🕓 সংবাদ শিরোনাম
  • আজ বৃহস্পতিবার, ২৪ অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ ৷ ৯ ডিসেম্বর, ২০২১ ৷

আজ সেই ভয়াল-বিভীষিকাময় ও রক্তাক্ত ২১ আগস্ট


❏ রবিবার, আগস্ট ২১, ২০১৬ ফিচার

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্কঃ আজ সেই ভয়াল-বিভীষিকাময় ও রক্তাক্ত ২১ আগস্ট। ইতিহাসের সেই মর্মস্পর্শী বারুদ আর রক্তমাখা বীভৎস রাজনৈতিক হত্যাযজ্ঞের এক অতি কলংকময় দিন। হত্যাযজ্ঞ-রক্তস্রোত-ধ্বংস ও নারকীয় গ্রেনেড হামলার সপ্তম বার্ষিকী আজ। ২০০৪ সালের এই দিনে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলা চালিয়ে ২৪ জনকে হত্যা করা হয়। আহত হন দলের শীর্ষ নেতারাসহ শত শত নেতাকর্মী। ফলে এক লোমহর্ষক ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে রয়েছে দিনটি।

২০০৪ সালের পর থেকে ২১ আগস্টকে গ্রেনেড হামলা দিবস হিসেবে পালন করা হয়। আওয়ামী লীগও দিনটি যথাযথ মর্যাদায় পালন করে থাকে। প্রতিবারের মতো এবারও আওয়ামী লীগ দিবসটি উপলক্ষে দিনব্যাপী কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।

কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে রোববার বিকাল ৪টায় ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে স্থাপিত অস্থায়ী শহীদ বেদীতে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার, আওয়ামী লীগের জাতীয় নেতৃবৃন্দকে সঙ্গে নিয়ে, শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ, দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে অংশগ্রহণ।

এ সময় আওয়ামী লীগ, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দও অনুরূপ কর্মসূচিতে যোগদান করবেন।

এরপর একই স্থানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহত শহীদ পরিবারের সদস্যবৃন্দ ও আহতদের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং আলোচনা সভায় অংশগ্রহণ করবেন।

এদিকে, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম গ্রেনেড হামলা দিবস যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে দেশবাসীকে সঙ্গে নিয়ে পালন করার জন্য আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের সকল স্তরের নেতা-কর্মী, সমর্থক, শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

211একই সঙ্গে সব জেলা, মহানগর, উপজেলা, পৌর, ইউনিয়ন, ওয়ার্ডসহ সমস্ত শাখার নেতৃবৃন্দকে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কর্মসূচি গ্রহণ করে দিবসটি স্মরণ ও পালন করার আহ্বান জানিয়েছেন।

বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি জঘন্যতম হত্যাকাণ্ডের দিন ২১ আগস্ট। ২০০৪ সালে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে বিভীষিকাময় রক্তাক্ত গ্রেনেড হামলার ১২তম বার্ষিকী।

সেদিনের পৈশাচিক হামলার প্রধান টার্গেট ছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগকে নেতৃত্ব শূন্য করার ঘৃণ্য লক্ষ্যে পরিকল্পিতভাবে গ্রেনেড হামলায় মেতে ওঠে ঘাতকের দল।

২০০৪ সালের এ ভয়াবহ দিনে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশে আওয়ামী লীগের সমাবেশে উপুর্যপরি গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। হামলায় বঙ্গবন্ধুকন্যা অলৌকিকভাবে প্রাণে রক্ষা পেলেও হতাহত সাড়ে তিন শতাধিক মানুষের রক্তে ভেসে যায় বঙ্গবন্ধু এভিনিউ।

প্রাণ হারান প্রয়াত রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ জিল্লুর রহমানের সহধর্মিনী আওয়ামী লীগের তদানীন্তন মহিলা সম্পাদক ও বিশিষ্ট নারীনেত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ জন। চারদলীয় জোট সরকারের আমলে সংঘটিত এ জঘন্য ঘটনায় তখন বাদী হয়ে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ আলাদা দুটি মামলা করে।

সরকারি তদন্তে আমেরিকার এফবিআই ও ইন্টারপোলের সহায়তা নেয়া হয়। এক সদস্যের বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন রিপোর্ট দেয়। সে রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়নি তখন।

শেখ হাসিনা তখন এ ঘটনার আন্তর্জাতিক তদন্ত দাবি করেন। কিন্তু এ দাবি অগ্রাহ্য করায় প্রশ্নবিদ্ধ হয় জোট সরকারের তদন্ত-প্রক্রিয়া। হামলার রহস্য উদঘাটনে সরকারের আন্তরিকতা নিয়েও প্রশ্ন তোলে তৎকালীন বিরোধী দল।

তখন অভিযোগ ওঠে, বিএনপি জোট সরকার ২১ আগস্টের রহস্য উদঘাটন এবং প্রকৃত দোষীদের খুঁজে বের করে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে চায় না। বরং সুকৌশলে তাদের রক্ষার চেষ্টা করছে। ২০০৮ সালের ১১ জুন বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এ সংক্রান্ত মামলা দুটির অভিযোগপত্র দেয়।

ওই অভিযোগপত্রে নিষিদ্ধ ঘোষিত হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি হান্নান ও সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু, তার ভাই মাওলানা তাজউদ্দিনসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়া হয়।

এরপর আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর এ মামলার অধিকতর তদন্তের উদ্যোগ নেয়া হয়। ২১ আগস্ট মামলার অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডির অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার আবদুল কাহার আকন্দকে দায়িত্ব দেয়া হয়।