• আজ সোমবার, ১০ মাঘ, ১৪২৮ ৷ ২৪ জানুয়ারি, ২০২২ ৷

দাদন ব্যবসায়ীর নির্মম নির্যাতনের শিকার কুয়াকাটার দুই জেলে


❏ মঙ্গলবার, আগস্ট ২৩, ২০১৬ দেশের খবর, বরিশাল

পটুয়াখালী প্রতিনিধি: দাদনের আট হাজার টাকার জন্য মধ্যযুগীয় নির্যাতনের শিকার হয়েছে কুয়াকাটার সহদর দুই জেলে। মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে এ নির্মম নির্যাতনের ঘটনাটি ঘটেছে লতাচাপলী ইউনিয়নের খাজুরা গ্রামে।344dd

নির্যাতনের শিকার জেলেরা হচ্ছে আবুতালেব (২৫) ও হেলাল (২০)। নির্যাতনের শিকার দুই জেলেকে অচেতন হওয়ার পর তাদের মা ময়না দাদনের অবশিষ্ট টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পর রশিদিয়ে বন্দিদশা থেকে মুক্ত করেন। ঘটনাটি সালিস মিমাংসার মাধ্যমে ধামাচাপা দেওয়ার জন্য দৌড়-ঝাপ শুরু করেছে নির্যাতনকারী দাদন ব্যবসায়ী কুদ্দুস মৃধা।

নির্যাতনের শিকার জেলে আবু তালেবের বড় ভাই মনির সাংবাদিকদের জানায়, তার ভাই আবু তালেব ও অপর জেলে ইলিয়াসকে ২০১৩ সালে মৃধা ফিসের মালিক কুদ্দুস মৃধা ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা দাদন দিয়েছিলো। তারা দুই ভাইয়ের নেওয়া দাদনের টাকা পরিশোধ করার পরে মাত্র আট হাজার টাকা বকেয়া থেকে যায়। অবশেষে গতকাল মঙ্গলবার ওই পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে কুদ্দুস মৃধাসহ তার লোকজন তার দুই ভাইকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে। এঘটনায় উভয় পক্ষ হাতাহাতিতে লিপ্ত হয়ে পরে। এক পর্যায়ে কুদ্দুস মৃধা তার লোকজন নিয়ে আবুতালেব ও তার ভাই হেলালকে ধরে তাদের মাছের আড়দে নিয়ে আসে। তাদের মোটা রশি দিয়ে বেঁধে দিনভর নির্যাতন চালানো হয়। নির্যাতনের একপর্যায়ে অচেতন হয়ে পরলে আহত দুই জেলের মমতাময়ী মা ময়না বেগম দাদন টাকা পরিশোধ করার শর্তে ছাড়িয়ে নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে দাদন ব্যবসায়ী আড়ৎদার কুদ্দুস মৃধা মারধরের কথা অস্বীকার করে বলেন, আমার দাদনের টাকা পরিশোধ না করে অন্যত্র মাছ বিক্রয় করছে। আমি টাকা চাইতে গেলে আমার ওপর হামলা করে। পরবর্তীতে খবর পেয়ে মৎস্য শ্রমিকরা গিয়ে আমাকে উদ্ধার করে এবং ওদের ধরে গদিতে আনা হয়েছে।

এ ব্যাপারে নির্যাতনের শিকার দুই জেলের মা ময়না বেগম জানান, কুদ্দুস মৃধা ও তার লোকজন তার ছেলেদের ধরে নিয়ে অমানষিক নির্যাতন শেষে রাস্তায় ফেলে রেখেছেন। তিনি গিয়ে টাকা পরিশোধ করার শর্তে বাড়িতে নিয়ে এসছেন। চিকিৎসার প্রয়োজন থাকলেও যেতে পারছেন না। প্রভাবশালী আড়ৎদাররা ওই দিন সন্ধ্যায় সালিশ বৈঠকের নামে তাদের আটকে রাখা হয়েছে।

কুয়াকাটা-আলীপুর মৎস্য আড়ৎদার সমবায় সমিতির সভাপতি ও লতাচাপলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আনছার উদ্দিন মোল্লা বলেন, নির্যাতনের ধরণ দেখে মনে হয়েছে হিংস্র পশু আক্রমন করেছে। দাদন ব্যবসায়ীরদের এমন নির্যাতনের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। পাশাপাশি উন্নত চিকিৎসার জন্য পরামর্শ দিয়েছি।

তবে মহিপুর থানার ওসি মাকসুদুর রহমান বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।