সম্পর্কে অবগত আছি। আমরা জানি আমাদের সীমাবদ্ধতা কোথায়। এজন্য চাচ্ছি দুদকের সকল কর্মকাণ্ডে সরকার ও জনগণকে সম্পৃক্ত করে আমাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে। আমরা চাই আমাদের সিস্টেম পরিবর্তন করতে। যখন সিস্টেম কাজ না করে তখনই দুর্নীতি হয়।

দুদকের নিজস্ব সশস্ত্র ইউনিট প্রসঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান বলেন, দুদকের নিজস্ব ইউনিট প্রয়োজন। পুলিশ আমাদের সব সময় সহযোগিতা করে। তবে পুলিশের এত কাজ যে অনেক সময় ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও সময় দিতে পারে না। এজন্য দুদকের নিজস্ব বাহিনী দরকার। তবে এর সঙ্গে আর্থিক ও আইনী বিষয় জড়িত। আইন আমাদের সমর্থন করে। আমরা আশা করছি এর বাস্তবায়ন করতে পারব।

মতবিনিময় সভায় সূচনা বক্তব্য রাখেন দুদক কমিশনার এফ এম এ আমিনুল ইসলাম।

সভায় দুদক কমিশনার (অনুসন্ধান) ড. নাসির উদ্দিন আহমেদ, দুদক সচিব আবু মো. মোস্তফা কামাল, বাংলাদেশে বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর কিমিআও ফান, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার (বাংলাদেশ) রুবায়েত জেসমিন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা, জাইকা, এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।