উখিয়ায় রেজু খালের ভাঙ্গনে বিচ্ছিন্ন জনপদ: হুমকিতে বসতঘর ও ফসলী জমি


❏ শুক্রবার, আগস্ট ১৯, ২০১৬ চট্টগ্রাম, দেশের খবর

ইমরান জাহেদ, কক্সবাজার: কক্সবাজারের উখিয়ার রেজু খালের মোহনা অংশের রত্নাপালং ইউনিয়নের তুতুরবিল গ্রামে ভয়াবহ ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ী ঢলের স্রোতে তুতুরবিল বড়ুয়া পাড়া সংযোগ সড়ক বিচ্ছিন্ন পড়েছে। ফলে স্কুল, মাদ্রাসা ও কলেজগামী ছাত্রছাত্রীসহ স্থানীয় জনসাধারণকে পোহাতে হচ্ছে অসহনীয় দূভোর্গ।Tutur bil 02

ভাঙ্গন কবলিত এলাকায় আশংকাজনক অবস্থায় প্রতিয়মান বসতবাড়ি ও ফসলী জমি নদী গর্ভে বিলিন হয়ে যাওয়ার শঙ্খা করে গ্রামবাসী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার প্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপ দাবী করে একটি আবেদন করেছেন।

শুক্রবার সকালে ভাঙ্গন কবলিত এলাকা ঘুরে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, পশ্চিমরত্না-তুতুরবিল অংশে রেজুর মোহনার বাঁকে পানির স্রোত সরাসরি আঘাত হানার কারণে প্রতি বর্ষা মৌসুমে অত্র এলাকায় ভাঙ্গন দেখা দেয়। চলতি বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই ভাঙ্গন তীব্রতর হয়ে একমাত্র সংযোগ সড়কটি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। স্থানীয় ভুক্তভোগী জসিম উদ্দিন ও নুরুল ইসলামসহ একাধিক লোকজন জানান, রেজুখালের হিজলিয়াসহ ৫/৬টি স্পট থেকে নির্বিচারে বালি উত্তোলনের ফলে ভাঙ্গনের ব্যাপকতা বৃদ্ধি পেয়েছে। ভাঙ্গন কবলিত এলাকায় বসবাসরত উখিয়া উপজেলা নদী পরিব্রাজক দলের সহ-সভাপতি আমজাদ হোসেন জানান, রেজুর মোহনার বাঁকে স্পার্ক নিমার্ণ করা না হলে খালের পাড়ে বসবাসরত প্রায় অর্ধশতাধিক বসতবাড়ি ও শত শত একর ফসলী জমি খালের গর্ভে বিলিন হয়ে যাওয়ার আশংকা রয়েছে। তিনি বলেন, ভাঙ্গন প্রতিরোধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট গ্রামবাসী একটি আবেদন করেছে।

রতœাপালং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান খাইরুল আলম চৌধুরী জানান, বড়ুয়াপাড়া-তুতুরবিল সংযোগ সড়কটি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার কারণে তুতুরবিল, পিনজিরকুল, খয়রাতিপাড়া, হরিণমারা, আমিনপাড়া, হিজলিয়া, খালকাচাপাড়া সহ প্রায় ৭/৮টি গ্রামের মানুষকে উপজেলা সদরের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, ভাঙ্গনের বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাঈন উদ্দিন জানান, ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। রাস্তাটি পুণ:সংস্কার সহ রেজুর মোহনা অংশে স্পার্ক নির্মাণের ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যাতে খালের পাড়ে বসবাসরত পরিবারগুলো ভাঙ্গন থেকে নিরাপদ জীবন যাপন করতে পারে।