🕓 সংবাদ শিরোনাম
  • আজ বৃহস্পতিবার, ২৪ অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ ৷ ৯ ডিসেম্বর, ২০২১ ৷

অ্যাঞ্জেলিকা কিনোভা: ‘এক জীবন্ত বার্বির নাম’


❏ রবিবার, আগস্ট ২১, ২০১৬ চিত্র বিচিত্র

জীবন্ত বার্বি

মেহেদী হাসান গালিব, লাইফস্টাইল কন্ট্রিবিউটার, সময়ের কণ্ঠস্বর। ছোট্ট মেয়েদের অত্যন্ত পছন্দের একটি খেলার সামগ্রী হল বার্বিডল। বার্বিডল তাদের এতোই পছন্দের যে তারা সারাক্ষণ এটিকে কোলে নিয়ে আদর করে, এটির সাথে গল্প করে, আরো কত কী!

কিন্তু কেমন হবে যদি একটি বার্বি নিজ পায়ে হেঁটে বেড়ায়, নিঃশ্বাস নেয় আবার খাবার খায়? শুনতে খানিকটা অদ্ভুত হলেও রাশিয়ার মডেল অ্যাঞ্জেলিকা কিনোভা কিন্তু সবকিছুই করতে পারে। না, সে কোন বার্বি নয়। তবে তার পাশে যদি একটি বার্বিকে রেখে আলাদা করতে বলা হয়, তাহলে যে কাউকেই বেশ বেগ পেতে হবে। কারণ জন্মগতভাবেই অ্যাঞ্জেলিকার গঠন হুবহু বার্বিদের মতো।

প্রশস্ত চোখ ও মাত্র ২০ ইঞ্চি কোমরের অ্যাঞ্জেলিকার জন্ম মস্কো শহরে। পেশায় সে একজন শিশু মনোরোগ বিশেষজ্ঞ। এছাড়া সে ব্যালে ড্যান্সিং করতেও পারদর্শী। বাচ্চারা যেমন সবসময় তাদের প্রিয় বার্বি পুতুলদের নিজের তত্ত্বাবধায়নে রাখে, তেমনি অ্যাঞ্জেলিকার বাবা-মাও তাকে কঠোর অনুশাসনের মধ্যে রাখে। খাওয়াদাওয়া থেকে শুরু করে পোশাক নির্বাচন- সবকিছুই তার বাবা-মা নির্বাচন করে দেয়।

অ্যাঞ্জেলিকার মডেলিং ক্যারিয়ার ধরে রাখতেই তার বাবা-মা’র এতো সতর্কতা ও যত্ন। কিন্তু অতিরিক্ত যত্নে হাঁপিয়ে উঠেছে অ্যাঞ্জেলিকা। তাকে বার্বিদের মতোই পোশাক পরে থাকতে হয়। বন্ধু নির্বাচনেও তার নিজের কোন স্বাধীনতা নেই। এতো বড় হওয়ার পরেও তার এখন পর্যন্ত কোন ছেলে বন্ধু নেই। এমনকি সে একা বাড়ির বাইরেও যেতে পারে না।

অনেকে নিজেদের রুপ ও গঠন বার্বিদের মতো করতে সার্জারি পর্যন্ত করিয়ে থাকেন এবং বার্বিদের মত জীবনযাপন করেন। কিন্তু অ্যাঞ্জেলিকা তার এই জীবনযাপনে মোটেই খুশি নয়। বাবা-মা’র অতিরিক্ত সতর্কতা ও যত্ন তাকে দিন দিন সমাজে বসবাসের অযোগ্য করে গড়ে তুলছে বলে সে মনে করে।

বর্তমানে অ্যাঞ্জেলিকা পুরো বিশ্বে ‘জীবন্ত বার্বি’ নামে বেশ পরিচিত। তার এই বার্বি হয়ে ওঠার গল্পটি শুরু হয় একেবারে ছোটবেলায়। জন্মের পর যখন তার বাবা-মা লক্ষ্য করল তাদের মেয়ের চোখ দুটো দেখতে হুবহু বার্বি ডলের মত, তখন তারা বিস্মিত হয়ে যায়! আর তখন থেকেই মেয়েকে বার্বিরুপে তৈরি করতে থাকে। মেয়ের প্রাত্যহিক সকল কাজে নিয়ম বেঁধে দেয়।

তবে মজার বিষয় হল অ্যাঞ্জেলিকাই পৃথিবীর প্রথম মানুষ নয় যাকে দেখতে হুবহু বার্বিদের মতো। ইউক্রেনের ভ্যালেরি লুকিয়ানোভার গঠন ও সৌন্দর্যও বার্বিদের হুবহু মতই।