🕓 সংবাদ শিরোনাম
  • আজ বৃহস্পতিবার, ২৪ অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ ৷ ৯ ডিসেম্বর, ২০২১ ৷

জোরপূর্বক এসিড খাইয়ে স্ত্রী হত্যার অভিযোগে স্বামী গ্রেফতার


❏ শনিবার, আগস্ট ২০, ২০১৬ দেশের খবর, বরিশাল

pc-2_159190


বরগুনা প্রতিনিধি:

স্বামী শশুর ও শাশুরীর অমানুষিক নির্যাতনের পর এসিড খাওয়াইয়ে এক সন্তানের জননী গৃহবধু মরিয়ম (২২) কে হত্যা করা হয়েছে। নির্যাতিতার বাবা কুদ্দুস মোল্লা বাদী হয়ে শুক্রবার দুপুরে তালতলী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তালতলী উপজেলার মোয়াপাড়া গ্রামে।

পুলিশ ও মামলার বিবরনে জানা গেছে, উপজেলার মোয়াপাড়া গ্রামের দেলোয়ার হোসেন হাওলাদারের পুত্র ফরিদ উদ্দিন (২৫) এর সাথে পার্শ্ববর্তী হরিনখোলা গ্রামের কুদ্দুস মোল্লার কন্যা মরিয়মের সাথে বিয়ের পর থেকেই তাকে যৌতুকের দাবীতে বিভিন্ন সময় নির্যাতন করে আসছে। ইতিমধ্যে ফরিদ উদ্দিন নিদ্রারচর গ্রামের এক যুবতীর সাথে প্রেমে জড়িয়ে পরলে মরিয়মের নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়ে যায়।

মরিয়ম উপায়ান্ত না পেয়ে যৌতুক নিরোধ আইনে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। ঐ মামলায় বিজ্ঞ আদালত ফরিদ উদ্দিনকে গত ২৪ জুলাই জেলহাজতে প্রেরন করেন। পরবর্তিতে সমযোতায় ১১ আগষ্ট মরিয়ম আদালতে হাজির হয়ে ফরিদ উদ্দিনকে জামিনে মুক্ত করে আনেন। ফরিদ বাড়ী এসে আবার স্ত্রীকে নির্যাতন শুরু করেন। এক পর্যায় বৃহস্পতিবার স্বামী ফরিদ উদ্দিন শশুর দেলোয়ার হোসেন ও শাশুরী মিলে মরিয়মকে ঘরের আড়ার সাথে বেঁধে অমানুষিক নির্যাতন শুরু করে।

নির্যাতনের একপর্যায় মরিয়মের মুখে এসিড ঢেলে দিয়ে জোড় করে খাওয়ায়। এতে মরিয়ম মৃত্যু যন্ত্রনায় ছটফট করতে থাকলে তার পিত্রালয় এসিড খাওয়ার খবর দিয়ে তাকে প্রথমে তালতলী হাসপাতালে ও পরে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার পটুয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে প্রেরন করেন। পটুয়াখালী হাসপাতালে নেয়ার পথেই এ্যাম্বুলেন্স গাড়ীতেই মরিয়ম মারা যান। মরিয়মের বাবার অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ তাৎক্ষনিক ফরিদউদ্দিনকে গ্রেফতার করেছে।

লাশ ময়না তদন্ত শেষে মর্গে প্রেরন করা হয়েছে। তালতলী থানার অফিসার ইনচার্জ কমলেশ চন্দ্র হালদার বলেন, প্রাথমিক অভিযোগের প্রেক্ষিতে ফরিদউদ্দিনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শুক্রবার থানায় মামলা হয়েছে। তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে।