চীন ও রাশিয়াকে মোকাবেলা করতে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ‘স্মার্ট’ বোমা


❏ শুক্রবার, আগস্ট ১৯, ২০১৬ আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক –  সর্বাধুনিক প্রযুক্তির ‘স্মার্ট ট্যাকটিকাল নিউক্লিয়ার ওয়েপনের’ ব্যাপারে ওয়াশিংটনের সবুজ সঙ্কেত যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চীন ও রাশিয়ার নতুন পারমাণবিক প্রতিযোগিতার সঙ্কেত হতে পারে বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকেরা।

কয়েক দশক ধরে চীন ও রাশিয়া একই ধরনের পারমাণবিক অস্ত্রসমৃদ্ধ করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে চীনা বিশেষজ্ঞরা এ ক্ষেত্রে স্নায়ুযুদ্ধের পরিস্থিতিকে মাথায় রাখছেন। কারণ স্নায়ুযুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্রের সাথে পাল্লা দিতে ব্যর্থ হয়েছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন।

smart-boma

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন এই স্মার্ট ট্যাকটিকাল নিউক্লিয়ার ওয়েপনের নকশা করা হয়েছে মিত্র দেশগুলোর পাশেরি এলাকা কিংবা প্রতিযোগিতামূলক মিত্র-ভূখণ্ডে নিয়োজিত সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীকে সমর্থন দেয়ার জন্য। বি৬১-১২ নামক নতুন এই অস্ত্রটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম ‘স্মার্ট’ পারমাণবিক বোমা। ৩৫০ কেজি ওজনের এই বোমাটি ভূগর্ভের কয়েক মিটার গভীরের স্থাপনাতেও আঘাত হানতে পারবে। উচ্চ গতিসম্পন্ন স্টিলথ যুদ্ধ বিমানে বহনযোগ্য এই বোমাটি গণবিধ্বংসী মারণাস্ত্রের বিপরীতে সীমিত আকারে স্থাপনা ও কাছের জনজীবনের ক্ষতি করতে সক্ষম।

চীনা সামরিক বাহিনীর ক্ষেপণাস্ত্র বিভাগের সাবেক প্রশিক্ষক সং ঝংপিং মনে করেন এ ক্ষেত্রে চীনের প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো বহনকারী যান। তিনি বলেন, ‘অন্যান্য পারমাণবিক শক্তিধর দেশগুলোর মতো অনেক বছর আগেই চীন ট্যাকটিকাল নিউক্লিয়ার ওয়েপন (টিএনডব্লিউ) সমৃদ্ধকরণ শুরু করে। তাদের কয়েক দশকের পারমাণবিক প্রযুক্তি রয়েছে। কিন্তু এখন এটি যে প্রতিকূলতার মুখোমুখি হচ্ছে তা হলো. কিভাবে অস্ত্রটিকে নির্ভুল করা যায় এবং কোন ধরনের যানে এটি বহন করা হবে সেটি’। এই বিশ্লেষক স্বীকার করেছেন, এই প্রযুক্তির উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার চেয়ে পিছিয়ে আছে চীন। তবে চীনের কার্যক্রম কোন পর্যায়ে আছ সে ব্যাপারে বিস্তারিত বলতে রাজি হননি তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের জাতীয় পারমাণবিক নিরাপত্তা প্রশাসন চলতি মাসের শুরুতে ঘোষণা দিয়েছে, বি৬১-১২ নামক স্মার্ট পারমাণবিক বোমার চার বছরব্যাপী সমৃদ্ধকরণ ও পরীক্ষা শেষ হয়েছে এবং উৎপাদন সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম চলছে। ২০২০ সালের মধ্যে এটি পূর্ণমাত্রায় উৎপাদন শুরু হবে বলে তারা আশা করছে। প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ঘোষণা করেছেন, ইউরোপের পাঁচটি দেশে এ ধরনের ১৮০টি বোমা মোতায়েন করা হতে পারে। পারমাণবিক ব্যয় কমানোর দাবিতে ১০ জন সিনেটর এই পরিকল্পনার বিরোধিতা করলেও তাদের আপত্তি গৃহীত হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের বি৬১-১২ বোমা উৎপাদনের প্রস্তুতির বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ। তবে ক্রেমলিন এর হুমকির বিষয়টি বিবেচনা করছে বলে জানান তিনি।

সাউথ চায়না মর্নিংপোস্ট