🕓 সংবাদ শিরোনাম

শিশুকে ডায়াবিটিস থেকে দূরে রাখতে কী কী সতর্কতা অবলম্বন করবেনদক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াকে তৈরি থাকার বার্তা দিল ”হু”বুড়িগঙ্গায় ’সাকার ফিশ’র দখলে, হুমকিতে দেশীয় মাছরোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির থেকে ধারালো অস্ত্রসহ আটক-৫করতোয়ার তীরে নিথর পড়ে ছিলো মস্তকহীন নবজাতক!গাজীপুরে দুই শিশুকে ‘হত্যার’ পর ফ্যানে ঝুলে আত্মহত্যার চেষ্টা মা’য়ের!ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদ: জাহাজ চলাচল বন্ধ; সহস্রাধিক পর্যটক আটকা সেন্টমার্টিনেআখেরী মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হলো নীলফামারীর তিনদিন ব্যাপী ইজতেমাবঙ্গবন্ধুর শাসনব্যবস্থা নিয়ে গবেষণা করতে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রীর আহ্বানভোটে হেরে ক্ষোভ মেটাতে রাস্তায় বেড়া দিলেন প্রার্থী, ভোগান্তিতে পুরো গ্রাম!

  • আজ রবিবার, ২০ অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ ৷ ৫ ডিসেম্বর, ২০২১ ৷

কালিয়াকৈরে পোশাক কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকান্ড : আহত-১০


❏ শনিবার, আগস্ট ২০, ২০১৬ ঢাকা, দেশের খবর

আলমগীর হোসেন, কালিয়াকৈর প্রতিনিধি: কালিয়াকৈরে একটি পোশাক কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। অগ্নিকান্ডের ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের দুইজন সহ আহত হয়েছে কমপক্ষে ১০ জন। ঘটনায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

ogni-kando

শুক্রবার দিবাগত রাত ১ টার দিকে উপজেলার চান্দরা পল্লীবিদ্যুৎ এলাকার ট্রপিক্যাল নিটেক্স লিমিটেড নামের ওই পোশাক করাখানায় ভয়াবহ এ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটলেও ১৬ ঘন্টা অতিবাহিত হলেও বিকেল ৫টা পর্যন্ত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস। অগ্নিকান্ডের ঘটনায় আহতদের উদ্ধার করে সফিপুর মর্ডাণ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস, কারখানা কর্তৃপক্ষ ও শ্রমিক সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দিবাগত রাত ১২.৫৫মিনিটে ৬তলা ভবনের ওই কারখানার ৩য় তলায় সোতার গোডাউন থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। কারখানার শ্রমিকরা নিজস্ব ব্যবস্থায় আগুন নেভানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। পরে মুহুর্তের মধ্যে আগুন পুরো ফ্লোরে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের তীব্রতা বাড়তে থাকলে প্রথমে কালিয়াকৈর ফায়ার সার্ভিসে খবর দেয়া হয়। খবর পেয়ে কালিয়াকৈর ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌছে আগুন নেভানোর চেষ্টা চালায়। আগুনের তীব্রতা বাড়তে থাকে এবং ওই ভবনের ৪র্থ তলার কাটিং সেকশনে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এতে পুরোপুরি আগুন ফায়ার সার্ভিসের বাইরে চলে যায় এবং পরবর্তীতে জয়দেবপুর, সাভার, টঙ্গী, মির্জাপুর, ডিইপিজেট সহ ফায়ার সার্ভিসের আরো ১৯টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার কাজে যোগ দেয়।

ভোর ৫টার দিকে আগুন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসলেও পরবর্তীতে ওই ভবনের অপর একটি ফ্লোরে আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং আগুনের লেলিহান শিখা পুরো ফ্লোরে ছড়িয়ে পড়ে। ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তর সহ বিভিন্ন এলাকার ইউনিটের দমকলকর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়। কিন্তু এর তীব্রতা ও ভয়াবহতার কারণে দমকলকর্মীরা ফ্লোরে প্রবেশ করতে না পারায় তা নিয়ন্ত্রণে ব্যঘাত ঘটে। পরে ফায়ার সার্ভিসের হেড অফিস থেকে দুপুর সোয়া ২টার দিকে দুটি ‘দি লাইফ সেভিং ফোর্স’ আগুন নিয়ন্ত্রণে অংশ নেয়। এতেও বিকেল ৫টা পর্যন্ত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস।

এরই মধ্যে আগুনের তীব্রতার কারণে ৪র্থ তলার কয়েকটি ফ্লোর ধ্বসে পড়েছে এবং ধ্বসে পড়া ফ্লোরে থাকা ফেব্রিক্সে আগুণ ধরে গিয়ে আগুনের তীব্রতা আরো বাড়তে থাকে। এছাড়া দুর্ঘটনা কবলিত ওই বিল্ডিং এ ফাটল দেখা দিয়েছে। অনেকেই আশংকা করছেন বিল্ডিংটি ধ্বসে পড়তে পারে। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করতে গিয়ে কালিয়াকৈর ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র ষ্টেশন অফিসার অপূর্ব বল ও নাসির নামের এক ফায়ারম্যানসহ ওই কারখানার কমপক্ষে ১০ জন আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে উপজেলার সফিপুর মর্ডাণ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

কারখানার ম্যানেজার (এডমিন) মোঃ রিপন হোসেন সংবাদকর্মীদের জানান, আগুনের ঘটনায় তাদের বিপুল পরিমাণ সুতা, ফেব্রিক্স, মেশিনারিজ সহ বিভিন্ন আসবাবপত্র পুড়ে গেছে। কি পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে সে ব্যপারে সঠিকভাবে বলা যাচ্ছেনা বলেও জানান তিনি। তবে ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক মেজর একেএম শাকিল নেওয়াজ বিকেল পৌণে ৪টার দিকে সংবাদকর্মীদের জানিয়েছেন, ওই বিল্ডিং এর ৫৪ হাজার স্কোয়ার ফিটের ফ্লোরে আগুন লেগে তা পুরো ফ্লোরে ছড়িয়ে যায়। পরে হেড অফিসসহ বিভিন্ন এলাকার ফায়ারসার্ভিসের ১৯টি ইউনিট কাজ করছে। এছাড়া আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশী যে ফায়ারকর্মীরা ভেতরে প্রবেশ করতে পারছেনা। তবে ভেতরে ঢোকার জন্য বাহির থেকে কোলিং করা হচ্ছে।

এছাড়া কারখানাটির চারপাশে যান নেয়ার মত অবস্থা নেই। শুধু দুই পাশ দিয়ে যান নেয়া যায়। চারপাশে এ রকম ব্যবস্থা থাকলে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে এতো সময় লাগতো না। এরপরও ফায়ারকর্মীরা বৈরী পরিবেশের প্রতিকুলে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

এদিকে, ট্রপিক্যাল নিটেক্স কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ রাহেনুল ইসলামকে প্রধান করে ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন, শ্রম অধিদপ্তরের সচিব ও কারখানা পরিদর্শক মোঃ ফরিদ উদ্দিন, ফায়ার সার্ভিসের ডিএডি, ইন্ডাষ্ট্রিায়াল পুলিশের পরিচালক/প্রতিনিধি এবং দূর্ঘটনা কবলিত কারখানার একজন প্রতিনিধি।