• আজ রবিবার, ১৩ অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ ৷ ২৮ নভেম্বর, ২০২১ ৷

শরীয়তপুরে হত্যা মামলার জেরে পুরুষ শূণ্য গ্রাম, চাঞ্চল্যের সৃষ্টি


❏ শনিবার, আগস্ট ২০, ২০১৬ Breaking News, ঢাকা, দেশের খবর

নয়ন দাস, শরীয়তপুর প্রতিনিধি : শরীয়তপুরে হত্যা মামলার জেরে নিজ ঘড়ে থাকতে পারছেনা পুরুষেরা, ঘড়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ শিশুদের লেখাপড়া। জেলার জাজিরা উপজেলার সেনেরচর ইউনিয়নের চর ধুপুরিয়া বালিয়াকান্দি গ্রামে এই ঘটনাটি ঘটছে। এই ঘটনা নিয়ে এখন জাজিরা উপজেলায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, গত ১০জুলাই সেনেরচর ইউনিয়নের চর ধুপুরিয়া বালিয়াকান্দি গ্রামে মোসলেম মাদবর (৬৫) ও মো. বাদশা মাদবর (৪২) এর মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দু‘পক্ষের সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের এক পর্যায়ে হামেদ মাদবরের ছেলে হারুন মাদবর নামে একজন গুলিবৃদ্ধ হয়ে নিহত হন। নিহত হওয়ার পরে মো. সিরাজ মাদবর বাদী হয়ে জাজিরা থানায় মোসলেম মাদবর, আব্দুল মান্নান মাদবরসহ ৪১ জনেকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

এরই জের ধরে মো. বাদশা মাদবর ও মো. সিরাজ মাদবর তার লোকজন নিয়ে ১ মাস ৯ দিন যাবত চর ধুপুরীয়া বালিয়াকান্দি গ্রামের প্রায় শতাধিক বাড়ি-ঘর ভাংচুর করেছে। শুধু তাই নয় সাধারণ মানুষের বাড়িতে গিয়ে লুট করে নিচ্ছে নগত টাকা, স্বর্ণালংকার । নষ্ট করছে ফসলি জমি ও আসবাব পত্র। বাদশা মাদবর জিম্মি করে রেখেছেন সাধারণ মানুষকে অভিযোগ গ্রামবাসীর। গ্রামটিতে তাদের ভয়ে পুরুষরা গ্রামে থাকতে পারছেন না। শিশুরা বাড়িতে থাকতে না পেরে অন্যত্র পাড়ি জমিয়েছেন। ক্ষতিমূখে বাচ্চাদের লেখাপড়া। এই ঘটনায় এখন অসহায় হয়ে পড়েছে এলকাবাসী।

চর ধুপুরীয়া বালিয়াকান্দি গ্রামে সাবেক ইউপি সদস্য জালাল জমাদ্দারের স্ত্রী সারমিন বেগম বলেন, খুন হয়েছে মোসলেম মাদবরের বাড়িতে। কিন্তু আমরা এর সাথে জরিত না। তবুও আমাদের উপর হামলা মামলা চালাচ্ছেন বাদশা মাদবরের লোকজন। আমার বাড়ি-ঘর কুপিয়ে লুট করে নিয়ে গেছে সব কিছু।

soriotpur-vangcurএকই এলাকার জাবেদ আলীর স্ত্রী রাশিদা বেগম বলেন, মো. বাদশা মাদবর ও মো. সিরাজ মাদবর লোকজনের ভয়ে আমার স্বামী পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। তাদের ভয়ে আমার বড় দুই মেয়েকে ওর নানু বাড়িতে রাখি। আমার মেয়েদের পড়াশুনার অনেক ক্ষতি হচ্ছে। আমি এর একটি সমাধান দেখতে চাই।

তিনি আরো বলেন, আমার বড় দুইটি মেয়ে আছে । আমার মেয়েদের ক্ষতি করবে বলেছে বাদশা । তাই ওদের আমার আত্মিয়র বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছি।

ক্ষতির শিকার আরেক জন সাজদা বেগম বলেন, আমি কাজ করতে ছিলাম । হঠাৎ করে মো. বাদশা মাদবরের লোকজন এসে আমার গলার চেইন নিয়ে যায়। আর বলে কথা বললে তোকে মেরে ফেলবো।

নবম শ্রেনীর রুনা আক্তার ও সপ্তম শ্রেনীর আয়সা, রিংকি, সোনিয়া আক্তার, জান্নাতুন ও ৫ম শ্রেণীর শামিম জানায়, আমরা দেড় মাস যাবত স্কুলে যেতে পারছিনা। আমরা মধ্য বর্তি পরিক্ষা দিতে পারি নাই। পড়া-লেখায় অনেক পিছিয়ে যাচ্ছি। সামনে সাময়িক পরিক্ষা কিভাবে দেব জানিনা।

এ ব্যাপারে জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, আসামীরা তো পালাবেই। আসামী ছাড়া কিছু লোকজন চর ধুপুরিয়া বালিয়া কান্দি গ্রামে যে থাকতে পারছেনা বা লুট হচ্ছে এটা আমি জানিনা। ব্যাপারটি দেখছি।