• আজ শুক্রবার, ৭ মাঘ, ১৪২৮ ৷ ২১ জানুয়ারি, ২০২২ ৷

যারা ব্রিটিশ মূল্যবোধের বিরুদ্ধে দাঁড়াবেন, তাদের নামাজ পড়ায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ


❏ মঙ্গলবার, আগস্ট ২৩, ২০১৬ আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক –  ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট জানিয়েছে, ‘সহিংসতা ও ধর্মীয় উগ্রবাদ প্রতিরোধে’ মুসলমান কারাবন্দিদের বিচ্ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্রিটিশ সরকারের বিচার মন্ত্রণালয়।
বিচার মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট বলছে, সোমবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সবমিলে ৮টি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এর অংশ হিসেবে যারা ব্রিটিশ মূল্যবোধের বিরুদ্ধে দাঁড়াবেন, তাদের নামাজ পড়ায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উগ্রবাদী প্রচারণামূলক বইপত্র নিষিদ্ধ করারও সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিচার মন্ত্রণালয়। পাশাপাশি কারাগারে যে ধর্মীয় নেতারা রয়েছেন তাদের তীব্র নজরদারির মধ্যে রাখারও সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে কারাগারের সংস্কারে কাজ করা মানবাধিকারকর্মীদের কেউ কেউ এই পদক্ষেপকে সন্দেহের চোখে দেখছেন।

real-terorist

বিচার মন্ত্রলাণয় বলছে, যুক্তরাজ্যের কারাগারগুলোতে উগ্রবাদী কর্মকাণ্ডের হুমকি ক্রমেই বাড়ছে এবং ‘জরুরি ভিত্তিতে’ তা প্রতিরোধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এক বিবৃতিতে বিচার মন্ত্রণালয় জানায়, ‘সন্ত্রাসী ও ধর্মীয় চরমপন্থীদের রুখতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। অন্যান্য কারাবন্দিদের থেকে তাদের বিচ্ছিন্ন করারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যেন তারা উগ্রবাদী হুমকি ছড়িয়ে দিতে না পারে’।

সম্প্রতি ব্রিটেনের অন্যতম প্রধান ইসলামি ধর্মবেত্তা আনজেম চৌধুরী আনজেম চৌধুরী ও মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়। সে সময় স্পেশাল ক্রাইম এন্ড কাউন্টার টেররিজম-এর প্রধান সু হ্যামিং জানান, ‘আমাদের কাছে প্রমাণ আছে আনজেম চৌধুরী ও রহমান আইএস এ যোগ দেয়ার জন্য সাধারণ মুসলিমদের দাওয়াত দিচ্ছেন। ২০১৪ সালের ২৯ জুন এবং চলতি বছরের ৬ মার্চ এই দুই ব্যাক্তি একই ধরণের অপরাধ করেছেন। যা সন্ত্রাসবাদ আইন- ২০০০ এর ১২ ধারাকে অমান্য করেছে।’ অপরাধ প্রমাণিত হলে এ মৌলবাদী ধর্মবেত্তার ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে বলে জানিয়েছে আদালত।

কারাগারে নতুন পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক এক ঘটনা ভূমিকা রেখেছে। গত দশ বছরে জঙ্গিবাদের উত্থানের সঙ্গে সঙ্গে ব্রিটিশ কারাগারগুলোতে মুসলিমদের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় কয়েদিদের নিবন্ধনের নতুন পদ্ধতি গ্রহণ করা হচ্ছে। গভর্নররাও জঙ্গিদের কারাগারের মধ্যেই পৃথকভাবে রাখার আবেদন জানান, যাতে করে তারা অন্যদের মধ্যে উগ্রপন্থা বিস্তার করতে না পারে।

সমালোচকরা কারাগারে বিচ্ছিন্নতা সৃষ্টির এই পদক্ষেপের নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এ নিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের সঙ্গে কথা বলেছেন কারা সংস্কার বিয়ষক এক প্রতিষ্ঠানের পরিচালক পিটার ডাওসন। তিনি মনে করেন, যদি খুবই যথাযথ ও সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে সত্যিকারের উগ্রপন্থীদের চিহ্নিত করা হয় তাহলে সমস্যার কিছু নেই। তবে তিনি একে ক্ষণস্থায়ী সমাধান উল্লেখ করে স্মরণ করিয়ে দেন, চূড়ান্ত অর্থে চরমপন্থী কারাবন্দিদের বিচ্ছিন্ন রাখলে তা ইতিবাচক হবে না। সাময়িক বিচ্ছিন্ন রাখলেও তাদের মূলধারার সঙ্গে যুক্ত করতেই হবে। তা না হলে চরমপন্থী কারাবন্দিদের ওই বিচ্ছিন্নতা আরও ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি করবে বলে মত তাদের।

তবে আইন ও বিচার বিষয়ক সচিব লিজ ট্রাস দাবি করেন, ‘কারাগারের অভ্যন্তরেও যেন বিষাক্ত মতাদর্শ সংক্রমিত হতে না পারে’ সেজন্য এই পদ্ধতি অবলম্বন করা জরুরি। এই ঘোষণার সঙ্গে সরকারের একটি প্রতিবেদনও প্রকাশ হয় যাতে দেখা যায় কারাভ্যন্তরে মতাদর্শ ও ভীতি সঞ্চারের চেষ্টা চলছে।

প্রাতিষ্ঠানিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইংল্যান্ড ও ওয়ালসের কারাগারগুলোতে অন্তত ১২ হাজার ৬০০ মুসলিম আটক আছেন। অথচ মাত্র এক দশক আগেই এই সংখ্যা ছিলো মাত্র ৮ হাজার ২০০।  জঙ্গিবাদের দায়ে কারাভোগী ১৪৭ জনের মধ্যে ১৩৭ জনই নিজেদের মুসলিম বলে পরিচয় দিয়েছেন