🕓 সংবাদ শিরোনাম

প্রায় ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে এফডিসিতে নির্মিত হলো নান্দনিক মসজিদএকদিনে সাড়ে ৯ হাজার করোনা রোগী শনাক্ত, মৃত্যু ১২ফরিদপুরে অবৈধ অস্ত্র ও মাদকসহ গ্রেপ্তার ২আমাদের যা আছে, তা দিয়েই সামনে এগিয়ে যাব: প্রধানমন্ত্রীএসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েও অর্থের অভাবে উচ্চ শিক্ষা অনিশ্চিত শুভ’রমহামারি এখনই শেষ হচ্ছে না, সৃষ্টি হতে পারে নতুন ভ্যারিয়েন্ট: টেড্রোসখাগড়াছড়িতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২নৌকা থেকে লাফিয়ে পালালো পাচারকারী, বিপুল আইস-ইয়াবা উদ্ধারশাবি উপাচার্যের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ শিক্ষার্থীদেরমালয়েশিয়ায় প্রতারণার অভিযোগে নাবিস্কো ভাইয়া গ্রুপের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন

  • আজ বুধবার, ৫ মাঘ, ১৪২৮ ৷ ১৯ জানুয়ারি, ২০২২ ৷

লাভজনক হওয়ায় ঝিনাইদহে বৃদ্ধি পাচ্ছে ড্রাগন ফলের চাষ


❏ সোমবার, আগস্ট ২২, ২০১৬ অর্থনীতি

আরাফাতুজ্জামান, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি: পরিচিত ফসল চাষের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে এসে নতুন নতুন ফসল চাষে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের আশরাফ হোসেন স্বপন সফলতা পেয়েছেন। পরিচিতি পেয়েছেন সৃজনশীল চাষী হিসেবে। উৎপাদন যথাযথ হবে কিনা তা নিয়ে সংশয় থাকা সত্বেও ঝুঁকি নিয়ে নতুন নতুন ফসল চাষ করে চলেছেন তিনি। এবার বিদেশি ড্রাগন ফল চাষ করে এলাকায় রীতিমত হৈ চৈ ফেলে দিয়েছেন। লাভজনক হওয়ায় ড্রাগন চাষ সম্প্রসারণও করেছেন। এখন ছড়িয়ে দিতে চান জেলা ব্যাপী। চাষী স্বপন ক্রমাগত নতুন নতুন চাষে নিজের ভাগ্যের পরিবর্তনের পাশাপাশি তিনি অন্যের জন্য পথিকৃত হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন।

dragon-fol

কৃষি উদ্যোক্তা স্বপন জানান, প্রথম দিকে ধান, পাট ও আখের মতো পরিচিত ফসল চাষ শুরু করলেও কয়েক বছর পরেই চাষে বৈচিত্র আনেন। ধান-পাট বাদ দিয়ে শুরু করেন ফুল চাষ। ২০০১ইং সাল থেকে ২০১০ইং সাল পর্যন্ত দেশি বিদেশি বিভিন্ন প্রজাতির ফুল চাষ করে ভালো মুনাফাও পেয়েছিলেন। তার দেখাদেখি অনেকে ফুল চাষ করে লাভবান হয়েছেন। কিন্তু বর্ষা মৌসুমে ফুল চাষীদের বেশ মন্দা সময় যায়। এ সময় ফুল ও গাছে পঁচন ধরে। বাজার দরও কম পাওয়া যায়। এ জন্য নতুন ফসল চাষে মনোযোগ দেন তিনি। এক সময় টেলিভিশন ও পত্র পত্রিকায় স্ট্রবেরি চাষ নিয়ে প্রতিবেদন দেখে এ ফল চাষে আগ্রহ জন্মে তার। ২০১৪ইং সালে ১৮ শতক জমিতে স্ট্রবেরী চাষ শুরু করেন। প্রথম বছরে খুব বেশি লাভ না পেলেও পরের বছর নিজের উৎপাদিত চারা দিয়ে ৬৮ শতক জমিতে স্ট্রবেরী চাষ করে আর্থিকভাবে বেশ লাভবান হন।

স্বপন জানান, বালিয়াডাঙ্গা বাজারে তার একটি কিটনাশক ও বীজ এর ব্যবসা প্রতিষ্ঠা আছে। সেই সূত্রে একটি কোম্পানীতে চাকুরী করা কৃষিবিদ আব্দুল্লাহ আল নোমানের সাথে পরিচয় হয়। তারই অনুপ্রেরণায় ২০১৪ইং সালে ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চারা এনে ২৫ শতক জমিতে ড্রাগন চাষ শুরু করেন। প্রতিটি চারা ১’শ ২০ টাকা দরে ক্রয় করেন। ড্রাগন চাষের জন্য জমি প্রস্তুত করে কংক্রিটের পিলার স্থাপন করতে হয়। একটি কংক্রিটের পিলারের চার পাশে ৪টি চারা লাগনো হয়। এক একরে ৫’শটি চারা লাগানো যায়। পিলারের উপরে একটি টায়ার বেঁধে দেয়া হয়। এই টায়ারের উপর ড্রাগনের শাখা প্রশাখা ছড়িয়ে থাকে। স্বপন জানান, অক্টোবর মাসে ড্রাগন চারা লাগানো হয়। প্রায় ১৮ মাস পরে গাছে ফল আসে। ১ বিঘা জমিতে ড্রাগন চাষে ফল আসা পর্যন্ত প্রায় ২ লক্ষ টাকা খরচ হয়।

সাধারণত জুলাই আগষ্টে ফল পাকতে শুরু করে। ফুল আসার ৪০ থেকে ৪৫ দিনের মাথায় ফল পেকে যায়। একটি পরিপুষ্ট পাকা ফলের ওজন প্রায় ৩’শ থেকে ৪’শ গ্রাম হয়। এক নাগাড়ে প্রায় ৩ থেকে ৪ মাস ফল সংগ্রহ করা যায় বলে চাষি স্বপন জানান।

স্বপন আরো জানান, এ ফল চাষে রাসায়নিক সার প্রয়োগ করতে হয় না। সাধারণত কেঁচো কমপোষ্ট সার প্রয়োগ করা হয়। ঔষুধ প্রোয়গ করা লাগেনা। পাঁকা ফল ফ্রিজিং বাদেই ৮ থেকে ১০ দিন ভালো থাকে। এলাকায় ড্রাগন চাষ ছড়িয়ে দিতে তিনি ৫ হাজার চারা দিয়েছেন। কেউ এ ফল চাষে আগ্রহী হয়ে তার কাছে আসলে পরামর্শ সহ তাকে যাবতীয় সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন।

এদিকে কালীগঞ্জে বোরহান উদ্দিন নামের এক সৌখিন চাষি প্রায় ৩ বছর আগে শখের বশে ড্রাগনের চাষ শুরু করেন। ২৮ শতক ড্রাগনের ক্ষেত থেকে প্রথম বছর খুব একটা লাভ আসেনি। বোরহান জানান, ড্রাগন চাষে প্রথম বছর খরচ একটু বেশি হয়। পরের বছর থেকে খরচ নেই বললেই চলে। এ বছর গাছের পরিচর্যা, সেচ ও সার বাবদ ২৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। তবে এ মৌসুমে (২০ আগষ্ট) এ পর্যন্ত তিনি প্রায় ৩ লক্ষ টাকার ড্রাগন ফল বিক্রি করেছেন। এ বছর তিনি আরো ১ লক্ষ টাকার ফল বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন। ড্রাগন একবার লাগালে একনাগাড়ে ২৫ বছর ফল পাওয়া যায়। তাই এই ফল চাষে যেকোন কৃষকই লাভবান হতে পারবেন। ড্রাগন ফল স্থানীয় বাজারেও বিক্রি হচ্ছে। কালীগঞ্জের মুনছুর প্লাজার সামনে অনন্ত ফল ভান্ডারে ড্রাগন ফল বিক্রি হয়।

ফল বিক্রেতা কৃঞ্চ জানান, সাধারণ ক্রেতাদের কাছে ড্রাগন ফল অপরিচিত ও এর দাম বেশি হওয়ায় অন্যান্য ফলের তুলনায় বিক্রি কম হয়। তবে আগের তুলনায় বিক্রি বেড়েছে। বোরহান জানান, তিনি অধিকাংশ ফল ঢাকা স্বপ্ন ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে বিক্রি করেন। বাংলাদেশে উৎপাদিত ড্রাগন ফল বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে বলে তিনি জেনেছেন। ফলের সাইজ অনুযায়ী প্রতি ড্রাগন ২৫ টাকা থেকে ৩৫০ টাকা দরে বিক্রি করা হয়।

কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ জাহিদুল করিম সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানান, বাংলাদেশে এ ফলের চাষ এখনও সেভাবে শুরু হয়নি। কালীগঞ্জ উপজেলায় বোরহান ও স্বপন নামের ২ জন চাষী ক্যাটকাস প্রজাতির এ ফলের চাষ শুরু করেছেন। অধিক পুষ্টি গুন সম্পন্ন এ ফল চোখকে সুস্থ্য রাখে, শরীরের চর্বি কমায়, রক্তের কোলেস্টেরল কমায়, উচ্চ রক্তচাপ কমানো সহ বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ করে। ঢাকাতে এ ফলের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। স্থানীয় বাজারেও এ ফল বিক্রি শুরু হয়েছে। উপজেলার চাষিদের উদ্বুদ্ধকরণের মাধ্যমে আগামী ৩ বছরে কমপক্ষে ১০ হেক্টর জমিতে লাভজনক ড্রাগন ফলের চাষ সম্প্রসারন করার পরিকল্পনা আছে বলে তিনি জানান।