🕓 সংবাদ শিরোনাম

দু’সপ্তাহের মধ্যেই শিশুদের কোভিড টিকাকরণ, সিদ্ধান্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নেবাড়িতে লুকিয়ে রাখা ৪৭ ভরি স্বর্ণসহ তিন রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ আটকফিরে দেখা; ইতিহাসে আজকে এই দিনের উল্লেখযোগ্য ঘটনা প্রবাহশীতে অপরূপ লাল শাপলার ডিবির হাওরময়মনসিংহ শহরের ভেতরেই রেলক্রসিং: প্রতিদিন ৮ ঘন্টা যানজটবিজয়ের ৫০ বছরে ওয়ালটন ল্যাপটপ ও এক্সেসরিজে ৫০% পর্যন্ত ছাড়মাইকিং করে ২গরু জবাই করল পরাজিত প্রার্থী, দাওয়াতে এলো না কেউ!সুনামগঞ্জে আফ্রিকা ফেরত প্রবাসীর বাড়িতে লাল পতাকাতদন্ত কর্মকর্তাসহ ৬৫ জনের সাক্ষ্য-জেরায় সাক্ষ্যপর্ব সমাপ্তবিকৃতমনা মাদ্রাসা শিক্ষকের লালসার শিকার অসহায় এক কিশোরের জবানবন্দী!

  • আজ বৃহস্পতিবার, ১৭ অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ ৷ ২ ডিসেম্বর, ২০২১ ৷

উখিয়া হাসপাতালে ডাক্তার নেই: রোগীদের ত্রাহী অবস্থা


❏ বৃহস্পতিবার, আগস্ট ১৮, ২০১৬ চট্টগ্রাম, দেশের খবর

ইমরান জাহেদ, কক্সবাজার: সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত সময় অপেক্ষা করেও দেখা মেলেনি সরকারি কোন ডাক্তারের। ইনডোরে ভর্তিকৃত ৪৬জন রোগীও এসময় পর্যন্ত কোন ডাক্তার দেখেনি বলে অভিযোগ উঠেছে। সরকারি সরবরাহের কোন ওষুধ নেই এখানে ৬ মাসাধিকাল ধরে। আউটডোরে দূর-দুরান্ত থেকে চিকিৎসা সেবার আশায় শত শত রোগী আসলেও বিনা চিকিৎসায় ফেরত যেতে দেখা গেছে অনেককে। স্বাস্থ্য কেন্দ্রে সরকারি ভাবে নিয়োগকৃত চিকিৎসক থাকলেও কর্মস্থলে কাউকে দেখা যায়নি। এনজিও নিয়োগকৃত ডাক্তারদের মর্জি উপর নির্ভর করছে চিকিৎসা সেবা। ফলে উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও চিকিৎসা সেবার মারাত্মক অবনতি হলেও দেখার কেউ নেই। গতকাল বৃহস্পতিবার উখিয়া স্বাস্থ্য কেন্দ্র ঘুরে এসব চিত্র প্রতিয়মান হয়।

রোগী সাধারণের অভিযোগ, গতকাল সকাল সাড়ে ১০টায় আউটডোরের টিকেট হাতে শত শত মহিলা, পুরুষ ও শিশু রোগী হাসপাতাল করিডোরে অপেক্ষা করছে ডাক্তারের আশায়। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসময় আউটডোরে রোগী দেখার কথা সরকারি বেতন ভুক্ত ডাক্তার আরিফা মেহের রুমি, ডাক্তার মোছাম্মৎ কমলিকা ও ডাক্তার সাবরিনা নূর, স্বাস্থ্য কর্মকর্তা রবিউর রহমান রবি সহ ৪ জনের। অথচ সরকারি চিকিৎসকদের কোন অস্থিত্ব খুঁেজ পাওয়া যায়নি। তদ্স্থলে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা বা আইওএম নিয়োজিত ডাক্তার সুমেন বিশ্বাস, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্টের ডাক্তার এনামুল হক ও এল এল পির ডাক্তার রাজীব বড়–য়া দায়িত্ব পালন করলেও যথাযথ চিকিৎসা সেবা পাওয়া যাচ্ছে না বলে হাসপাতালের আউটডোর ইনডোরে অপেক্ষমান একাধিক রোগী অভিযোগ করে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।

আউটডোরের কর্তব্যরত চিকিৎসক এল এল পি প্রকল্পের নিয়োগকৃত ডাক্তার রাজীব বড়–য়া জানান, তিনি সারা রাত স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ইর্মাজেন্সিতে দায়িত্ব পালন করেছেন। আবার দিনেও বাধ্য হয়ে আউটডোরে রোগী দেখতে হচ্ছে যা খুবই অমানবিক। রেড ক্রিসেন্টের ডাক্তার এনাম জরুরী বিভাগে বসে গুরতর রোগীদের পাশাপাশি সাধারণ রোগীও দেখছেন। আইওএম নিয়োগকৃত ডাক্তারেরও একই অবস্থা। চিকিৎসার অপেক্ষায় থাকা রোগী আলমাছ খাতুন (৫৫), বাদশা মিয়া (৪৭) সহ অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ফি দিয়ে টিকেট নিয়েছি ডাক্তার দেখাবো আশায়। কিন্তু দেখা গেছে ডাক্তারের স্থলে চিকিৎসা দিচ্ছে ডেন্টাল টেকনেশিয়ান। এ হাসপাতালে এনজিও নিয়োগকৃত চিকিৎসক থাকলেও তারা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার আদেশ নির্দেশে কোন তোয়াক্কা করছে না বলে একাধিক কর্মচারী অভিযোগ করে জানায়। যার ফলে অধিকাংশ রোগীদের চিকিৎসা সেবা না নিয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে।

হাসপাতালে ইনডোরে ডায়রিয়া আক্রান্ত ভর্তিকৃত স্থানীয় সাংবাদিক রতন দে’র স্ত্রী জানান, এ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে এমনিতে চিকিৎসক সংকট উপরোন্ত ওষুধ, সুই, গজ, ব্যান্ডেজ, ট্যাবসহ সবকিছু বাইরে থেকে কিনে এনে দেওয়ার পরও ঠিকমত চিকিৎসা সেবা পাওয়া যাচ্ছে না।সে আরো জানায়, সরকারি দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বা চিকিৎসকদের অনুপস্থিতির কারণে এনজিও নিয়োগকৃত চিকিৎসকগুলো তাদের মর্জি মাফিক চিকিৎসা সেবা দিলেও দিচ্ছে না দিলেও নাই।

স্বাস্থ্য কেন্দ্রের একাধিক কর্মচারী ও রোগীদের অভিযোগ ঠিকাদারের সরবরাহকৃত খাবার নিম্নমানের হওয়ার কারণে অধিকাংশ রোগী বাড়ী থেকে অথবা হোটেল থেকে খাবার সংগ্রহ করতে হয়। এই অভিযোগ ভর্তিকৃত প্রায় সব রোগীর। মহিলা ওয়ার্ডের রোগী মরিয়ম খাতুন (২৮), শিশু ওয়ার্ডের নিউমোনিয়া আক্রান্ত শিশু ফরহাদের মা কুলসুমা জানায়, বুধবার রাতে ডাক্তার এসে খোঁজ নেওয়ার পর গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত কোন রোগীকে দেখতে কোন ডাক্তার আসেনি। যদিও হাসপাতালের দেওয়ালে ভর্তিকৃত রোগীদের দৈনিক ৩ বার পালাক্রমে আবাসিক মেডিকেল অফিসার বা আরএমও নিয়মিত চেকআপ বা ফলোআপ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ভর্তিকৃত রোগী ইমাম শরীফ জানায়, স্বাস্থ্য কেন্দ্রে বেশ কয়েকদিন অবস্থান করার পরও শরীরের উন্নতি হয়নি। অন্যত্রে চলে যাওয়ার ইচ্ছা করলেও স্বাস্থ্য কর্মকর্তার ছাড়পত্র না পাওয়ার কারণে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জানুয়ারী মাসের শেষের দিকে কক্সবাজার সিভিল সার্জন অফিসের স্টোর থেকে সর্বশেষ ওষুধ সামগ্রী আনা হলেও উখিয়া হাসপাতালের স্টোর কিপার ব্যয় বিল না পাওয়ায় তিনি ওষুধ সরবরাহ আনছেন না। স্টোর কিপার মোহাম্মদ আলী বলেন, কক্সবাজার থেকে ওষুধ সামগ্রীর আনার পরিবহন, শ্রমিক, ভ্যাট ও অন্যান্য আনুসাঙ্গিক ব্যয়ের অতীত ৬ মাসের প্রায় ২৪ হাজার টাকা বিল দাখিল করলে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা তা কাট ছাট করে ৬ হাজার টাকা অনুমোদন দেয়, যা দিয়ে ওষুধ আনা নেওয়া তার পক্ষে মোটেই সম্ভব নয়। তারপরও সিভিল সার্জনের নির্দেশে গতকাল বৃহস্পতিবার ওষুধ সামগ্রী আনা হয়েছে বলে তিনি জানান।

উখিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নাম প্রকাশে অনিচ্ছিুক অনেক কর্মচারী জানায়, আমাদের বলার থাকলেও তা সম্ভব হয়না। এখানে ডাক্তারদের ডিউটি কার্যতালিকা থাকলেও তা কেউ মানতে চাই না। সব ডাক্তার নিজেদের সুবিধা মতে ডিউটি করতে চাওয়ায় কার্যত কার্যতালিকা অকার্যকর হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি সরকারি ও এনজিও চিকিৎসকদের সমন্বয়হীনতার কারণে স্বাস্থ্য সেবার মান দিন দিন অবনতি হচ্ছে। গতকাল আরএমও ডাক্তার রবিউর রহমান রবি’র সাথে যোগাযোগ করার জন্য মোবাইল ফোনে বেশ কয়েকবার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। একই অবস্থা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ডাক্তার আব্দুল মাবুদের।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মাঈন উদ্দিন জানান, উখিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপনা ও অন্যান্য বিষয়ে লোকজনের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। আমরা নিজেরা এ ব্যাপারে বিব্রত। এ ব্যাপারে কক্সবাজার সিভিল সার্জন ডাক্তার পু চ নু’র সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, চট্টগ্রামের একটি কনফারেন্সে রয়েছেন। পরে ফোন করার আশ্বাস্ত করলেও তিনি যোগাযোগ করেনি। ভোক্তভোগী উখিয়ার প্রায় আড়াই লাখ জনসাধারণের স্বাস্থ্য সেবার একমাত্র ভরসা স্থল এ হাসপাতালের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনাসহ চিকিৎসা সেবার মান দিন দিন অবনতি হচ্ছে বলে এলাকার সচেতন মহলের অভিযোগ। এব্যাপারে প্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপ দাবী করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।