• আজ বুধবার, ১৬ অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ ৷ ১ ডিসেম্বর, ২০২১ ৷

২৩ ঘন্টা ধরে জ্বলছে ট্রপিক্যাল নিটেক্সের আগুন


❏ রবিবার, আগস্ট ২১, ২০১৬ ঢাকা

আলমগীর হোসেন, কালিয়াকৈর প্রতিনিধি : কালিয়াকৈরে একটি পোশাক কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার দিবাগত রাত ১ টার দিকে উপজেলার চান্দরা পল্লীবিদ্যুৎ এলাকার ট্রপিক্যাল নিটেক্স লিমিটেড নামের ওই পোশাক করাখানায় ভয়াবহ এ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটলেও ২৩ ঘন্টা অতিবাহিত হলেও রাত ১২টা পর্যন্ত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি ফায়ারসার্ভিস।

ফায়ারসার্ভিস, কারখানা কর্তৃপক্ষ ও শ্রমিক সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দিবাগত রাত ১২.৫৫মিনিটে ৬তলা ভবনের ওই কারখানার ৩য় তলায় সোতার গোডাউন থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। কারখানার শ্রমিকরা নিজস্ব ব্যবস্থায় আগুন নেভানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। পরে মুহুর্তের মধ্যে আগুন পুরো ফ্লোরে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের তীব্রতা বাড়তে থাকলে প্রথমে কালিয়াকৈর ফায়ারসার্ভিসে খবর দেয়া হয়। খবর পেয়ে কালিয়াকৈর ফায়ারসার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌছে আগুন নেভানোর চেষ্টা চালায়। আগুনের তীব্রতা বাড়তে থাকে এবং ওই ভবনের ৪র্থ তলার কাটিং সেকশনে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এতে পুরোপুরি আগুন ফায়ারসার্ভিসের বাইরে চলে যায় এবং পরবর্তীতে জয়দেবপুর, সাভার, টঙ্গী, মির্জাপুর, ডিইপিজেটসহ ফায়ারসার্ভিসের আরো ১৯টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার কাজে যোগ দেয়।

ভোর ৫টার দিকে আগুন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসলেও পরবর্তীতে ওই ভবনের অপর একটি ফ্লোরে আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং আগুনের লেলিহান শিখা পুরো ফ্লোরে ছড়িয়ে পড়ে। ফায়ারসার্ভিস সদর দপ্তর সহ বিভিন্ন এলাকার ইউনিটের দমকলকর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়। কিন্তু এর তীব্রতা ও ভয়াবহতার কারণে দমকলকর্মীরা ফ্লোরে প্রবেশ করতে না পারায় তা নিয়ন্ত্রণে ব্যঘাত ঘটে। পরে ফায়ারসার্ভিসের হেড অফিস থেকে দুপুর সোয়া ২টার দিকে দুটি ‘দি লাইফ সেভিং ফোর্স’ আগুন নিয়ন্ত্রণে অংশ নেয়। এতেও রাত ১২টা পর্যন্ত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি ফায়ারসার্ভিস।

এরই মধ্যে আগুনের তীব্রতার কারণে ৪র্থ তলার কয়েকটি ফ্লোর ধ্বসে পড়েছে এবং ধ্বসে পড়া ফ্লোরে থাকা ফেব্রিক্সে আগুণ ধরে গিয়ে আগুনের তীব্রতা আরো বাড়তে থাকে। এছাড়া দূর্ঘটনা কবলিত ওই বিল্ডিং এ ফাটল দেখা দিয়েছে। অনেকেই আশংকা করছেন বিল্ডিংটি ধ্বসে পড়তে পারে।

fitreকারখানার ম্যানেজার (এডমিন) মোঃ রিপন হোসেন সংবাদকর্মীদের জানান, আগুনের ঘটনায় তাদের বিপুল পরিমাণ সুতা, ফেব্রিক্স, মেশিনারিজসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র পুড়ে গেছে। কি পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে সে ব্যপারে সঠিকভাবে বলা যাচ্ছেনা বলেও জানান তিনি।

ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) মেজর শাকিল নেওয়াজ জানান, আগুন লাগার খবর পাওয়া মাত্র আমাদের কালিয়াকৈর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভাতে শুরু করে। তারা এসে দেখে, পুরো ফ্লোরে আগুন। পরে ১২টি স্টেশনের কর্মীরা আগুন নেভানোর কাজে যোগ দেয়। আমারা আগুন নেভানোর জন্য আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করছি। এখানে কিছু প্রতিকূলতা আছে। এখানে প্রচুর এক্রেলিক জাতীয় বস্তু রয়েছে। এখান থেকে কার্বন মনোঅক্সাইড, হাইড্রোজেন সায়ানাইট, বেনজিন জাতীয় টক্সিড গ্যাসের সৃষ্টি হয়েছে। বিল্ডিংয়ের ভেতরে আগুনের তাপমাত্রা ১ হাজার ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডের ওপরে। বাতাসের গতি প্রতিকূলে। ধোঁয়া বের হয়ে আবার কারখানার ভেতরে ঢুকে পড়ছে। ধোঁয়াগুলো ভেরি টক্সিক। এই প্রতিকূলতার ভেতরে আমরা ফায়ার ফাইটিং করছি। আমরা আউটার সাইট, ইন সাইট উভয় দিক থেকে কাজ করছি। আমরা আগুনকে একটা কর্নারের দিকে নিয়ে এসেছি। আশা করি, আমরা আগুনকে শিগগির নিয়ন্ত্রণে আনতে পারব। এছাড়া কারখানাটির চারপাশে যান নেয়ার মত অবস্থা নেই। শুধু দুই পাশ দিয়ে যান নেয়া যায়। চারপাশে এরকম ব্যবস্থা থাকলে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে এতো সময় লাগতো না। এরপরও ফায়ারকর্মীরা বৈরী পরিবেশের প্রতিকুলে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (রাত১২টা) আগুন নিয়ন্ত্রণে আসেনি।