🕓 সংবাদ শিরোনাম
  • আজ মঙ্গলবার, ১৫ অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ ৷ ৩০ নভেম্বর, ২০২১ ৷

শেষ মুহুর্ত্বে জমে উঠেছে বৃক্ষমেলা


❏ শনিবার, আগস্ট ২০, ২০১৬ দেশের খবর, রংপুর

মাজহারুল ইসলাম লিটন, ডিমলা প্রতিনিধি: শেষ মুহুত্বে জমে উঠেছে নীলফামারী চারা মেলা। বৃক্ষ প্রেমী আর বিনোদন প্রিয় মানুষরা সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত ভীড় করেছেন বছর ঘুরে আসা নীলফামারীর ঐতিহ্যবাহী মেলাটিতে। বৃক্ষপ্রেমিরা বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা কেনার পাশাপাশি শিশুদের ছোট পরিসরে জায়গা পাওয়া ট্রেন, নাগর দোলায় চরে আনন্দ ভাগাভাগি করছেন আর নারীরা ভীড় করছেন প্রসাধনীর সব দোকানগুলোয়। সব মিলিয়ে উৎসব মুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে বৃক্ষমেলায়।

mala

ফলজ, বনজ ও ভেজষ মেলা নামে বৃক্ষমেলাটি গেল ১১ আগষ্ট শহরের টাউন ক্লাব মাঠে উদ্বোধন করেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নুর। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও বন বিভাগের আয়োজনে মেলায় সার্বিক সহযোগীতা করছে জেলা প্রশাসন। শনিবার বৃক্ষমেলা ঘুরে দেখা গেছে প্রাণচাঞ্চল্যতা। বিকেলে মেলা ঘুরে আনন্দ প্রকাশ করে ছমির উদ্দিন স্কুল এ্যান্ড কলেজের ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী নার্গিস আক্তার জানান, আমরা শহরে কোন বেরানোর জায়গা নেই। বিদ্যালয় থেকে বাড়ি ফেরার পথে বৃক্ষমেলায় ঢুকে ভালোই লাগে। বাবার সাথে বেরাতে এসে হাসি মুখে উচ্ছাস প্রকাশ করলো নীলফামারী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী সাদিয়া আফরিন।

শত শত শিশু নাগরদোলা, নীলসাগর এক্সপ্রেস ও চরকিতে উঠে আনন্দ উপভোগ করছে আগতরা। সবচেয়ে আকর্ষণীয় করে তুলেছে নীলসাগর গ্রুপের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান অনুভব ফাউন্ডেশনের তার্কিস মুরগী আর দুর্লভ ড্রাগন ফল। মেলায় স্টল দেয়া খুলনা নার্সারীর প্রোপাইটার আব্দুল হাকিম মেলায় দর্শনার্থীদের আগমণে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, প্রথম দিক থেকে মেলা তেমন জমে না উঠলেও দুই একদিন থেকে বেশ জমে উঠেছে। শুরুর দিকে গাছ কেনার প্রবণতা না থাকলেও শেষ মুহুর্ত্বে দর্শনার্থীরা বিভিন্ন প্রজাতির চারা কিনতে শুরু করেছেন।

নার্সারী মালিক সমিতির সভাপতি আলতাফ হোসেন জানান, মাত্র সাত দিনের মেলায় কোন কিছু হয়ে উঠেনা। মেলায় আরো সময় বাড়ানো দরকার। তাহলে গাছ কেনা সহ বিভিন্ন বয়সীদের আনাগোনায় মুখোরিত হয়ে উঠবে মেলাটি। মেলায় আসা নীলফামারীর সঙ্গিত শিল্পি রকিবুল আলম শাহিন জানান, নীলফামারী জেলায় বিনোদনের কোন জায়গা নেই। বছর ঘুরে এই চারামেলার জন্য অপেক্ষা করে থাকি। বিশেষ করে গৃহিনী আর শিশুদের নিয়ে কিছুটা হলেও আনন্দ ভাগাভাগি করা হয়।

বন বিভাগ নীলফামারীর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিছুর রহমান সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানান, বছরের অন্যান্য সময় আসলে সহজে কেউ গাছ কিনতে চান না। চারা মেলা হলে আগতরা অন্তত একটি হলেও গাছ কিনে নিয়ে যান। মেলার চিত্র দেখে সময় বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।