🕓 সংবাদ শিরোনাম

ফিরে দেখা, ১৯৭১- ‘মুক্তিযুদ্ধের এই দিনে’দু’সপ্তাহের মধ্যেই শিশুদের কোভিড টিকাকরণ, সিদ্ধান্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নেবাড়িতে লুকিয়ে রাখা ৪৭ ভরি স্বর্ণসহ তিন রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ আটকফিরে দেখা; ইতিহাসে আজকে এই দিনের উল্লেখযোগ্য ঘটনা প্রবাহশীতে অপরূপ লাল শাপলার ডিবির হাওরময়মনসিংহ শহরের ভেতরেই রেলক্রসিং: প্রতিদিন ৮ ঘন্টা যানজটবিজয়ের ৫০ বছরে ওয়ালটন ল্যাপটপ ও এক্সেসরিজে ৫০% পর্যন্ত ছাড়মাইকিং করে ২গরু জবাই করল পরাজিত প্রার্থী, দাওয়াতে এলো না কেউ!সুনামগঞ্জে আফ্রিকা ফেরত প্রবাসীর বাড়িতে লাল পতাকাতদন্ত কর্মকর্তাসহ ৬৫ জনের সাক্ষ্য-জেরায় সাক্ষ্যপর্ব সমাপ্ত

  • আজ বৃহস্পতিবার, ১৭ অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ ৷ ২ ডিসেম্বর, ২০২১ ৷

হত্যার আগে আফসানা বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার করেছিল কিন্তু সন্ত্রাসীদের ভয়ে কেউ এগিয়ে আসেনি


❏ শুক্রবার, আগস্ট ১৯, ২০১৬ আলোচিত, আলোচিত বাংলাদেশ

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক –  ‘আমি ভালো আছি, কোনো চিন্তা করিস না। ঈদের অনেক আগেই এবার বাড়ি চলে আসব রে। ভুলেও আমাকে ছাড়া গরু কিনবি না। এবার হাটে কিন্তু আমিও যাব। গরুর গলায় মালা ঝুলিয়ে সবাই একসঙ্গে মজা করতে করতে হেঁটে ঘরে ফিরব।’ গত ১২ আগস্ট রাত সাড়ে ১২টার দিকে মোবাইল ফোনে বড় ভাই ফজলে রাব্বির সঙ্গে এটাই ছিল মিরপুর শ্যাওড়াপাড়ায় অবস্থিত সাইক পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী আফসানা ফেরদৌসের (২৪) শেষ কথা।

সবাইকে কাদিয়ে আফসানা নামের সম্ভাবনাময়ী তরুনীর হত্যাকান্ডে আরও একটি ঘৃন্য নির্মম ঘটনার জন্ম হলো এবার । টানা কয়েকদিন নিখোঁজের পর  গত শনিবার  ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাওয়া যায় আফসানার লাশ। প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে চিকিতসকেরা জানান, সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর গলায় কিছু পেচিয়ে হত্যা করা হয় আফসানাকে। এই হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার  অভিযোগ উঠেছে তেজগাঁও কলেজের ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হাবিবুর রহমান রবিনের বিরুদ্ধে। আফসানার পরিবার ও ঘনিষ্ঠজনদের দাবী  আফসানা হত্যাকাণ্ডের মুল হোতা ছাত্রলীগ নেতা হাবিবুর রহমান রবিন ও তার বন্ধুরা  ।

আফসানার স্বজনেরা জানিয়েছেন, আফসানা এক সময় কিছু ছাত্রীদের সাথে তেজগাঁও এলাকায় থাকতো। তবে গত ১৩ আগষ্ট ঘটনার মাসখানেক আগে ২ জন রুমমেটের সঙ্গে মানিকদি এলাকার একটি বাসায় উঠেছিলো।
আফসানার কাছের বন্ধুরা বলছে, তেজগাঁও থাকাকালীন তেজগাঁও কলেজের ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হাবিবুর রহমান রবিনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে আফসানা। একপর্যায়ে তাদের সম্পর্কে টানাপড়েন সৃষ্টি হয়। পরে এলাকা ছেড়ে চলে যায় আফসানা।
ঘটনার ১০ দিন আগে আফসানা ও রবিনের পরিচিত বন্ধুরা আবার তাদের এক করে দেয়। কিন্তু ঘটনার ২ দিন আগে ফের সম্পর্কে ছেদ পড়ে। এই নিয়ে আফসানাকে দেখে নেওয়ারও হুমকি দেওয়া হয়। এর ২ দিন পরই লাশ পাওয়া যায়  আফসানার।

স্বজনদের দাবী, ‘ মোবাইল ফােনে অপরাধীরা এখন প্রতিনিয়ত হুমকি দিচ্ছে আফসানার ভাই-মাকে।
গত সোমবার বিকালেও রবিনের ভাই পরিচয় দিয়ে দিপু নামে একজন বলেছে, ‘এটা নিয়ে বাড়াবাড়ি কইরেন না। আপনারা অনেক দূরে থাকেন। আমাদের কিছুই করতে পারবেন না। একটা মিসটেক হয়ে গেছে। আসেন আমরা বসে মীমাংসা করে ফেলি।’

এই হত্যাকান্ডের ঘটনায় আফসানার  মামা হাসানুজ্জামান মিন্টু দাবি করেন  , আফসানাকে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার আগে তাকে পাশের একটি বাড়িতে নিয়ে নির্মম নির্যাতন করা হয়। সে বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার করেছিল। কিন্তু সন্ত্রাসীদের ভয়ে কেউ এগিয়ে যায়নি। প্রত্যক্ষদর্শীরা তাকে এসব তথ্য জানিয়েছেন এবং তিনি ওই বক্তব্য রেকর্ড করে রেখেছেন বলেও জানান। মিন্টু আরও বলেন, আফসানা মানিকদির যে বাসায় থাকতেন তার মালিক ও আশপাশের লোকজন জানিয়েছেন, স্থানীয় ছাত্রলীগ কর্মী পরিচয় দেয়া কয়েকজন আফসানাকে হত্যার আগে নির্যাতন করে। এরপর গলায় রশি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করে।

afsana-kar

তবে ওই বাড়ির বাসিন্দা দেলোয়ার বেগম কোনো চিৎকার শোনেননি বলে দাবি করেন। তিনি সাংবাদিকদের  বলেন, যদি একবার চিৎকার করত তাহলে আমি নিজের জীবন দিয়ে হলেও আফসানাকে বাঁচাতাম। এদিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও আফসানার লাশের ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক আবুল খায়ের মো. সফিউজ্জামান বলেন, এটা আত্মহত্যা না হত্যা- এখনই বলতে চাই না। সেটা মন্তব্য করা হয়ে যাবে। তবে শ্বাসরোধেই মৃত্যু হয়েছে তার। তিনি বলেন, ময়নাতদন্তে বিস্তারিত সবই দেখা হয়। প্রথমে তাকে শনাক্ত করা না যাওয়া এবং পরবর্তী সময়ে পরিচয় শনাক্ত হওয়ার কারণে আমরা ডিএনএ প্রোফাইলিং করছি। গলায় অর্ধচন্দ্রাকার দাগ থাকার পুলিশি দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, এসব আমি বলতে চাই না। তাকে ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি এবং তিনি অন্তঃসত্ত্বাও ছিলেন না।

আফসানার আরেক মামা ও ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির শিক্ষক তৌফিক ইলাহী বলেন, এ হত্যাকাণ্ডে রবিন ও তার বন্ধুরা জড়িত। এখনও অপরিচিত মোবাইল থেকে আফসানার আত্মীয়-স্বজনদের সমঝোতার প্রস্তাব ও বাড়াবাড়ি না করতে হুমকি দেয়া হচ্ছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন আসার আগেই এটিকে আত্মহত্যা বলা হচ্ছে।

আফসানার ভাই ফজলে রাব্বী জানান, আফসানা তেজগাঁও এলাকায় থাকার সময় রবিনের সঙ্গে প্রেম হয়। একপর্যায়ে সম্পর্ক ভেঙে গেলে তেজগাঁও ছেড়ে চলে যায় আফসানা। ঘটনার ১০ দিন আগে দু’জনের পরিচিত বন্ধুরা আবার তাদের এক করে দেয়। মৃত্যুর দু’দিন আগে পুনরায় সম্পর্ক ভেঙে দেন আফসানা। এ নিয়ে আফসানাকে দেখে নেয়ারও হুমকি দেয় রবিন। এর দু’দিন পরই তার মৃত্যু হল। রবিনের সঙ্গে আফসানার বিয়ে হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি কোনো তথ্য দিতে পারেননি।