সৎ মা আর বাবার ভয়াবহ নির্মমতার মুখে যখন স্তব্ধ সাত বছরের অবোধ শিশু জুনাইদ !


❏ শুক্রবার, আগস্ট ১৯, ২০১৬ অপরাধ, আলোচিত, স্পট লাইট

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি,সময়ের কণ্ঠস্বর –

মাত্র সাত বছরের শিশু জুনাইদ। এ বয়সে দুরন্তপনা সবারই থাকে। কিন্তু সেই স্বভাবসুলভ দুরন্তপনা একসময়ে ভয়াবহ অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়ে এমন  ভয়ানক সাজার মুখে ফেলবে তা হয়তো স্বপ্নেও কোনদিন ভাবেনি শিশুটি । মা হারিয়েছিলো আরও আগে। সৎ মায়ের সংসারে আগে  থেকেই মাথায় ছিলো ভয়াবহ  শাসনের চাপ । সৎ মায়ের অত্যাচারের শিকার হতো প্রায়শই। তবে এ দফা ভয়ানক এক পরিস্থিতির মুখে পড়তে হলো অবোধ শিশুটিকে।

প্রতিবেশীরা জানায়, প্রতিনিয়ত এমন অত্যাচার ও নির্যাতন সহ্য করে শিশু জুনাইদের সৎমার সংসারে খেতে হয়। দামুড়হুদা উপজেলার পীরপুরকুল্লা গ্রামে জামসেদ আলী কার্পাসডাঙ্গা বাজারের ব্রীজ মোড়ে ফলের ব্যবসা করে। সকালে ব্যবসার উদ্দেশ্যে কার্পাসডাঙ্গায় যায় ফিরতে রাত ১০/১১ টা বাজে। ফলে ঠিকমত ছেলের খোঁজ খবর নিতে পারেনা পিতা জমশেদ। জামসেদের ১ম স্ত্রী মারা গেলে উপজেলার বুইচিতলা গ্রামে সে ২য় বিয়ে করে।
তাদের কোল জুড়ে আসে ফুটফুটে সন্তান জুনাইদ। জুনাইদের বয়স যখন ৪ বছর তখন পারিবারিক কলহে তার মা বিষপানে মারা আতহত্যা করে। জুনাইদ এতিম হয়ে পড়ে। মাস দুই না পেরোতেই ছেলের কথা না ভেবে নিজের সুখের জন্য জমশেদ আবারও বিয়ের পিড়িতে বসে। রোজিনা নামের এক মেয়েকে বিয়ে করে ঘরে আনে নতুন বৌ। নতুন বৌ পেয়ে এতিম ছেলের কথা প্রায় ভুলেই গিয়েছিল সে।

frightened-boy

এবার বাড়ির পাশের পুকুরে বন্ধুদের সাথে গোসল করার ‘অপরাধে’ ’ চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার পীরপুরকুল্লা গ্রামে বাবা ও সৎ মা মিলে সাত বছরের শিশুপুত্র জুনাইদকে হাত-পা বেঁধে পিঁপড়ার চাকে ফেলে নির্যাতন করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে ।

স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, জুনায়েদকে পিঁপড়ার চাকে ফেলে দেওয়ার খবর পেয়ে এগিয়ে স্থানীয়রা এগিয়ে আসেন। প্রতিবেশী কলিমের ছেলে বাবলু জুনায়েদকে উদ্ধার করে। এরপর স্থানীয় মেম্বর রাজ্জাক শিশুটিকে নিকটস্থ চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যান।

প্রতিবেশীদের মাধ্যমে খবর পেয়ে এ ঘটনায় নড়ে চড়ে বসেছে স্থানীয় প্রশাসন। ইতমধ্যেই এলাকায় ব্যাপক সমালোচিত এই ঘটনায়  চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার রশীদুল হাসান তদন্ত করে এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দামুড়হুদা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জিহাদকে নির্দেশ দিয়েচ্ছেন।

ওসি আবু জিহাদ জানান, পুলিশ সুপারের নির্দেশ পেয়ে দামুড়হুদা থানা পুলিশ বৃহস্পতিবার দুপুরে কার্পাসডাঙ্গা বাজার থেকে জুনাইদের বাবা জামসেদকে আটক করতে সক্ষম হলেও, সৎ মা রোজিনা পালিয়ে গেছে।

এর আগে গত সোমবার সকালে পুকুরে গোসল করার অপরাধে বাবা ও সৎমা মিলে জুনাইদকে হাত-পা বেঁধে পিঁপড়ার চাকে ফেলে রাখে বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা । জুনাইদ পিঁপড়ার কামড়ের যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকে এবং পানি খাবো বলে চিৎকার করতে থাকে। তার চিৎকারে বাবা ও সৎমায়ের মনে একটুও করুণা হয়নি বলেও অভিযোগ করেছে প্রতিবেশিরা । তার মুখে এক ফোঁটা পানি পর্যন্ত দেয়নি তারা। একসময় জুনাইদ নিস্তেজ হয়ে পড়লে একই পাড়ার কলিমের ছেলে বাবলু তাকে পিঁপড়ার চাক থেকে উদ্ধার করে ডাক্তারের কাছে নিয়ে চিকিৎসা দেন।

জুনাইদের শরীর পিঁপড়ার কামড়ে ক্ষতবিক্ষত হওয়ার খবর পেয়ে স্থানীয় মেম্বার রাজ্জাক তার বাবা-মাকে বিষয়টি নিয়ে কঠোর সতর্কবাণী দেন। ভবিষ্যতে শিশুটির সঙ্গে এমন অমানবিক আচরণ করলে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার হুশিয়ারি দেন। এ নিয়ে এলাকার বিভিন্ন মহলে সমালোচনার ঝড় বইতে থাকে। এদিকে পুলিশের হাতে আটকের পর জুনাইদের বাবা বলেছেন, ‘ওর সৎমার কোনো দোষ নেই। সব দোষ আমার।’

এ ঘটনায় এলাকাবাসী জুনাইদের বাবা জামসেদ ও সৎমা রোজিনার শাস্তির দাবি করেছেন।