• আজ সোমবার, ২১ অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ ৷ ৬ ডিসেম্বর, ২০২১ ৷

আফসানা আত্মহত্যা করেছে দাবি ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকের


❏ সোমবার, আগস্ট ২২, ২০১৬ আলোচিত বাংলাদেশ

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক –  কলেজ ছাত্রী আফসানা ফেরদৌস আত্মহত্যা করেছেন বলেই মনে করছেন চিকিৎসক। তবে তার ওই বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছে নিহতের পরিবার।

গতকাল আফসানার মৃত্যুর ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ঢাকা, ঠাকুরগাঁও,  ময়মনসিংহ ও রাজবাড়ীতে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন। দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মধুর ক্যান্টিনে এক সংবাদ সম্মেলনে আফসানার ময়নাতদন্ত রিপোর্ট প্রত্যাখ্যান করে পুনরায় ময়নাতদন্তের দাবি জানিয়েছে প্রগতিশীল ছাত্রজোটের নেতারা।

afsana

ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) ফরেনসিক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এ কে এম শফিউজ্জামান বলেন, আফসানা আত্মহত্যা করেছেন বলেই মনে হচ্ছে। তার শরীরের কোথাও কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই। তবে আরও কিছু পরীক্ষা বাকি থাকায় আফসানাকে ধর্ষণ কিংবা বিষপ্রয়োগে হত্যা করা হয়েছিল কিনা সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আত্মহত্যায় যে ধরনের লক্ষণ থাকে, আফসানার ক্ষেত্রে সেগুলো পাওয়া গেছে। বিষপ্রয়োগে হত্যা করা হয়েছে কিনা বা তাকে ধর্ষণ করা হয়েছিল কিনা তা যাচাইয়ের জন্য নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। সেই প্রতিবেদন হাতে পেলে হত্যার কারণ নিশ্চিতভাবে বলা যাবে।

এদিকে, আফসানার মৃত্যুকে ‘আপাতদৃষ্টিতে আত্মহত্যা’ বলে যে তথ্য ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক দিয়েছেন তা প্রত্যাখ্যান করেছে তার পরিবার। চিকিৎসকের মন্তব্যকে ‘বানোয়াট’ উল্লেখ করে নিহতের পরিবার বলছে, এটা প্রাথমিক ধারণা হলেও আমরা এ ধরনের রিপোর্ট বিশ্বাস করি না। যদি এ ধরনের রিপোর্ট আসে তাহলে দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্ত করার দাবি জানাবেন তারা।

আফসানার ভাই ফজলে রাব্বী বলেন, আমরা হতভম্ভ। প্রতিবেশী যখন বলছেন তারা বাঁচাও বাঁচাও চিৎকার শুনতে পেয়েছেন, তখন কীভাবে ময়নাতদন্তকারী এটাকে আত্মহত্যা বলতে পারলেন? আমি বিশ্বাস করি না, আমার বোন আত্মহত্যা করেছে। ঘটনার পর তার বন্ধু রবিন যে আচরণ করেছে এবং সমঝোতার চেষ্টা করেছে এমনকি এখনো রবিনের চাচাতো ভাই শাহেদ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে—সেটার পর আত্মহত্যা ভাবার কোনো কারণ দেখি না। গত ১৩ আগস্ট রাতে সাইক ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড টেকনোলজির স্থাপত্যবিদ্যার শিক্ষার্থী ও ছাত্র ইউনিয়ন কর্মী আফসানাকে অচেতন অবস্থায় মিরপুরের আল-হেলাল হাসপাতালে ফেলে যায় দুই তরুণ। তার আগেই আফসানার মৃত্যু হয়েছে বলে চিকিৎসকরা জানান। আফসানাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে দাবি করে তার পরিবার বলছে, এর জন্য তেজগাঁও কলেজ ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রবিন দায়ী।