🕓 সংবাদ শিরোনাম
  • আজ মঙ্গলবার, ১৫ অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ ৷ ৩০ নভেম্বর, ২০২১ ৷

আফসানা হত্যাকাণ্ড : সিসিটিভি ফুটেজে দুই যুবক এর মধ্যে ছাত্রলীগ নেতা রবিনের ছবি


❏ রবিবার, আগস্ট ২১, ২০১৬ আলোচিত বাংলাদেশ

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক –   আফসানার মামা হাসানুজ্জামান মিন্টু  বলেন, ‘মানিকদীর ওই বাসায় আমার ভাগিনী রবিনের সঙ্গে ছিল। তারা গোপনে বিয়ে করেছে বলেও শুনছি। বাড়ির মালিকের স্ত্রীকে কাবিন দেখিয়েছে। ওই বাসায় রবিন বৃহস্পতিবার থেকে রবিবার পর্যন্ত থাকত। শুক্রবার রাতে আফসানা মারা গেছে। তাহলে রবিন ওর সাথেই ছিল। আবার তারা ওই বাসায় তালা দিয়ে চলে গেছে বলে শুনছি।’ মিন্টু আরো বলেন, ‘বাসার পাশেই গুল মোহাম্মদ বাচ্চু নামের একজনের বাড়িতে নাকি ‘বাঁচাও, বাঁচাও’ চিৎকার শোনা গেছে। ইলিয়াস নামের এক প্রতিবেশী চিৎকার শুনে আফসানাদের বিল্ডিংয়ের মালিকের স্ত্রী ও দেলোয়ারা নামের এক ভাড়াটিয়াকে জানিয়েছেন। অন্য স্থানে নিয়ে আমার ভাগিনীকে ওরা মেরেছে। সিসিটিভিতে দেখা গেছে, দুই যুবক ওকে ফেলে চলে গেছে, এর মধ্যে রবিনও ছিল।’

aaaa

মিরপুরের সাইক ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড টেকনোলজির শিক্ষার্থী এবং ছাত্র ইউনিয়নের কর্মী আফসানা ফেরদৌসের রহস্যজনক মৃত্যুর পর থেকেই তাঁর প্রেমিক ও ছাত্রলীগ নেতা রবিনের বিরুদ্ধে মৌখিক অভিযোগ তোলে আফসানার স্বজনরা। মিরপুরের আল-হেলাল হাসপাতালের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে, দুই যুবক আফসানার নিথর দেহ রেখে পালিয়ে যায়। এর মধ্যে একজন রবিন বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা। স্বজনরা আফসানার লাশ পাওয়ার পর তাদেরকে ‘সমঝোতার’ প্রস্তাব দেওয়া হয় রবিনের পক্ষ থেকে। তাই ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড বলে জোরালো দাবি আফসানার স্বজন, সহপাঠী ও সহকর্মীদের। এমন চাঞ্চল্যকর ঘটনায় প্রধান সন্দেহভাজন তেজগাঁও কলেজ ছাত্রলীগের নেতা রবিনকে আটক বা জিজ্ঞাসাবাদের ন্যূনতম উদ্যোগ নেয়নি কাফরুল থানা পুলিশ। আটক করা হয়নি তার কোনো সহযোগীকে। গত এক সপ্তাহ প্রকাশ্যে ঘুরে রবিন ও তার সহযোগীরা আফসানার স্বজনদের ‘বাড়াবাড়ি’ না করার হুমকি দিয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ১৩ আগস্ট শনিবার আফসানার মৃত্যুর আগে রবিন তাঁর সঙ্গেই ছিল। মানিকদী এলাকার বাসায় আফসানা ও রবিন স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বাসা ভাড়া নেয়। তারা গোপনে বিয়ে করেছে বলেও দাবি করছেন বাড়ির মালিকের স্ত্রী। ওই বাসায় বৃহস্পতিবার থেকে রবিবার পর্যন্ত রবিন আফসানার সঙ্গে থাকত। আফসানার মৃত্যুর রাতে ওই বাসার পাশের একটি বাড়িতে ‘বাঁচাও, বাঁচাও’ চিৎকার শুনেছে এলাকাবাসী। স্বজনরা ধারণা করছে, সেই বাসায় রবিন ও তার সহযোগীরা শ্বাস রোধ করে হত্যা করেছে আফসানাকে।

পুলিশ কর্মকর্তারা দাবি করছেন, তাঁরা রবিনকে খুঁজে পাচ্ছেন না। এদিকে এক সপ্তাহ পার হলেও হত্যা বা আত্মহত্যায় প্ররোচণার কোনো মামলা দায়ের হয়নি। স্বজন ও পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, তাঁরা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করছেন।

অন্যদিকে আফসানার মৃত্যুর জন্য অভিযুক্ত রবিন ও তার সহযোগীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে গতকাল শুক্রবার রাজধানীর নয়াপল্টনে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন পল্টন থানা সংসদ। সেখানে পুলিশ তাদের কর্মসূচিতে বাধা দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন নেতারা। তাঁরা বলেন, কলেজ ছাত্রলীগ নেতা রবিনকে আটকের কোনো উদ্যোগ নেই। আবার ছাত্রলীগ দাবি করছে, রবিন তাদের কেউ নয়। অথচ বিচারের দাবিতে করা আন্দোলনে ছাত্রলীগ হামলা চালাচ্ছে। আফসানার মৃত্যুর বিচার দাবিতে আগামী ২২ আগস্ট স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কার্যালয় ঘেরাওয়ের কর্মসূচি ঘোষণা করেন ছাত্র ইউনিয়ন নেতারা।

কাফরুল থানার ওসি সিকদার মোহাম্মদ শামীম হোসেন বলেন, ‘প্রথমে আফসানার লাশ বেওয়ারিশ হিসেবে থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। আমরা মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছি। তাদের স্বজনরা কেউ হত্যা মামলা করতে আসেননি। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন হাতে এলেই অনেক কিছু বোঝা যাবে।’

তেজগাঁও কলেজের সাংগঠনিক সম্পাদক রবিনের নাম আসছে প্রশ্ন তুললে ওসি বলেন, ‘সন্দেহজনক সব কিছুই আমরা খতিয়ে দেখছি। আমাদের বেশ কয়েকটি টিম কাজ করছে।’