🕓 সংবাদ শিরোনাম
  • আজ বৃহস্পতিবার, ২৪ অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ ৷ ৯ ডিসেম্বর, ২০২১ ৷

দিনাজপুর জেলা কারাগার রেইনবো সুপার মার্কেটে ব্যবাসায়ীদের উপর মরার উপর খাড়ার ঘা !


❏ শুক্রবার, আগস্ট ১৯, ২০১৬ রংপুর

শাহ্ আলম শাহী,স্টাফ রিপোর্টার,দিনাজপুর থেকেঃ দিনাজপুর জেলা কারাগার রেইনবো সুপার মার্কেটে ব্যবাসায়ী-দোকানদারদের উপর মরার উপর খাড়ার ঘা চলছে। ব্যবসায় মন্দা,অকেজো দোকান,নিরাপত্তাহীনতা, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় এর পর কথায় কথায় দোকানে তালা লাগিয়ে দেয়ার হুমকি প্রদান করছে কারাগার কর্তৃপক্ষ। এতে বেকায়দায় পড়েছেন ব্যবাসায়ী-দোকানদারা। অনেকেই নিজের দোকানে নিজেই তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন। অন্যদিকে রেইনবো সুপার মার্কেটকে পুঁজি করে কারাগারের কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারী কোটিপতি বনে গেছেন। স্বনামে-বেনামে দোকানঘর বরাদ্দ নিয়ে কেনা-বেচা করে,মার্কেটে একক কোম্পানির বিজ্ঞাপন লাগিয়ে রাতা রাতি কোটি কোটি টাকা উপার্জন করেছেন তারা। এতে একজন সামান্য কারা সহকারী-কেরানীও কোটি টাকার জায়গা ক্রয়,বহুতল ভবন নির্মাণ,ব্যাংক-ব্যালেঞ্জ গড়েছেন।

দিনাজপুর জেলা কারাগারের উত্তর-পূর্বের বেষ্টনী প্রাচীর ভেঙ্গে প্রায় ৫ বছর আগে ৩৮টি দোকান ঘর নির্মাণ করে গড়ে ওঠে রেইনবো সুপার মার্কেট-১। ২০১৫ সালে পূর্ব-দক্ষিনে বেষ্টনী প্রাচীর ভেঙ্গে ১৩৪টি দোকান ঘর নির্মাণ করে গড়ে ওঠে রেইনবো সুপার মার্কেট-২। হুজুগে দরপত্রের মাধ্যমে এসব দোকান ঘর বরাদ্দ নেয় অনেকে। তবে অর্ধেকেরও বেশী দোকান ঘর কারা কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা স্বনামে-বেনামে অথবা নিজের আস্থাভাজন ব্যক্তিদের নামে বরাদ্দ নেয়। সর্বনিন্ম ৩৫০০ টাকা থেকে শুরু করে ৭৫০০টাকা ভাড়া নির্ধারণ করা হয় এসব দোকানের। যা দিনাজপুরের অন্যান্য দামী-দামী মার্কেটের চাইতে দ্বিগুনের বেশী ভাড়া। বেশী ভাড়া হলেও হুজুগে মাকের্টের বেশীর ভাগই দোকান কয়েক দফা হাত বদল হয়েছে অধিক টাকা লেন-দেনের মাধ্যমে। এই লেন-দেনের নাটের গুরু হিসেবে কাজ করেছে দিনাজপুর জেলা কারাগারের তৎকালীন কারা সহকারী ( কেরানী) বর্তমানে রংপুর জেলা কারাগারের কারা সহকারী ( কেরানী) আকবর আলী।

dinajবর্তমানে রংপুর জেলা কারাগারের কারা সহকারী ( কেরানী) পদে কর্মরত থাকলেও বিনা ছুটিতে প্রতি বৃহস্পতিবার সন্ধায় রংপুর থেকে দিনাজপুরে এসে আকবর আলী শনিবার সকালে আবার রংপুরে যায়। মাঝে দু’দিন তিনি রেইনবো সুপার মার্কেট-২ এর দোকান ঘর বেচা-কেনার কাজ করেন। এতে মধ্যস্থভোগী হিসেবে হাতিয়ে নেন মোটা অংকের টাকা।স্বনামে-বেনামে তিনি বেশ কয়েকটি দোকানঘর বরাদ্দ নিয়ে কেনা-বেচা করে রাতা রাতি কোটিপতি বনেছেন। দিনাজপুর নিমনগর ফুলবাড়ী বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন কোটি টাকার জায়গা ক্রয়,শহরের পাহাড়পুর এলাকায় বহুতল ভবন নির্মাণ করা ছাড়াও ব্যাংক-ব্যালেঞ্জ গড়েছেন তিনি। নিজের বহুতল ভবন থাকলেও তিনি ছেলের এইচএসসি পরীক্ষা দেয়ার অজুহাতে দিনাজপুর জেলা কারাগারের কোয়ার্টার ভবনে পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন।ছেলের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল বের হওয়ার পরও তিনি অবস্থান করছেন দিনাজপুরে। অথচ তিনি রংপুরে কর্মরত আছেন। অন্যদিকে রেইনবো সুপার মার্কেটে একক খাবে গ্রামীণ ফোন কোম্পানির বিজ্ঞাপন লাগিয়ে রাতা রাতি কোটি কোটি টাকা হানিয়ে নিয়েছেন স্থানীয় কারা কর্তৃপক্ষ। এমন অভিযোগ অন্যান্য কোম্পানিগুলোর।

এদিকে ব্যবসায় মন্দা,অকেজো দোকান,নিরাপত্তাহীনতা, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় এর পর কথায় কথায় ব্যবসায়ীদের দোকানে তালা লাগিয়ে দেয়ার হুমকি প্রদান করছে কারাগার কর্তৃপক্ষ। এতে বেকায়দায় পড়েছেন ব্যবাসায়ী-দোকানদারা। অনেকেই নিজের দোকানে নিজেই তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন। নিরাপদ স্থান হিসেবে কারাগার হওয়ার কথা থাকলেও রেইনবো সুপার মার্কেট এর ব্যবসায়ী ও দোকানদারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। ইতোমধ্যে মার্কেটের এক দোকানে চুরি হয়েছে। চোরেরা নিয়ে গেছে বেশ কিছু মালামাল। পুরনো টিন দিয়ে দোকান নির্মাণ করায় বেশ কিছু দোকানের টিন ফুটো হয়ে বৃষ্টির পানি পড়ছে। মাকের্ট জমে না ওঠায় ব্যবসায় বেশ মন্দা দেখা দিয়েছে। বেচা-কেনা নেই তেমন দোকানগুলোতে। এর পরেও ভাড়া দেয়া, না দেয়ার অজুহাতে কারা কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে মনির নামে এক কারারক্ষী প্রায় এসে দোকান ঘরে তালা ঝুলিয়ে দেয়ার হুমকি দিচ্ছে ব্যবসায়ীদের। ক্রেতাদের সামনে ব্যবসায়ীদের নাজেহাল করছেন। এতে বেকায়দায় পড়ে অনেকেই নিজের দোকানে নিজেই তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন।

এব্যাপারে দিনাজপুর জেলা কারাগারের জেলার জাবেদ মেহেদির সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, যারা দীর্ঘ কয়েক মাসের ভাড়া বকেয়া রেখেছেন, তাদের ভাড়া তোলার কৌশল হিসেবে দোকানে তালা ঝুলিয়ে দেয়ার কথা বলা হয়ে থাকে। অন্যদের নয়।
দিনাজপুর জেলা কারাগারের জেল সুপার আবু সাঈদ এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তালা ঝুলিয়ে দেয়ার কথা বলা অন্যায়। কেননা, কারা কর্তৃপেক্ষর লিখিত সিদ্ধান্ত ছাড়া কোন কিছু বলা বা সিদ্ধান্ত নেয়া আইনের পরিপন্থি। দোকান ঘরের ভেতরে বৃষ্টির পানি পরা বিষয়টি কেউ তাকে অবগত করেননি। কেউ করলে তা সমাধানের চেষ্টা করবে কারা কর্তৃপক্ষ। তিনি যোগদানের পর নিরাপত্তার বিষয়টি জোরদার করা হয়েছে বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, শুনেছি আমি আসার আগে একটি দোকানে চুরি হয়েছিলো।