🕓 সংবাদ শিরোনাম

শিশুকে ডায়াবিটিস থেকে দূরে রাখতে কী কী সতর্কতা অবলম্বন করবেনদক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াকে তৈরি থাকার বার্তা দিল ”হু”বুড়িগঙ্গায় ’সাকার ফিশ’র দখলে, হুমকিতে দেশীয় মাছরোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির থেকে ধারালো অস্ত্রসহ আটক-৫করতোয়ার তীরে নিথর পড়ে ছিলো মস্তকহীন নবজাতক!গাজীপুরে দুই শিশুকে ‘হত্যার’ পর ফ্যানে ঝুলে আত্মহত্যার চেষ্টা মা’য়ের!ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদ: জাহাজ চলাচল বন্ধ; সহস্রাধিক পর্যটক আটকা সেন্টমার্টিনেআখেরী মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হলো নীলফামারীর তিনদিন ব্যাপী ইজতেমাবঙ্গবন্ধুর শাসনব্যবস্থা নিয়ে গবেষণা করতে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রীর আহ্বানভোটে হেরে ক্ষোভ মেটাতে রাস্তায় বেড়া দিলেন প্রার্থী, ভোগান্তিতে পুরো গ্রাম!

  • আজ রবিবার, ২০ অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ ৷ ৫ ডিসেম্বর, ২০২১ ৷

গ্রেনেড হামলা: বিচার না পেয়ে হতাশ রংপুরের রেজিয়ার পরিবার


❏ রবিবার, আগস্ট ২১, ২০১৬ দেশের খবর, রংপুর

14101632_321909638153447_937136648_n


শাহরিয়ার মিম,রংপুর:

কয়েক বছর ধরে শয্যাশয়ী ছিলেন আফাজ উদ্দিন। মেয়ের মৃত্যুতে তিনি আরও ভেঙ্গে পড়েন। মেয়ের ছবি বুঁকে নিয়ে শুধুই কাঁদেন আর কাঁদেন। আর যাকে পান তাকেই বলেন- তার মেয়ের বিচার কবে হবে। মানুষ দেন আশ্বাস। তিনিও অপেক্ষার প্রহর গুনেন। এই বাবা মেয়ে হত্যার বিচার দেখে যেতে পারেন নি। ২০১৫ সালের ১২ রমজান পরপারে চলে যান। প্রায় এক যুগেও গ্রেনেড হামলায় নিহত রেজিয়া বেগমের বিচার না হওয়ায় নিহত রেজিয়ার দুই সন্তানসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা হতাশ হয়ে পড়েছেন। তারা দ্রুত বিচার চান । গত শুক্রবার বিকেলে রেজিয়ার বাড়িতে গেলে তারা রেজিয়াকে নিয়ে এভাবেই নানা কথা বলেন।আর কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।

২০০৪ সালের ১৭ আগষ্ট সারা দেশের বিভিন্ন স্থানে বোমা হামলার প্রতিবাদে ২১ আগষ্ট দলের কেন্দ্রীয় কার্যলয়ের সামনের সড়কে মহানগর আওয়ামীলীগের সমাবেশ ছিল। সমাবেশ শেষে সন্ত্রাসবিরোধী শান্তি মিছিল হওয়ার কথা ছিল। এ শান্তি মিছিলে নেতৃত্ব দেয়ার কথা ছিল আওয়ামীলীগ সভানেত্রী ও তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনার।মিছিল শুরুর আগ মুহূর্তে ট্রাকের ওপর নির্মিত খোলা মঞ্চে দাঁড়িয়ে শেখ হাসিনার বক্তব্য শেষ হওয়া মাত্র বিকেল ৫টা ২২মিনিটে তাকে লক্ষ্য করে মুহুর্মহু গ্রেনেড হামলা শুরু হয়। বিকট শব্দে একের পর এক বিস্ফোরিত হয় ১৩টি গ্রেনেড। মৃত্যুর জাল ছিন্ন করে প্রাণে বেঁচে যান শেখ হাসিনা। তার পরও শেখ হাসিনার গাড়িকে লক্ষ্য করে ১২টি গুলি ছুড়ে দুর্বৃত্তরা। নারকীয় ওই হামলায় রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার রেজিনা বেগমসহ ২২ জন প্রাণ হারান। আহত হন কয়েকশত নেতা কর্মী।

কাউনিয়া উপজেলার গঙ্গানারায়ন গ্রামের আফাজ উদ্দিনের মেয়ে রেজিয়া বেগম ১৯৯০ সালে কাজের সন্ধানে ঢাকা পাড়ি জমান। ঢাকার বাড্ডা এলাকায় ইন্ডিয়ান ভিসা অফিসে ছবি লাগানোর কাজ করে তিনি । ভাড়া থাকেন একই এলাকায়। সেখানে মহিলা আওয়ামীলীগের নেত্রী আয়শা মোকারমের সাথে তার পরিচয় হয়। তিনিও আপওয়ামীলীগের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। সমাবেশ স্থলের উদ্দেশ্যে আয়শার নেতৃত্বে একটি মিছিল বের হয়। সেই মিছিলে রেজিয়াও ছিলেন। তিনি সেই দিন গ্রেনেড হামলায় নিহত হন।

পরের দিন তার ছোট ছেলে নুরনবী(মোস্তুল্লাহ) তার লাশ সন্তাক্ত করেন। পরে আজিম পুর কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। একই সালে আওয়ামীলীগের পক্ষ থেকে নিহতের পরিবারের জন্য দেয়া হয় ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা। এর পর ২০১৩ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর ৮ লাখ টাকা দেয়া হয়। এখন তদের কোন অভাব নেই। তাদের চাওয়া শুধুই মায়ের বিচার।

রেজিয়ার বড় বোন আনোয়ারা বেগম বলেন-প্রতি বছর ২১ আগষ্টের ঘটনাগুলো টেলিভিশনে দেখি আর কাঁন্দি। বাড়িত বসে শাড়ির আচল দিয়ে বারবার বোনের ছবি মুছি। আমরা এখন ভালো বিচার চাই। ছোট ছেলে মোস্তুাল্লাহ জানান, তারা পুরো পরিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞ। এখন শুধ্ইু বিচার চান। তিনি এ সরকারের আমলেই বিচার দাবী করে বলেন- বিচার হলেই তার মায়ের আত্মা শান্তি পাবে। বড় ছেলে হারুন-অর- রশিদ বলেন- ৩৯ বছর পরে হলেও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিচার হয়েছে। আমার বিশ্বাস আমার মায়ের হত্যারও বিচার আমরা পাবো।

৫ নং বালাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনছার আলী নিজেকে নতুন চেয়ারম্যান দাবী করে বলেন- আগে কি হয়েছে জানি না। আমার আমলে রেজিয়ার পরিবার যাতে করে সরকারি সকল সুযোগ সুভিধা পায় আমি সেই চেষ্টা করে যাবো।