🕓 সংবাদ শিরোনাম
  • আজ মঙ্গলবার, ১৫ অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ ৷ ৩০ নভেম্বর, ২০২১ ৷

ঝিনাই নদীর ব্যাপক ভাঙন: হুমকির মুখে নথখোলা ব্রিজ


❏ শুক্রবার, আগস্ট ১৯, ২০১৬ ঢাকা

অন্তু দাস হৃদয়, টাঙ্গাইল প্রতিনিধি :চলমান বন্যার পানি নামার সময় জেলার নদী তীরবর্তী এলাকায় প্রবল ভাঙন দেখা দিয়েছে। যমুনা, ধলেশ্বরীসহ শাখা নদীগুলোর তীরবর্তী মানুষও রেহাই পায়নি ভাঙনের কবল থেকে। অবশেষে জেলার বাসাইল উপজেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত ঝিনাই নদী ভাঙনের ফলে নথখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আড়াই লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত শহীদ মিনারটিও চলে গেছে নদীগর্ভে।

এর সাথে ২০০৬/০৭ অর্থবছরে এলজিইডির- প্রায় ১২ লাখ ৮৭ হাজার ৩১৭ টাকা ব্যয়ে নির্মিত বিদ্যালয়ের সম্প্রসারিত একটি ভবনের কিছু অংশ নদীতে গ্রাস করেছে। মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে টাঙ্গাইল-বাসাইল সড়কে ঝিনাই নদীর উপর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নথখোলা ব্রিজটিও।

এ ব্রিজটি ধসে পড়লে টাঙ্গাইলের পূর্বাঞ্চলের সাথে জেলা শহরের কয়েকটি উপজেলার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে।

এ দিকে, বাসাইল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী শহীদুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিলিয়া শারমিন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ নাজমুল আহসান, উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রাশেদা সুলতানা রুবি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

vangonবাসাইল উপজেলার অন্যতম নথখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আশপাশে প্রতিবছরই বর্ষার শুরুতেই হয় ভাঙন শুরু হয়। সারাবছর নদীতে ড্রেজিং করে বিদ্যালয় ও ব্রিজের নিকটবর্তী এলাকায় প্রভাবশালীর অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করার কারণে এ ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হয়।

এ ব্যাপারে স্থানীয়দের অভিযোগ, গত শুকনো মৌসুমেও নদী খননের নামে এই বিদ্যালয় ও ব্রিজের নিকটে ব্যাপক ড্রেজিং করা হয়। ভাঙনের শুরু হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কিছুটা টনক নড়ে। বিদ্যালয়টি স্থায়ীভাবে রক্ষার ব্যাপারে বছরের অন্য সময়ে ব্যবস্থাগ্রহণের কোন উদ্যোগ নেয়া হয় না।

এবারের বন্যায় বিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের নিচের মাটি সরে গিয়ে শহীদ মিনারটি সম্পূর্ণভাবে এবং বিদ্যালয়ের কিছু অংশ নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ায় প্রশাসনসহ সকলেরই নজর কেড়েছে। এই মুহূর্তে ভাঙন রোধের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণ না করলে বিদ্যালয়টিও শিগগির নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে বলে আশক্সক্ষা করছেন এলাকাবাসী।

এতে নদীগর্ভে ধসে যেতে পারে টাঙ্গাইল-সখীপুর ভায়া বাসাইল সড়কে ঝিনাই নদীর উপর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্মিত নথখোলা ব্রিজটিও।

এ ব্রিজটি ভেঙে পড়লে টাঙ্গাইলের পূর্বাঞ্চলের সাথে বাসাইল ও সখীপুর উপজেলাসহ মির্জাপুর, কালিহাতী, ঘাটাইল, ময়মনসিংহের ভালুকা, ফুলবাড়ি উপজেলার কিছু অংশের লাখ লাখ মানুষের টাঙ্গাইল জেলা সদরের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে।

এ বিষয়ে টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিলিয়া শারমিন সময়ের কন্ঠস্বর’কে বলেন, বিদ্যালয় চত্বরে স্থাপিত শহীদ মিনারটি নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে। শিগগিরই নতুন করে শহীদ মিনার স্থাপনের ব্যবস্থাগ্রহণ করা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহ জাহান সিরাজ সময়ের কন্ঠস্বর’কে জানান, ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করে স্কুল ও ব্রিজ রক্ষার জন্য ইতিমধ্যে বালভর্তি বস্তা ফেলা শুরু হয়েছে। স্থায়ীভাবে বিদ্যালয় ও ব্রিজটি রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

স্থানীয় এমপি অনুপম শাহজাহান জয় ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন।

প্রসঙ্গত, ভাঙনকবলিত এলাকার সর্বস্তরের মানুষ ভাঙনরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণের দাবিতে গত ১৫ আগষ্ট মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে।