• আজ বুধবার, ১৬ অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ ৷ ১ ডিসেম্বর, ২০২১ ৷

আফসানাকে হত্যাকারী ছাত্রলীগ নেতা রবিন লাপাত্তা !


❏ শুক্রবার, আগস্ট ১৯, ২০১৬ আলোচিত বাংলাদেশ

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক –  আফসানা ফেরদৌস নিহতের ঘটনায় বারবার উঠে আসা নাম ছাত্রলীগ তেজগাঁও কলেজ শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক হাবিবুর রহমান রবিন লাপাত্তা। নিয়মিত কলেজের সব কর্মসূচিতে সরব রবিন গত শনিবার থেকেই কলেজে নেই বলে দাবি করেছেন অন্য রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা। আর কলেজে দাপুটে ও সক্রিয় নেতা রবিনকে এখন আর নিজেদের কেউ বলে স্বীকারও করছে না ছাত্রলীগ।

রবিনকে তেজগাঁও কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি কামারুজ্জামান ছাত্রলীগের কেউ না উল্লেখ করলেও কলেজ ছাত্রলীগেরই কর্মীরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কলেজ কমিটির সাংগাঠনিক সম্পাদক হিসেবেই সক্রিয় রবিন। কলেজ পর্যায়ে কমিটির নাম পাবলিক করা হয় না সাধারণত। সে কারণেই অস্বীকার করা সহজ। আর অন্য রাজনৈতিক দলের কর্মীরা বলছেন, তাকে ঘটনার পর কলেজ প্রাঙ্গণে দেখা না গেলেও, এর আগে প্রতিদিনই তার সরব উপস্থিতি থাকত।

ছাত্র ইউনিয়নসহ অন্য রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা বলছেন, বরিশালের ছেলে রবিন তেজগাঁও কলেজে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই ছাত্রলীগের সাংগাঠনিক কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত। প্রতিদিন ক্যাম্পাসে উপস্থিত থেকে নানা কর্মসূচি ও মহড়ায় থাকার কারণে তিনি পুরো কলেজে পরিচিত মুখ। তাকে চেনে না এমন শিক্ষার্থী কম আছে। তিনি সবসময় দলবল নিয়ে ঘুরতেন।

 উল্লেখ্য, নেতাকর্মীরা এখন অস্বীকার করলেও রবিনের ফেসবুকজুড়ে তেজগাঁও কলেজ ছাত্রলীগ সেক্রেটারি মিথুন ঢালীর সঙ্গে নানা কর্মসূচির ছবি ঘুরে বেড়াচ্ছে।

এরইমধ্যে রবিনের সহযোগীরা ছাত্র ইউনিয়নের কলেজ শাখার ওপর হামলা চালিয়েছে। কলেজ ইউনিয়ন সভাপতি শামীম আহমেদ  বলেন, রবিনকে ছাত্রলীগের প্রতিটি কর্মসূচিতে সক্রিয় দেখেছি। সে নেতৃত্ব পর্যায়ে ছিল এবং প্রতিদিনই ক্যাম্পাসে তার সরব উপস্থিতি ছিল। এরইমধ্যে তাকে ছাত্রলীগের কেউ না বলাটাও রহস্যজনক। তিনি বলেন,  বুধবার (১৭ আগস্ট) আমরা কলেজে ইউনিয়নের টেন্টে বসে ছিলাম। ওই সময় কয়েকজন হুট করে এসে আমাদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি শুরু করে।  পরে মারধর করায় আমদের কয়েকজন গুরুতর আহত হয়।

.

মিঠুন ঢালীর সঙ্গে রবিন.

রাজধানীর শ্যাওড়াপাড়ার একটি বেসরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী আফসানা নিহতের ঘটনায় অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগের এই নেতার বিরুদ্ধে। নিহত শিক্ষার্থী ফেরদৌস আফসানার পরিবারের সদস্যরা এ অভিযোগ করছেন। তারা এ ব্যাপারে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান। এখন পর্যন্ত ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন না পাওয়ায় এটি অপমৃত্যু মামলা হিসেবেই আছে।

শনিবারের হত্যাকাণ্ডের পর রবিবার থেকেই একের পর টেলিফোন কলে আফসানার পরিবারের সঙ্গে রবিনের পক্ষ থেকে তার বন্ধু স্বজনরা যোগাযোগ করলে সন্দেহের তীর তার দিকে ঘুরতে থাকে। আফসানার মা  বলেন, আমরা জানতাম রবিনের সঙ্গে আফসানার গণ্ডগোল চলছিল। বন্ধুরা মিলে সেই গণ্ডগোল কয়েকদিন আগে মিটিয়ে দিলেও আবারও ঝামেলা হয়। আফসানার মৃত্যুর পর থেকে রবির আর তার বন্ধুদের আচরণ দিনকে দিন সন্দেহজনক হয়ে উঠেছে। তার সবকয়টি ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।

ছাত্রলীগের তেজগাঁও কলেজ শাখার সভাপতি কামরুজ্জামান বলেন, ‘তেজগাঁও কলেজের শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রায় কুড়ি হাজার। কেউ যদি ছাত্রলীগের পরিচয় দিয়ে থাকে, তাহলে আমার পক্ষে সেটা বের করা সম্ভব নয়। রবিন আমাদের সংগঠনের কেউ না।’

ফেসবুক প্রোফাইলে কেবল কর্মী নয়, সাংগঠনিক সম্পাদক লেখা আছে জানানো হলে কামরুজ্জামানবলেন, ‘তিনি ছাত্রলীগের কেউ নন। কেউ যদি এমন কর্মের সঙ্গে জড়িত থাকেন, তাহলে আইনিভাবে তার যে বিচার হবে, সেটাতে আমাদের সহযোগিতা পাবেন।’ এদিকে কলেজ শাখার সেক্রেটারি মিথুন ঢালীর সঙ্গে রবিনের বেশি ঘনিষ্ঠতা থাকায় তার সঙ্গে যোগাযোগ করে তাকে পাওয়া যায়নি।

নিহত ব্যক্তির ভাই ফজলে রাব্বী  বলেন, শেরেবাংলা মহিলা কলেজে পড়ার সময় ছাত্রলীগের নেতা হাবিবুরের সঙ্গে আফসানার পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা হয়। এর মাঝে বেশকয়েকবার তাদের সম্পর্কে টানাপেড়েনও চলে। কিছুদিন আগে বন্ধুরা তাদের মধ্যে মীমাংসা করে দেন। কয়েক দিন আগে আফসানা ও রবিনের মধ্যে আবারও সমস্যা হয়েছিল বলে জেনেছি।