• আজ সোমবার, ১৪ অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ ৷ ২৯ নভেম্বর, ২০২১ ৷

প্রযুক্তির অভাবে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে ঝিনাইদহে সিটি গোল্ড তৈরির কারখানা


❏ শুক্রবার, আগস্ট ১৯, ২০১৬ খুলনা

আরাফাতুজ্জামান, ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ
বর্তমান সময়ে অলংকার জগতে অন্যতম স্থান পাওয়া সিটি গোল্ডের ব্যবসা এখন পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের দখলে। আধুনিক প্রযুক্তির অভাব, চোরাই পথে ভারতীয় সিটি গোল্ড আসা, সস্তা চায়না সিটি গোল্ডে বাজার সয়লাব ও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নিম্নমানের সিটি গোল্ড তৈরীর কারখানা গড়ে ওঠার কারণে বন্ধ হতে চলেছে ঝিনাইদহের মহেশপুরে নিজস্ব উদ্যোগে গড়ে উঠা জুয়েলারী প্রতিষ্ঠান মিলন সিটি গোল্ড তৈরীর কারখানা। ফলে বেকার হয়ে পড়েছেন জেলার হাজার হাজার নারী পুরুষ। ব্যবসায় ধংস নামায় পুঁজি হারিয়েও দীর্ঘ দিনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে টিকিয়ে রাখার নিরন্তর সংগ্রামে সরকারী কিংবা বেসরকারী কোন সংস্থাকে পাশে না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন মিলন সিটি গোল্ড লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর রশিদুন্নবী মিলন।

২০০৪ সালে দেশের ঝিনাইদহ জেলার সীমান্তবর্তী মহেশপুর উপজেলায় একেবারে নিজস্ব উদ্যোগে গড়ে ওঠে জুয়েলারী প্রতিষ্ঠান মিলন সিটি গোল্ড। নিজস্ব ডিজাইনের নিপুন কারুকার্য খচিত মিলন সিটি গোল্ডের গহনা স্থানীয়ভাবে ও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বাজার সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়। গত বছরের প্রথম দিকেও ছোট-বড় ১৫টি কারখানা চালু থাকলেও বর্তমানে তার অধিকাংশই এ বছরে বন্ধ হয়ে গেছে। বন্ধ হয়ে যাওয়ার আগ পর্যন্ত এ পেশার সাথে কমপক্ষে ১০হজার নারী পুরুষ জড়িত ছিলেন। বছরে কমপক্ষে ৪/৫ কোটি টাকার বানিজ্য হতো এ সিটি গোল্ড থেকে। বাজারে চাহিদা থাকায় জেলায় বিভিন্ন অঞ্চলে ছোট বড় অনেক কারখানা গড়ে ওঠে এবং এ পেশায় শ্রমজীবির সংখ্যা ক্রমেই বাড়তে থাকে। শিক্ষার্থী, গৃহবধূ ও বিধবারা ঘরে বসেই এই প্রতিষ্ঠানের ইমিটেশন গহনা তৈরি করে তাদের জীবিকা নির্বাহসহ আর্থিক স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়। একজন পুরুষ শ্রমিক কমপক্ষে ৬ হাজার টাকা এবং একজন নারী শ্রমিক ঘরে বসে কমপক্ষে ৩ হাজার টাকা অনায়াসে আয় করতেন বলে মিলন সিটি গোল্ডের এম ডি মিলন জানান। বর্তমান সময়ে হলুদ রঙের মিলন সিটি গোল্ডের চাহিদা কমতে থাকায় এবং কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এ পেশায় জড়িত থাকা হাজার হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন ।

goldনিকেল মিস্ত্রি মহসীন আলী জানান, বাজারে এখন আর মিলন সিটি গোল্ডের তেমন চাহিদা না থাকায় অধিকাংশ কারখানা প্রায় বন্ধের পথে। তাই প্রতিদিন কাজও থাকে না। দীর্ঘ দিনের পরিচিত কাজ হারিয়ে স্ত্রী সন্তান নিয়ে বেশ কষ্টে আছি।

মহেশপুর উপজেলার জলিলপুর গ্রামের বিধাবা রহিমা বেগম বলেন ঘরে বসে সিটি গোল্ডের কাজ করে যা কামাই করতাম তা দিয়ে সংসার চলে যেত। এখন তাদের ব্যবসা নেই, আমাদেরও কাজ নেই। বেশ কষ্টে আছি।

মিলন সিটি গোল্ড লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর রশিদুন্নবী মিলন বলেন, দেশের স্বল্প আয়ের মানুষ থেকে শুরু করে সমাজের উচু তলার মানুষ এই ইমিটেশন গহনা ব্যবহার করেন। এক সময় হাজার কোটি টাকার ইমিটেশন গহনা বাজার প্রতিবেশী দেশ ভারতীয় কোম্পানীগুলোর দখলে ছিল। সে সময় আমাদের মিলন সিটি গোল্ডের ইমিটেশনের গহনা বাজারে ছাড়ার পর ভারতীয় ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছিল। কিন্তু সময়ের আবর্তে সেই ভারত আবার বাংলাদেশের ইমিটেশনের বাজার দখল করে নিয়েছে। তিনি জানান, ভারত উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে ইমিটেশন গুলোকে লালছে রঙ দিতে পেরেছে। বাংলাদেশের বাজারে এই রঙের ইমিটেশনের চাহিদা বেশি। প্রযুক্তির অভাবে আমরা ওই রঙ দিতে পারছি না। আমাদের ইমিটেশন হলুদ রঙের। যার চাহিদা এখন দিন দিন কমে যাচ্ছে। ফলে নিজের কারখানাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গড়ে ওঠা অধিকাংশ সিটি গোল্ড তৈরীর কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে বলে মিলন দাবী করেন ।

আবারো ঘুরে দাঁড়াতে নতুন প্রযুক্তি রপ্তের পাশাপাশি মেশিনারিজ আমদানীর চেষ্টা করা হচ্ছে। সরকারী ভাবে আর্থিক ও প্রযুক্তগত সহায়তা পেলে মিলন সিটি গোল্ড নামের প্রতিষ্ঠানটি আবারো দেশের অর্থনেতিক উন্নয়ন তথা বেকার সমস্যা সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে রশিদুন্নবী মিলন আশা প্রকাশ করেন।