• আজ সোমবার, ২১ অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ ৷ ৬ ডিসেম্বর, ২০২১ ৷

জনপ্রতিনিধিকে টাকা দিয়েও ৮ বছরের শিশু রায়হানের ভাগ্যে ঝুটেনি পঙ্গু ভাতা


❏ শুক্রবার, আগস্ট ১৯, ২০১৬ আলোচিত বাংলাদেশ, দেশের খবর, সিলেট

বুলবুল আহমদ, নবীগঞ্জ প্রতিনিধি: মায়ের গর্বে যখন একটি সন্তান ভূমিষ্ট হয় তখন তার মা- বাবা ও আত্মীয় স্বজনদের মনে খুশি দেখা দেয়। তার পরে সে ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে। বয়স যখন ৮ তখন আশপাশের খেলার সাথিদের সাথে খেলতে যায় একটি শিশু। খেলা ধুলার পর বাড়ির পুকুর ঘাটে হাত, পা ধুইতে নামা মাত্রই পাথরের মধ্যে পড়ে গিয়ে মারার্তক আঘাতে তার পা ভেঙ্গেঁ যায়। তার সুর- চিৎকারে পাড়া প্রতিবেশী ও আত্মীয় স্বজনরা এগিয়ে এসে তাকে উদ্বার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক বলেন, তার বাম পায়ের রগ ছিড়ে হাড্ডি ভেঙ্গেঁ গেছে।bribe_19429

এ খবরে তার মা- বাবা ও আত্মীয় স্বজনরা কান্নায় ভেঙ্গেঁ পড়েন। হত দরিদ্র পরিবারের হওয়ায় এ ঘটনা যেন তাদের মাতার উপর আকাশ ভেঙ্গে পড়ল। হাউমাউ করে কাদঁতে কাদঁতে শিশুটিকে নিয়ে সরকারী হাসপাতালে কিছু দিন চিকিৎসা দিয়ে বাড়িতে নিয়ে আসেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন প্রভাবশালী ও জনপ্রতিনিধিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে ঘুরতে কোন কাজ হয়নি। শিশুটিকে নিয়ে তার পরিবারের সদস্যরা পড়েছেন মহা বিপাকে। তার বাবা একদিকে পরিবারের বরণ পোষন করতে হয় আবার অন্যদিকে তার পঙ্গু শিশুর চিকিৎসার খরচও যোগাতে হচ্ছে। এমন অবস্থায় তার বাবার পক্ষে কোনটাই করা সম্ভব হচ্ছেনা। ধীরে ধীরে শিশুটিও বড় হতে থাকে। রায়হানের আরো ছোট ২ভাই ও অসুস্থ্য মা-বাবাকে নিয়ে পড়েছে মহা বিপাকে। তাই সে এখন ভিক্ষা প্রন্তা বেচেঁ নিয়েছে।

অবশেষে স্থানীয় ইউপি সদস্যর কাছে পঙ্গু ভাতার জন্য গেলেও কোন কাজ হয় নাই। কোন উপায় না পেয়ে বর্তমানে সে এক পায়ের উপর ভর করে একটি লাঠির সাহায্যে জীবনের ঝুকি নিয়ে বিভিন্ন হাট বাজারে ভিক্ষা বৃত্তি করে জীবন যুদ্ধে নেমেছে। সে নবীগঞ্জ উপজেলার ৯নং বাউসা ইউনিয়নের বাসডর গ্রামের তালেব উদ্দিনের পুত্র মোঃ রায়হান মিয়া (১২)।

গতকাল দুপুরে ঢাকা- সিলেট মহা সড়কের নবীগঞ্জ উপজেলার ব্যবস্ততম জনবহুল আউশকান্দি- হীরাগঞ্জ বাজার মারফত উল্লাহ ভবনের শাহজালাল হার্ডওয়ার দোকানে ভিক্ষাবৃত্তিকালে কথা হয় পঙ্গু ভিক্ষুক রায়হানের সাথে।

সাংবাদিকরা তাকে বিভিন্ন প্রশ্ন করলে শুরু হয় ভিক্ষুক রায়হানের জীবন কাহিনী। সে বলে, ভাই আমরা গরিব, টেকার লাগি আমার বাউ পাওটা ভালা করতাম পারলাম না। কত মানুষের কান্দাত গিয়া পাও দেখাইয়া ডাক্তরীর লাগি টেকা চাইলাম তারা ২/৫টেকা দেয়, এতে না খাইতাম পারি, না ডাক্তরি করাইতাম পারি। ইবায়, আব্বাও বেমার, তাইনও রুজি করতা পারইন না।

পরিশেষে সে গেল সরকারের দেয়া পঙ্গু ভাতা পাওয়ার জন্য সংরক্ষিত ইউপি মহিলা মেম্বার মাসুমা আক্তার এর কাছে। সেখানেও সে প্রতারনার স্বীকার হলো। ইউপি সদস্য তার বাবার কাছ থেকে টাকা নিয়ে পঙ্গু ভাতা পাবে বলে আশ্বাস দেন। কিন্তু ৪থেকে ৫মাস চলে যাওয়ার পরও এখন পর্যন্ত রায়হানের ভাগ্যে জুটেনি পঙ্গু ভাতার টাকা!

এ ব্যাপারে রায়হান আরো বলে, `৫/৬ মাস আগে গেছলাম মেম্বারনী মাসুমার আপার গেছে পঙ্গু ভাতাত নাম দেওয়ার লাগি। তাইন কইছইন এটাত নাম দিতে হইলে ৬শ টেকা লাগব। পরে আমি ভিক্ষা করিয়া তাইনরে ৫শত টেকা দিলাম, তাইন খইন ই টেকায় ওইতনায় ৬শ টেকাই লাগব। বাদে ২দিন পরে আরো ১শ টেকা দিলাম। টেকা নিয়া কইলা পয়লা মাসে ৩ হাজার টেকা পাইমু, পরের মাস থাকি ১৫শ টেকা পাইমু। কিতা কইতাম বা ভাইছাবহওকল, তাইন তো ওখন আর মেম্বার নায়, আমি ওখন কার গেছে যাইতাম। আপনারা কইয়া দেও।’

এ ব্যাপারে নবীগঞ্জ উপজেলা ৯নং বাউশা ইউনিয়নের নর্ব- নির্বাচিত চেয়ারম্যান আবু সিদ্দিক এর সাথে মোবাইল ফোনে ইউপি সদস্যাা মাসুমা আক্তারের কথা জানালে তিনি বলেন, `মাসুমা তো এখন আমার আমাদের পরিষদের সদস্য নয়। সে গত নির্বাচনে পরাজিত হয়েছে। এখন আমাদের নতুন পরিষদ। তাই এ বিষয় নিয়ে আমি স্থানীয় ইউপি সদস্যদের সাথে আলাপ করে তার পঙ্গু ভাতার ব্যবস্থা করে দেব।’

এস.এস/হৃদয়