রাজবাড়ীতে ব্যাপক নদী ভাঙ্গনে গৃহহীন পরিবারের সংখ্যা বেরেই যাচ্ছে, পাল্টে যাচ্ছে কয়েকটি ইউনিয়নের মানচিত্র


❏ বৃহস্পতিবার, আগস্ট ১৮, ২০১৬ ঢাকা, দেশের খবর

খন্দকার রবিউল ইসলাম, রাজবাড়ী প্রতিনিধি: রাজবাড়ী সদর উপজেলার সবচেয়ে বড় মিজানপুর ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর, মহাদেবপুর চর জৌকুরী ও বরাট ইউনিয়নের উড়াকান্দা দেওয়ানবাড়ী ও নয়ন সুখ এবং গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নে এলাকায় পদ্মার পানি কমার সাথে সাথে নদীর তীব্র স্রোতের কারনে বেশ কয়েকটি গ্রামের ১ হাজাররের বেশি বশত বাড়ীঘর নদীগর্বে বিলিন হয়ে গেছে।

nodi-gorva

এলাকায় বর্ষা মৌসুম শেষ হওয়ার আরো ২ মাস বাকি শুরু হয়েছে ব্যাপক নদী ভাঙ্গন। ইতো মধ্যেই নদীর করাল গ্রাসে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে শত শত একর ফসলি জমি, ২ শত বছরের ও অধিক পুরাতন মসজিদ, কবর স্থান। বহু পরিবার হারিয়েছে তাদের পৌতৃক বসত ভিটা।  প্রতি বছর নতুন নতুন গ্রাম নদী গর্ভে বিলিন হচ্ছে।

এ ভাঙ্গরেনর কারন হিসাবে স্থানীয়রা বলেন, নদী থেকে অবৈধ ভাবে বালু উঠানোর কারনে প্রতি বছর আমাদের এ ভাঙ্গনের কবলে পরতে হয়। হাই কোটের নিদেশনা থাকা সত্তেও অবাদে বালু উত্তলন করে যাচ্ছে একটি মহল এভাবে বালু কাটা আর আমাদের মত নদী কিনারের মানুষকে গলা কেটে মেরে ফেলা একই কথা। নদী থেকে অবৈধ ভাবে যে বালু তুলে রাস্তার পাশে পাহারের মত বড় বড় টিলা বানিয়ে রেখেছে বালু ব্যবসায়ীরা এতে যেমন বাড়ছে ভাঙ্গন তেমনি বালু রাখার কারনে আসে পাসের বাড়িঘর গুলোতে বসে ভাত খাওয়া কষ্ঠকর হয়ে পরেছে। পদ্মার ঢেউ এসে আছড়ে পড়ছে ওই নদীর পাড়ে থাকা বাড়ির ডোওয়ায়।

রামচন্দ্রপুর গ্রামের মোঃ নরুল ইসলাম বলেন, বিগত কয়েক বছর ধরে পদ্মা নদীর ভাঙ্গনের কারনে গত বছর এক মাত্র স্কুলটি নদী গর্ভে বিলিন হয়ে যাবে এ আশংখায় নিলামে বিক্রি করে দেওয়া হয়। গত বছরের মত এবারো ব্যাপক নদী ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। এবার আমাদের ২শত বছরের ও অধিক পুরাতন মসজিদ, কবর স্থান নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। রাম চন্দ্রপুর, চর জৌকুড়ী, মহাদেবপুর গ্রামের ৩ কিঃ মিঃ গ্রাম। গৃহহীন হয়ে পরেছে শত শত পরিবার।

ক্ষতিগ্রহস্থ রামচন্দ্রপুর গামের মমতাজ বেগম বলেন, নদী পাড়ে আমাদের বাড়ি আমরা রাতে ভয়ে ঘুমাতে পারি না কারন যে কোনো সময় ডাকাত এশে গরু ছাগল এমনকি ডাইল চাউল নিয়ে যায়। নদী কাছে হওয়ায় ডাকাতদের শুবিদা হয়। আমরা কোথায় যাবো আমাদের যাওয়ার কোনো যায়গা নেই। যে টুকু আছে নদীতে চলে গেলে রাস্থায় গিয়ে উঠতে হবে।

ক্ষতিগ্রহস্থ একাধীক এলাকাবাসী বলেন, ৩ মাস আগে অর্থাত মে মাসের প্রথম দিকে পদ্মা নদীতে পানি বৃদ্ধি শুরু হয়। কিন্তু এ পর্যন্ত ভাঙ্গন রোধে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। সে কারনে নদী গর্ভে বিলিন হতে থাকে মসজিদ, কবর স্থান, গাছপালাসহ বসত বাড়ি ঘর।

নরুল ইসলাম মোল্লা, পান্না মিয়া সহ একাধীক গ্রামবাসী দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, গত ৩ মাস ধরে নদী ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। এ পর্যন্ত নদী ভাঙ্গন এলাকা দেখতে কোনো জনপ্রতিনিধি আসেনি। এ কারনে ক্ষতিগ্রহস্থদের হাতে সরকারী কোনো সহযোগিতা ও পায়নি। তারা আরো বলেন, নদী ভাঙ্গনে জনপ্রতিনিধিদের না পেলে কি লাভ। ভোটের আগে দিন রাত ধরে আমাদের আশে পাশে গুরা গুরি করে। এমন কি রাতে গুমাতে দেয় না অন্তত এ সময় টুকুতো তাদের কাছে পায়। ভোটের আগে জনপ্রতিনিধিরা কতো না প্রতিশ্রুতি দেয়। আবার ভোট শেষ হয়ে গেলে তাদরে খুজেও পাওয়া যায় না। প্রতি ৫ বছর পর তাদের প্রতিফলন ঘটে। কি জনপ্রতিনিধি ৫ বছর পরে মনে পরে ভোটারদের কথা।

গত ১০/১৫ দিন ধরে ভাঙ্গন তীব্র আকার ধারণ করেছে। ইতোমধ্যেই মসজিদ এর সাথে থাকা কাঁচা রাস্তা ভেঙ্গে নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। নদী ভাঙ্গন রোধে ব্যবস্থা গ্রহন করার জন্য জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। এ ভাঙ্গনের কারনে বন্ধ হয়ে গেছে কয়েকটি স্কুল তাই স্কুলে অধ্যায়নরত শিক্ষার্থী স্কুলে যেতে পারছে না। সহায় সম্বলহীন পরিবারের মানুষ গুলো আশ্রয়ের জন্য ছুটে বেরাছ্নে কেউ যাচ্ছেন আত্বীয় স্বজনের বাড়ী আবার কেউ উঠেছেন রাস্তাঘাট, স্কুল, বেরিবাধের উপর।

মানুষ এখন ভিটে মাটি ছারা অনাহারে দিন কাটাচ্ছে তাদের। এদের দেখার কেউ নেই কিন্তু কয়েক মাস আগেই হলো ইউনিয়ন নির্বাচন হয়েছে নির্বাচনে নেতারা কত কথায় না বলেছেন আমাকে ভোটদেন আমি আপনাদের সেবা করবো আজ মানুষ গুলো বড় অশহায়। এ মানুষ গুলো এখন শুধু বলছে কোথায় গেলো সেবা করার নেতারা..?

রাজবাড়ী সদর উপজেলার উড়াকান্দা এলাকায় পদ্মার পানি কমার সাথে সাথে নদীর তীব্র স্রোতের কারনে উড়াকান্দার দেওয়ানবাড়ী ও নয়ন সুখ গ্রামের ৫শত ও বাড়ীঘর ইতমধ্যে বিলিন হয়ে গেছে। উড়াকান্দা ও নয়ন সুখ এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় গত কয়েক দিনের ভাঙ্গনে কমপক্ষে চারশত বাড়ীঘর বিলিন হয়ে গেছে এবং বেরিবাধ সহ বেরিবাধের বাহিরে থাকা প্রায় আরো একহাজার পরিবার নদী ভাংগনের হুমকির মুখে রয়েছে।

ডাক্তার বাচ্চু মোল্লাঃ- উড়াকান্দা গ্রামের ডাক্তার বাচ্চু মোল্লা জানান, আমাদের এই গ্রামের মানুষ গুলো সহায় সম্বল হীন হয়ে পরে আছে। এদের দেখার কেউ নাই, এদের বাড়ীঘর, গরু,ছাগল,গাছ পালা, সব নদীতে বিলিন হয়ে যাচ্ছে, সরকার এসকল মানুষের জন্য যদি জনপ্রতিনিধিরা সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে না দেন তাহলে এই মানুষ গুলো অনাহারে মারা যাবে। ডাক্তার বাচ্চু মোল্লা বলেন পানি উন্নয়ন বোর্ড যদি আগে থেকে ভাংগনরোধে ব্যবস্থা নিত তাহলে এই এলাকার একটি বাড়ীও নদী গর্বে যেত না।

উড়াকান্দা গ্রামের ৩নং ওয়াডের মেম্বার শহিদ মেল্লা জানান, আমার বসতো ভিটা নদীতে গর্বে বিলিন হয়ে গেছে। তার যেটুকু সম্বল ছিল তাই নিয়ে উঠেছেন পূর্ব উড়াকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে নদী সংলগ্ন এলাকায়। অসহায়ের মত মা, বোন, স্ত্রীকে নিয়ে তাবু টানিয়ে কাটাচ্ছেন দিনগুলো। সে আরো বলেন দশ কেজি চাউল ছাড়া আর কিছুই পাননি সুজন মিয়া।

ভাংগন কবলিত এলাকার মানুষের জীবন যে কত কষ্টের কত অসহায় ভাবে মানবেতর দিন কাটছে তা না দেখলে বোঝার উপায় নাই। ভাংগনে বিলিন হওয়া অবস্হার চিত্র তুলতে গীয়ে পড়তে হল বিড়ম্বনায়, নদীতে বিলিন হওয়ার ভয়ে দুটি টিন শেডের ওয়াল করা বাড়ী ভেংগে নিয়ে যাচ্ছেন বাড়ীর মালিক জয়নাল মন্ডল, তিনি বলেন ছবি তুলে আর লাভ কি, নদীতেই যখন সব নিয়ে গেল তখন আপনারা কোথায় ছিলেন, সরকার কত কাজ করে অথচ আমরা যারা নদী ভাংগনের কবলে পরে মারা যাচ্ছি আমাদের দেখার সময় নাই সরকারের।

রাজবাড়ী শহর রক্ষা বেড়ীবাদ রয়েছে চরম ঝুকির মধ্যে যে কোন সময় ভেঙ্গে যেতে পারে বাদ এমনটাই বলছে স্থানীয়রা। তবে এখনো নদী ভাঙ্গন রোধ কল্পে কোন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি।