• আজ সোমবার, ২১ অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ ৷ ৬ ডিসেম্বর, ২০২১ ৷

তাড়াশে অপহৃত আওয়ামীলীগ নেতা আড়াই বছরেও উদ্ধার হয়নি


❏ শুক্রবার, আগস্ট ১৯, ২০১৬ রাজশাহী

আশরাফুল ইসলাম রনি.তাড়াশ প্রতিনিধি
সিরাজগঞ্জের তাড়াশে অপহৃত আওয়ামীলীগ নেতাকে আড়াই বছরেও উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। অপহৃত মজনু সরকার সদর ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ও শোলাপাড়া গ্রামের মোঃ কুদ্দুস সরকারের পুত্র।
এব্যাপারে তাড়াশ থানা ও সিরাজগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আমলী আদালতে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। বর্তমানে মামলাটি সিরাজগঞ্জ সিআইডি পুলিশ তদন্ত করছে।

অপহৃতের পরিবার ও মামলা সুত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালের ২৭ মার্চ রাতে উপজেলার শোলাপাড়া গ্রামের মতিন আলীর বাড়িতে একটি পারিবারিক বিষয় নিয়ে শালিশী বৈঠক বসে। এই বৈঠকে গ্রাম্য মাতব্বর হিসেবে মজনু সরকার (২৮) শালিশী বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের রায় অনুযায়ী বিবাদী আসালত হোসেন বাবুল, ইয়াকুব আলী, মোজদার হোসেন, আবুল কালাম ,রফিকুল ইসলাম, আলম হোসেন ও শেফালি খাতুনের ১৫০ টাকার ষ্ট্যাাম্পে স্বাক্ষর নেয়া হয়। পরের দিন ২৮ মার্চ সন্ধ্যায় বিবাদীরা শালিশী বৈঠকের সিদ্ধান্তনুযায়ী জরিমানার টাকা প্রদান করার জন্য শোলাপাড়া গ্রামের লালন শেখের ছেলে আসালতের বাড়িতে মজনু সরকারকে ডেকে নিয়ে যায়। এর পর থেকে তাকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

siraj2এ ঘটনায় অপহৃতের বড় ভাই মুনসুর সরকার বাদি হয়ে প্রথমে ৭ জনকে আসামী করে গত ২৫ এপ্রিল তাড়াশ থানায় এবং অপহৃতের আরেক বড় ভাই সাকাওয়াত সরকার বাদি হয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য সাখাওয়াত হোসেনসহ ১১ জনকে আসামী করে গত ১৯ মে সিরাজগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আমলী আদালতে (২/৩) অপহরন মামলা দায়ের করেছেন।

কিন্তু দীর্ঘ আড়াই বছরেরও আওয়ামীলীগ নেতা মজনু সরকারকে উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। বর্তমানে মামলাটি সিরাজগঞ্জ সিআইডি পুলিশ তদন্ত করছেন।
অপহৃতের বড় ভাই আব্দুল আজিজ সরকার ও সাথাওয়াত হোসেন সরকার জানান, স্থানীয় ইউপি সদস্য সাখাওয়াত হোসেনের সাথে অপহৃত মজনু সরকারের দীর্ঘ দিন যাবত বিরোধ চলে আসছিলো। এরই জের ধরে পরিকল্পিত ভাবে আমার ভাইকে অপহরন করা হয়েছে। অপহরনের পর থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে। তার দুটি সন্তান রয়েছে সন্তান নিয়ে তার স্ত্রী মানবেতর জীবন যাপন করছে।

সিরাজগঞ্জ সিআইডির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোকাদেম হোসেন জানান, মামলাটি যার উপর তদন্তের দায়িত্ব দেয়া ছিলো তিনি অবসর গ্রহন করেছেন। আমি সিরাজগঞ্জে যোগদানের পর মামলাটি নতুন করে তদন্ত করা হচ্ছে।