• আজ সোমবার, ১০ মাঘ, ১৪২৮ ৷ ২৪ জানুয়ারি, ২০২২ ৷

উত্তাল টেলিটক- বেতন ভাতা বৃদ্ধির জন্য লাগাতার আন্দোলনের দ্বিতীয় দিন অতিক্রান্ত


❏ মঙ্গলবার, আগস্ট ২৩, ২০১৬ ঢাকা, দেশের খবর, স্পট লাইট

সময়ের কণ্ঠস্বর –

শতভাগ বেতন ভাতা বৃদ্ধি এবং বকেয়া প্রদানের জন্য গত জুলাই,২০১৫ থেকে চলমান আন্দোলনের অংশ হিসাবে টেলিটক কর্মকর্তা ও কর্মচারীগন সারা বাংলাদেশে (ঢাকা সহ সকল জেলা শহরের)গত ২১শে আগষ্ট,২০১৬ থেকে লাগাতার কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচী পালন করে আসছে।

এর আগে সর্বশেষ গত ২রা আগস্ট টেলিটক পে কমিটির মাননীয় চেয়ারম্যানের হস্তক্ষেপ এবং টেলিটকের কারীগরি সহায়তায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কতৃক এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের জন্য কর্মসূচি ২০(বিশ) দিনের স্থগিত করা হয়।

কতৃপক্ষের উদাসীনতার জন্য উক্ত আশ্বাসকৃত সময়ের মধ্যে কোন ফলপ্রসূ অগ্রগতি পরিলক্ষিত না হওয়ার দরূন পূনরায় লাগাতার কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচী গ্রহন করতে বাধ্য হয়েছে।

এ সম্পর্কে টেলিটক এম্পয়ীজ ওয়েলফেয়ার এ্যাসোসিয়েশন(টেওয়া) এর সভাপতি এর প্রশ্নের জবাবে বলেন “দীর্ঘদিনের অবহেলা এবং কাজের প্রাপ্য সম্মানি না পাবার জন্য আজ আমরা পথে নামতে বাধ্য হয়েছি,টেলিটক আমাদের পরিবার আমরা চাই পরিবারে ফিরে যেতে কতৃপক্ষের একটি সঠিক পদক্ষেপ আমাদের ঘরে ফিরে যেতে সাহায্য করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন”।

14080943_10209693057938422_567107313_n

তিনি আরো বলেন সরকার নিয়ন্ত্রিত সকল স্বায়ত্বশাষিত প্রতিষ্ঠানে শতাভাগ বেতন বৃদ্ধি হলেও আমরা পিছিয়ে পড়েছি শুধুমাত্র কতৃপক্ষের উদাসীনতার কারনে । অনুসন্ধানে জানা যায় যে, বর্তমান সরকারের শাসন আমলে গত অর্থ বছরে টেলিটক লাভের মুখ দেখে। বর্তমানে টেলিটকের মূল আয়ের মাত্র ৩(তিন)% খরচ হয় টেলিটকের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন বাবদ । ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম টেলিটক রিব্রান্ডিং অনুষ্ঠানে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির ব্যাপারে আশ্বাস প্রদান করলেও বাস্তবে তা আলোর মুখ দেখেনি। সামগ্রিক দিক বিবেচনা করে টেলিটক এম্পয়ীজ ওয়েলফেয়ার এ্যাসোসিয়েশন(টেওয়া) সাধারন সম্পাদক এক ফেসবুক বার্তায় উল্লেখ করেন

১) এন্ট্রি লেভেলে টেলিটক এমপ্লয়ীদের বেতন (১৭ হাজার টাকা) সরকারী চাকুরীজীবিদের (২২ হাজার টাকা) চেয়ে ৩০% কম, বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন এবং বিতরণ কোম্পানিদের (৫২ হাজার টাকা) চেয়ে ২০৫% কম এবং পল্লী বিদ্যুতের (৪৪ হাজার টাকা) চেয়ে ১৫৫% কম। তারপরও তারা বলে “টেলিটকের এমপ্লয়ীদের বেতনতো এমনিতেই বেশি, তারপরও কেন এরা বেতন বৃদ্ধির আন্দোলন করে! দেখি ক্যামনে বেতন বাড়ায়।”

২) প্রতি বছর টেলিটক এমপ্লয়ীদের বেতন-ভাতা বাবদ যা খরচ হয়, তা টেলিটকের বাৎসরিক আয়ের ৩.৫% প্রায় এবং বাৎসরিক মোট খরচের ৩% প্রায়। বাকি ৯৭% খরচ কমানোর দিকে তাদের কোন নজর নাই, বরং বছর বছর তা বেড়েই যায়। অথচ খরচের বাকি ৯৭% থেকে যদি ৫% ও কমানো যায় তাহলেও টেলিটক এমপ্লয়ীদের বেতন তিনগুণ করা সম্ভব। কিন্তু তাদের যত নজর এমপ্লয়ীদের ৩%-এর দিকে। এই ৩% যদি একটু বেড়ে যায় তাহলে নাকি কোম্পানি বন্ধ হয়ে যাবে!
৩) ২০০৪ সালে টেলিটক শুরু হওয়ার পর থেকে সরকারী বেতন তিন দফায় বেড়েছে প্রায় ৩০০%, আর টেলিটকের বেতন বেড়েছে মাত্র ৭০% (২০১১ সালে)। তারপরও টেলিটকের এমপ্লয়ীরা বেতন বৃদ্ধির দাবী করলে সেটা নাকি অযৌক্তিক দাবী।

দ্বিতীয় দিনের লাগাতার কর্মসূচিতে টেলিটকের সারাবাংলাদেশ থেকে আগত প্রায় ৫০০ শতাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারী সহ প্রশাসনিক বিভাগের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীগন উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া টেলিটকের সকল বিভাগের উপ-মহাব্যাবস্থাপক(টেলিটকের নিয়োগপ্রাপ্ত) গন উক্ত কর্মসূচিতে তাদের মৌন সম্মতি জ্ঞাপন করেন। দ্বিতীয় দিন শেষে সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীগন আশাবাদ ব্যাক্ত করেন যে সমগ্রিক দিক বিবেচনা করে কতৃপক্ষ তাদের দাবি দ্রুত মেনে নিয়ে কাজে ফিরে যেতে সহায়তা করবেন। তারা আরো আশাবাদ ব্যক্ত করেন বেতন বৃদ্ধি হলে আন্দোলনের কারনে সৃষ্ট ক্ষতি কাজের মাধ্যমে পুষিয়ে দিতে সক্ষম হবেন ।