🕓 সংবাদ শিরোনাম

শিশুকে ডায়াবিটিস থেকে দূরে রাখতে কী কী সতর্কতা অবলম্বন করবেনদক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াকে তৈরি থাকার বার্তা দিল ”হু”বুড়িগঙ্গায় ’সাকার ফিশ’র দখলে, হুমকিতে দেশীয় মাছরোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির থেকে ধারালো অস্ত্রসহ আটক-৫করতোয়ার তীরে নিথর পড়ে ছিলো মস্তকহীন নবজাতক!গাজীপুরে দুই শিশুকে ‘হত্যার’ পর ফ্যানে ঝুলে আত্মহত্যার চেষ্টা মা’য়ের!ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদ: জাহাজ চলাচল বন্ধ; সহস্রাধিক পর্যটক আটকা সেন্টমার্টিনেআখেরী মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হলো নীলফামারীর তিনদিন ব্যাপী ইজতেমাবঙ্গবন্ধুর শাসনব্যবস্থা নিয়ে গবেষণা করতে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রীর আহ্বানভোটে হেরে ক্ষোভ মেটাতে রাস্তায় বেড়া দিলেন প্রার্থী, ভোগান্তিতে পুরো গ্রাম!

  • আজ রবিবার, ২০ অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ ৷ ৫ ডিসেম্বর, ২০২১ ৷

ফুলবাড়ীতে শ্রমে নিয়োজিত শিশুদের শিক্ষার আলো ছড়াছেন সলিডারিটির শিখন কেন্দ্র গুলো


❏ শনিবার, আগস্ট ২০, ২০১৬ দেশের খবর, রংপুর

unnamed


অনীল চন্দ্র রায়,ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার হত দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত এবং শ্রমে নিয়োজিত শিশুদের মধ্যে শিক্ষার আলোই আলোকিত করছে স্থানীয় সুনাম ধন্য এনজিও সলিডারিটি। সলিডারিটিকে আর্থিক ভাবে সহযোগিতা করছেন মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন নামে প্রতিষ্ঠান।

এ উপজেলার সলিডারিটির অধীনে ৬টি ও নাগেশ্বরী উপজেলার ২টি ঝুকিপূণ শিশুশ্রম বন্ধ করণ প্রকল্পের আওতায় শিশু শিখন কেন্দ্রের মাধ্যমে পাঠদান করছে। এক বছর পাঠদান শেষে তাদেরকে মূল বিদ্যালয়ে শিশুর উপযোগী শ্রেণিতে ভর্তি করছে। এখানে ভিসি (ভের্নারেবল চাইল্ড) ৭৫০ জন ৫ বছরের শিশু ও বিভিন্ন স্কুলগুলোতে পড়াশুনা করে অতি দরিদ্র পরিবারের পিছিয়ে পড়া ৮ থেকে ১৫ বছরের ১৭৫০ জন শ্রমে নিয়েজিত শিশুদেরকে নিয়ে ২০১৩ সালের আগষ্ট মাস হতে এ প্রকল্পের যাত্রা শুরু হয়। ১৭৫০ জন শিশুকে উপজেলার বিভিন্ন সেক্টর থেকে তুলে এনে অনানুষ্ঠানিক ভাবে শিশু শিখন কেন্দ্রের মাধ্যমে শিক্ষা সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। শিশু শিখন কেন্দ্র গুলোতে পাঠদান কর্মসূচি শুরু হয় সকাল ৯ টা থেকে কার্যক্রম শেষ হয় বিকাল ৫ টা পর্যন্ত।

প্রতিটি শিশু শিখন কেন্দ্রে একজন ফেসিলিটিং অফিসার ও একজন শিক্ষক দ্বারা ঝুঁকিপূণ শিশুশ্রম বন্ধ করণ প্রকল্পের শিশু শিখন কেন্দ্র পরিচালিত হয়। এখানে শিক্ষার্থীদের হাতে বছরের শুরুতেই পাঠ্য বই তুলে দেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস এবং সব ধরনের শিক্ষা উপকরণ প্রতিমাসে বিনামুল্যে দেয় সংশ্লিষ্ট এনজিও। শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন স্কুলগামী করতে ১৭৫০ জন শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতি মাসে ৫০ টাকা করে শিক্ষা সহায়তা প্রদান করা হয় এবং একই সাথে ডাব্লিউ এফ পি এর সহায়তায় স্কুল ফিডিং এর ব্যবস্থা করা হয়েছে। বর্তমানে ১৭৫০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ২৪০ জন শিক্ষার্থীকে শিক্ষা সহায়তা প্রদান অব্যাহত আছে। এ ছাড়াও প্রকল্পটি বাস্তবায়নে শিখন কেন্দ্রের কমিটির সভাপতি ও সদস্য,অবিভাবক ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি,গন্যমান্য ব্যক্তি,প্রতিষ্ঠানের মালিক, নিয়মিত আলোচনা সভার মাধ্যমে শিশুদের শ্রমবাজারের প্রবেশ প্রতিরোধ,শ্রমে নিয়েজিত শিশুদের কর্ম পরিবেশ উন্নয়ন,শিশুদের স্কুল মুখি ,বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, সর্ব পরি সরকার ঘোষিত শিশুশ্রম নীতিমালা বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে। ১৭৫০ জন শিশুর মধ্যে স্কুল যাওয়ার অনুপযোগী ১৪৪ জন শিশুকে ভোকেশনাল(কারিগারি) দর্জি, মোবাইল সাির্ভস,কাঠমিস্ত্রি, হ্যান্ডস্টিজ প্রশিক্ষন প্রদান করা হয়েছে। প্রশিক্ষন শেষে তাদেরকে কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ প্রদান করা হয়েছে।

বাঘা ইউনুস আলী শিশু শিখন কেন্দ্রের শিক্ষার্থী পারুল,মিতু,জুঁই,হাফিজা,খোকন,মনিরা,শাপলা,আলমগীর,জানান, লেখাপড়া না করে আগে আমরা মানুষের বাসা বাড়ীতে ইটভাঙ্গা,চায়ের দোকান, লেদ মেশিনের দোকানে, কাজ কাম করতাম,সলিডারিটি এনজিও আমাদেরকে তাদের শিখন কেন্দ্রের মাধ্যমে এক বছর নিজস্ব খরচে বই,খাতা,কলম,এবং প্রতি মাসে ৫০ টাকা দিয়ে পড়াশুনা করে সরকারী স্কুলে ভর্তি করে দেয় । এখন আমরা কাজ কাম কার না ,প্রতিদিনে স্কুলে যায় আমাদের খুবেই ভাল লাগছে।

শিশু শিখন কেন্দ্রের শিক্ষক অনীল চন্দ্র রায় ও হরি প্রসাদ সেন জানান,২০১৩ সালের আগষ্ট মাস থেকে শিখন কেন্দ্রের শ্রমে নিয়োজিত শিশুদেরকে পাঠদান করচ্ছি। শিক্ষার পাশাপাশি,নিয়মিত নাজ গান,কবিতা আবৃত্তি,ব্যায়াম,সামাজিক উন্নয়ন মূলক জ্ঞানসহ বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলা,রচনা প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বিজয়ীয় শিক্ষার্থাীদেরন পুরুস্কার প্রদান করা হয়। এখানে প্রতিটি শিশু শিক্ষা উপকরণসহ প্রতি মাসে ৫০ টাকা করে শিক্ষা সহায়তা প্রদান করা হয়ে থাকে। ,

এ ব্যাপারে ফুলবাড়ী উপজেলা সলিডারিটির ম্যানেজার মাহবুব অলম লিটন জানান,প্রকল্পের মেয়াদ শেষে শ্রমে নিয়োজিত শিশুদেও স্কুল মুখী রাখতে ও শিশু শ্রমবাজাওে প্রবেশ প্রতিরোধে সরকারের প্রদক্ষেপ ও সহায়তা আশা করেন।