• আজ বুধবার, ১৬ অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ ৷ ১ ডিসেম্বর, ২০২১ ৷

পাওনা টাকা আদায়ে মধ্যযুগীয় কায়দায় মহিলাকে গাছে বেঁধে নির্যাতন, আটক ১


❏ শুক্রবার, আগস্ট ১৯, ২০১৬ Breaking News, অপরাধ

মেহেদী হাসান, চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি : চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা গ্রামে পাওনা টাকা আদায় করার নামে এক মহিলাকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিযোগসূত্রে জানা যায়, নিজ বাড়ী থেকে ধরে এনে সেলিনা বেগম নামের ঐ মহিলাকে নারিকেল গাছের সাথে রশি দিয়ে বেধেঁ রেখে অমানুষিক ভাবে নির্যাতন করেছে পাওনাদার রাবেয়া বেগম ও তার লোকজন। ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার সকাল ৯ টার দিকে। নির্যাতনের দৃশ্য দেখতে শত শত পুরুষ-মহিলা ভিড় জমালেও কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পায়নি। এ ঘটনার জেরে নির্যাতিতা সেলিনার বড় ভাই আসান আলী শুক্রবার বেলা ১১ টার সময় দামুড়হুদা মডেল থানায় নির্যাতনকারী সোনাহার খাতুন ও তার স্বামী শহিদুল ইসলাম এ দুজনের নাম উল্লেখ সহ অজ্ঞাত ৪/৫ জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করে। পুলিশ শুক্রবার বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে সোনাহার খাতুনকে গ্রেফতার করে।

ঘটনাস্থল সরেজমিন পরিদর্শনে জানা যায়, দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা কলোনিপাড়ার নঈম উদ্দীনের স্ত্রী রাবেয়া বেগম (৬০) একই পাড়ার আব্দুর রাজ্জাকের স্ত্রী দুই সন্তানের জননী সেলিনা বেগম (২৮) এর নিকট ৯০ হাজার টাকা সুদে ধার দেয়। ৫-৬ বছর হয়ে গেলেও টাকা ফেরৎ দিতে না পারায় গ্রাম্য সালিশ ডাকেন রাবেয়া বেগম। সালিশে সিদ্ধান্ত মোতাবেক ৬৫ হাজার টাকায় রফা হয়।

nirzaton

নির্যাতিতা সেলিনা বেগম বলেন, ৬৫ হাজার টাকার মধ্য থেকে ৪০ হাজার টাকা এনজিওর মাধ্যমে লোন নিয়ে তাকে পরিশোধ করেছি, যার কিস্তি চালিয়েছি এবং নগদ ২৫ হাজার টাকা দিয়েছি। এখন আবার নতুন করে ২৫ হাজার টাকা দাবি করছে। এ টাকা দিতে না পারায় গতকাল সকাল ৯টার দিকে বাড়ী থেকে জোর পুর্বক রাবেয়া বেগম ও তার মেয়ে সোনাহার খাতুন ধরে এনে নিজ বাড়ীর উঠানে নারিকেল গাছের সাথে মোটা রশি দিয়ে বেঁধে রেখে নির্যাতন চালায়। এ সময় প্রতিবেদক ঘটনাস্থলে ছবি তুলতে গেলে রাবেয়া বেগম তার সামনেই নির্যাতিতা সেলিনা বেগম কে গালিগালাজ ও কিলঘুষি মারতে থাকে। এ সময় সেলিনার দুই সন্তানকে মায়ের সামনে কান্নাকাটি করতে দেখা যায়। অমানুষিক এ নির্যাতনে দেখতে শত শত পুরুষ ও মহিলা উপস্থিত হলেও বেপরোয়া রাবেয়া বেগম ও তার লোকজনের ভয়ে কেউ তাকে রক্ষা করতে সাহস পায়নি।

দামুড়হুদা মডেল থানার ওসি আবু জিহাদ ফকরুল ইসলাম সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানান, ঘটনার সাতে জড়িত থাকার অভিযোগে সোনাহার খাতুন কে আটক করা হয়েছে এবং বাকিদেরকে আটক করতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।