কৃষকেরা ঘুরে দাড়ানোর চেষ্টায় কলা গাছের ভেলায় বীজতলা !


❏ সোমবার, আগস্ট ২২, ২০১৬ রংপুর

ফরহাদ আকন্দ, গাইবান্ধা প্রতিনিধিঃ গাইবান্ধা জেলার বন্যা কবলিত এলাকার কৃষকরা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টায় কলা গাছের ভেলাকে বীজতলা হিসেবে ব্যবহার করছেন।

গাইবান্ধার ফুলছড়ি ও সাঘাটাসহ চার উপজেলায় এমন অভিনব চেষ্টা চোখে পড়ে। কৃষকরা মনে করছেন, এর মাধ্যমে ন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নেবেন।

ফুলছড়ি উপজেলার রসুলপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল আলিম জানান, কয়েক দফা বন্যায় বীজতলা পানিতে ডুবে পচে নষ্ট হয়ে গেছে। কার্যকরী কৌশল হিসেবে তারা কলার ভেলাকে বীজতলা হিসেবে ব্যবহার করছেন।

একই গ্রামের কৃষক আব্দুস সাত্তার বীজতলা তৈরির পদ্ধতি জানান, এভাবে বন্যার পানিতে ডুবিয়ে যাওয়া খাল, বিল ও বিভিন্ন পুকুরসহ জলাশয়ে কলার ভেলার উপর খড় বিছিয়ে দেওয়া হয় প্রথমে। তার উপর কাদামাটি দিয়ে আমন ধানের বীজতলা তৈরি করা হয়।

bijতিনি আরও জানান, বন্যার পানি বৃদ্ধি বা কমে গেলেও ভেলার কিছুই হবে না ও বীজতলা নষ্ট হওয়ার কোন আশঙ্কা নেই।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বেলকা গ্রামের কৃষক আব্দুর রহমান জানান, এলাকার কয়েকজন কৃষক পরীক্ষামূলক ভাবে কলার গাছের ভেলায় বীজতলা তৈরি করলেও চারা ভাল হয়েছে।

একই উপজেলার হরিপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল মান্নান জানান, তিনি আগস্টের শেষ সপ্তাহে বীজতলা থেকে চারা তুলে জমিতে রোপন করবেন। একই গ্রামের মোনায়েম হোসেন জানান, এ পদ্ধতিতে চারা সঙ্কট কিছুটা হলেও কাটিয়ে উঠছেন। তবে পরবর্তীতে বন্যা না হলে ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।

গাইবান্ধা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক রুহুল আমিন জানান, সাঘাটা, ফুলছড়ি, সুন্দরগঞ্জ ও সদর উপজেলায় ৭৭ হেক্টর বীজতলা নষ্ট হয়েছে বন্যায়। তবে এখনো রোপা আমন ধান রোপনের সময় আছে।