🕓 সংবাদ শিরোনাম
  • আজ শুক্রবার, ১৪ মাঘ, ১৪২৮ ৷ ২৮ জানুয়ারি, ২০২২ ৷

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় একদিনেই অর্ধশতাধিক হামলা চালাল ইসরায়েল


❏ মঙ্গলবার, আগস্ট ২৩, ২০১৬ আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক –   একদিনেই ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় অর্ধশতাধিক হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। গাজার সাম্প্রতিক দুইটি রকেট হামলার জবাবে ধারাবাহিক বিমান ও ট্যাংক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে তারা। তারই অংশ হিসেবে রবিবারের ওইসব হামলা সংঘটিত হয়।

উল্লেখ্য রবিবার গাজা থেকে ইসরায়েলের রকেট ছোড়ার দাবি জানিয়েছে ফিলিস্তিনের মুক্তি আন্দোলনের দুটি সংগঠন। গাজায় সম্প্রতি বেশ সক্রিয় হয়ে ওঠা সালাফিদের একটি ক্ষুদ্র গোষ্ঠী আহফাদ আ-সাহাবা এবং পপুলার ফ্রন্ট ফর দ্য লিবারেশন অব ফিলিস্তিন, উভয়েই রকেট ছোড়ার দায় স্বীকার করেছে। এ রকেট হামলার জবাবে ইসরায়েল ৫০টি হামলা চালায়। এসব হামলা ফিলিস্তিনের বিভিন্ন সশস্ত্র গ্রুপকে লক্ষ্য করে চালানো হয় বলে ইসরায়েলের সেনা সূত্র জানিয়েছে।

gaza

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর একটি সূত্র গার্ডিয়ানকে জানিয়েছে, গাজার নিয়ন্ত্রক হামাসের আজ্জেদিন কাসাম ব্রিগেড, ইসলামিক জিহাদের কুদস ব্রিগেড ও পিএফএলপিকে লক্ষ্য করে এসব হামলা চালানো হয়। সেন্ট্রাল গাজার উত্তরের এলাকা আল বুরেজ ও বেইত হানাউনে আর্টিলারি নিক্ষেপ করা হয়। হামলায় ১৭ বছরের এক কিশোরসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

রবিবারের এ অভিযানে সাম্প্রতিক সময়ে ফিলিস্তিনে ইসরায়েলি হামলা ধারাবাহিকতাকে ভেঙে দিয়েছে।  ফিলিস্তিনি মুক্তি আন্দোলনের সশস্ত্র সংগঠন হামাস দাবি করেছে, ইসরায়েল এ হামলার মধ্য দিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি করছে।

এদিকে হামলা সম্পর্কে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা গেছে, ইসরায়েল দুই ধাপে এবারের হামলা চালায়। প্রথমটি রকেট হামলার পরপরই পরিচালিত হয়। দ্বিতীয় হামলা হয় রাতে। এতে ইসরায়েলের তিনটি যুদ্ধ বিমান ও ট্যাংক গোলাবর্ষণ করে।

হামাসের মুখপাত্র এক বিবৃতিতে দাবি করে, ‘গাজা উপত্যকায় অস্থিরতা বৃদ্ধির জন্য আমরা ইসরায়েলকে দায়ী করছি। আমরা বলতে চাই, এ আগ্রাসন আমাদের মানুষের ইচ্ছা ও প্রতিরোধের শক্তিকে দমাতে পারবে না।’

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘ইসরায়েল এখনও এ অঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় রাখায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দক্ষিণ ইসরায়েলের জনগণের শান্তি নিশ্চিত করতে এ হামলা চালানো হয়েচে। যখন গাজা উপত্যকার হামাস সন্ত্রাসীরা বিদ্বেষপূর্ণ উগ্র কমর্সূচি বাস্তবায়ন করছে, গ্রীষ্মের ছুটির মাঝামাঝিতে হামলা চালাচ্ছে, তখন তাদের লক্ষ্য স্পষ্ট- তারা যন্ত্রণা আনতে চায়, ভয় ছড়াতে চায় এবং সন্ত্রাস কায়েম করতে চায়।’

তবে ২০১৪ সালের যুদ্ধের পর হামাসকে এখন আর খুব শক্তিশালী মনে করে না ইসরায়েল। হামাসও নিজেদের ক্ষতি ও শক্তির বিষয়ে অবগত। ফলে এ সময়ে হামাস ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে তেমন কোনও হামলা চালায়নি। ছুরিকাঘাতে ইসরায়েলি হত্যা ও বিপরীতে গাজায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর গুলিতে ফিলিস্তিনির মৃত্যু ছাড়া ২০১৪ সালের পর বড় ধরনের হামলার ঘটনা ঘটেনি।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।