• আজ সোমবার, ১৪ অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ ৷ ২৯ নভেম্বর, ২০২১ ৷

মঠবাড়িয়ায় অবিরাম বৃষ্টিতে অতিষ্ট জনজীবন


❏ রবিবার, আগস্ট ২১, ২০১৬ দেশের খবর, বরিশাল

এস এম আকাশ, মঠবাড়িয়া প্রতিনিধি: আজ ৬ ভাদ্র। ভাদ্রের প্রকৃতি আজ বর্ষণময়। আজ সকাল থেকেই অবিরাম ভারি বর্ষণে প্লাবিত উপকূল। হালকা বাতাস আর মেঘের থেমে থেমে গর্জন। সেই সাথে অবিরাম ভারি বর্ষণে জীবনযাত্রা বিপর্যস্থ হয়ে পড়েছে। এ বছর বর্ষা মৌসুমের রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টি চলছে উপকূলজুড়ে। চারিদিকে মাঠঘাট, রাস্তাঘাট আর নদী নালায় পানিতে থইথই করছে। সেই সাথে বৈরী বাতাস। ভরা বৃষ্টির ভিতর কখনও নিকষ কালো আঁধারের মেঘে চারদিকে অন্ধকার ঘনিয়ে আসছে।

bisti

জানা গেছে, সকাল থেকে তুমুল ভারি বৃষ্টিতে মানুষ ঘরবন্দি অবস্থায় রয়েছে। স্কুল-কলেজে ছাত্রছাত্রীদের উপস্থিতি নেই। হাটে বাজারেও মানুষ নেই। নিম্ন আয়ের মানুষজন কাজে যেতে না পেরে চরম কষ্টে আছেন। মঠবাড়িয়া পৌর শহরের দক্ষিবন্দর একদিকে জোয়ারের পানি আর অন্য দিকে অবিরাম বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে ওই এলাকার কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।

অনেকেই জানিয়েছেন এত বৃষ্টি বহু বছর ধরে দেখা নেই। ভরা ভাদ্রের মতোই আজ অবিরাম ভারি বর্ষণ। চারিদিকে বৃষ্টির জলধারায় টইটুম্বুর। জনজীবন বৃষ্টিতে ঘরবন্দি। হাট বাজারের দোকানপাটে মানুষের দেখা মিলছে না। বেশির ভাগ দোকানপাটই বন্ধ। গৃহবন্দি মানুষের ঘুমের আমেজ।

মঠবাড়িয়া পৌর শহরের দক্ষিণ বন্দর এলাকার বাসিন্দা উৎস হালদার বাবু বললেন, এ রকম বৃষ্টি অনেক দিন পর দেখলাম। ঘর হতে বের হতে পারছি না। বৃষ্টি আর বৃষ্টি। এ অবিরাম বৃষ্টিতে জীবনযাত্রা অচল হয়ে পড়েছে। শহরের রাস্তাঘাট জলমগ্ন।

মঠবাড়িয়া উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এ বছরের রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে আজ। টানা ভারি বৃষ্টিতে মঠবাড়িয়াসহ উপকূলীয় এলাকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। জনজীবনে ভাদ্রের বৃষ্টির দুর্ভোগ নেমে এসেছে।

মঠবাড়িয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মনিরুজ্জামান সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানান, এখন আমন মৌসুমে এ উপকূলে চারা লাগানো চলছে। ভাদ্রের এই বৃষ্টি কৃষির জন্য সহায়ক হবে। তবে উপকূলের কিছু কিছু নিম্নাঞ্চলে কৃষি জমিতে পানি নিষ্কাশনের স্লুইস গেট সংকট ও বেরিবাঁধ সংকটে সমস্যা হতে পারে। সর্বোপরি ভাদ্রের এই বৃষ্টি আমন চাষে আশীর্বাদ হবে আশা করছি।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ ইকবাল হোসেন সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানান, এ বছরের রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টি চলছে উপকূলে। এতে নিম্নাঞ্চলে প্রচুর পানি বেড়েছে। এতে মাছের ঘের ও পুকুরে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। কোনো কোনো মাছ চাষির পুকুর, ঘের প্লাবিত হয়েছে। অবিরাম বৃষ্টি আরও দু-একদিন স্থায়ী হলে চাষকৃত মাছ ভেসে যেতে পারে। এমন হলে মাছ চাষিরা ক্ষতির সম্মূখীন হবেন।