🕓 সংবাদ শিরোনাম
  • আজ বৃহস্পতিবার, ২৪ অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ ৷ ৯ ডিসেম্বর, ২০২১ ৷

দিনে দিনমজুরের কাজ রাতে নিজের পড়াশুনা করে জিপিএ ৫ পেয়েছে আখেরুজ্জামান


❏ রবিবার, আগস্ট ২১, ২০১৬ মফস্বল সংবাদ

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক –   বাবা পেশায় কাঠমিস্ত্রি। হাতে কাজ থাকলে খাবার জোটে, না থাকলে অর্ধাহারে দিন কাটাতে হয়। এর মধ্যে বড় বোনের লেখাপড়ার খরচ জোগাতে হয়। বাধ্য হয়ে তাই বাবা মাহবুবুর রহমান এর সঙ্গে কাঠের কাজের সহযোগী হিসেবে নিজেও রোজগারের পথে নামে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার মেধাবী শিক্ষার্থী অখেরুজ্জামান। কিন্তু দিনের বেলা কাজ করলেও রাতে নিজের পড়াশুনায় ব্যাঘাত ঘটতে দেয়নি সে। এসএসসিতে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ ৫ পাওয়া অখেরুজ্জামান এবার এইচএসসিতেও নিজের সাফল্য ধরে রেখেছে।

gpa5
দরিদ্র পরিবারের এই সন্তান দারিদ্রকে পরাজিত করে ২০১৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় দিনাজপুর বোর্ড থেকে মানবিক বিভাগে জিপিএ ৫ পেয়েছে। তার এই সাফল্যে দিনমজুর পিতা ও গৃহিনী মায়ের পাশাপাশি আনন্দিত তার গ্রামবাসী।
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলা শহর থেকে ৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত কাশিপুর ইউনিয়নের গংগারহাট এলাকার আজোয়াটারী গ্রামে আখেরুজ্জানের বাড়ি। বাবা দিনমজুর মাহবুবুর রহমান। মা নাজমা বেগম গৃহিনী। বাবার সঙ্গে দিনমজুরের কাজ করে আখেরুজ্জামান। রংপুর কারমাইকেল কলেজ পড়ুয়া বড় বোন মাহফুজা খাতুনকে পড়ালেখার খরচ যোগানোর পাশাপাশি নিজের খরচ জোগাড় করে এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় কাশিপুর ডিগ্রি কলেজ থেকে মানবিক বিভাগে জিপিএ ৫ পেয়েছে। এর আগে আখেরুজ্জামান গংগারহাট এম এ এস উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ ৫ পেয়েছিল। কিন্তু বিজ্ঞান বিভাগে পড়াশুনার খরচ চালানোর সামর্থ্য না থাকায় উচ্চ মাধ্যমিকে সে মানবিক শাখায় ভর্তি হয়।
এমন সাফল্য পেলেও তার মা-বাবা খুব বেশি নিশ্চিন্ত হতে পারছেন না। নিজেদের নেই কোন জমি। চার শতক জমির উপর বসতবাড়ি তাদের। আগামী দিনে ছেলের লেখাপড়ার খচর কিভাবে মেটাবেন তা ভেবে পাচ্ছেন না আখেরুজ্জামানের বাবা মাহবুবুর রহমান। আর্থিক অনটন থাকায় আগামী দিনে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হবার স্বপ্ন যেন কল্পনাবিলাসের মত হয়ে গেছে আখেরুজ্জামানের।
আখেরুজ্জামানের বাবা মাহবুবুর রহমান জানান, দিনে দিনমজুরের কাজ করে রাতে নিজের পড়াশুনা করতো আখের। আমি তার খরচ চালাইতে পারি না। সে নিজের খরচ চালায় আবার তার বোনের জন্যও টাকা পাঠায়। সামনে ওর পড়াশুনা কেমন করে হবে জানি না।
আখেরুজ্জামান জানায়, তার ইচ্ছা বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চতর শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে তার মা-বাবার কষ্ট লাঘবের পাশাপাশি সমাজের অবহেলিত ও নিষ্পেষিতদের জন্য কাজ করার। এ অবস্থায় সমাজের হৃদয়বান ব্যক্তিরা একটু এগিয়ে আসলে তার উচ্চশিক্ষার পথ সুগম হবে বলে প্রত্যাশা আখেরুজ্জামানের।